ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ED) বা স্থায়ীভাবে বলতে গেলে নপুংসকতা, একটি সাধারণ যৌন স্বাস্থ্য সমস্যা যা পুরুষদের মধ্যে ব্যাপকভাবে দেখা যায়। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে পুরুষরা যৌন মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী উত্থান (erection) অর্জন করতে বা ধরে রাখতে অক্ষম হন। বিশ্বব্যাপী এই সমস্যার প্রাদুর্ভাব ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৩২২ মিলিয়ন পুরুষকে প্রভাবিত করবে বলে অনুমান করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র যৌন জীবনকে প্রভাবিত করে না, বরং মানসিক চাপ, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং সম্পর্কের সমস্যা সৃষ্টি করে। ইরেকটাইল ডিসফাংশন থেকে মুক্তির উপায় এবং এটির লক্ষণ কি কি? এই সবকিছু জানা গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি প্রায়শই হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার প্রথম লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। এই ব্লগে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব যাতে আপনি এই সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারেন।
ইরেকটাইল ডিসফাংশন কেন হয়?
ইরেকটাইল ডিসফাংশন কেন হয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমরা দেখতে পাই যে এটি একাধিক কারণের সমন্বয়ে ঘটে। প্রধানত শারীরিক এবং মানসিক কারণ দুটোই এর পেছনে দায়ী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, ৪০ বছরের উপরের পুরুষদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাব বয়সের সাথে বাড়তে থাকে, এবং এটি হৃদযন্ত্রের রোগের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৮ মিলিয়ন পুরুষ এই সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে বেশিরভাগের কারণ হলো হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা।
শারীরিক কারণসমূহ
শারীরিক কারণগুলো সবচেয়ে সাধারণ এবং এগুলো প্রায়শই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার সাথে যুক্ত। প্রথমত, হৃদরোগ এবং রক্তনালীর সমস্যা। অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (রক্তনালীতে চর্বি জমা) এর ফলে লিঙ্গে রক্তপ্রবাহ কমে যায়, যা উত্থান অর্জনকে কঠিন করে তোলে। উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরলও এর জন্য দায়ী, কারণ এগুলো রক্তনালীকে সংকুচিত করে। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের হার প্রায় ৬৬% পর্যন্ত, কারণ ডায়াবেটিস স্নায়ু এবং রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। স্থূলতা এবং মেটাবলিক সিন্ড্রোম (যাতে উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ ইনসুলিন এবং পেটের চারপাশে চর্বি জমা থাকে) এর ফলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা যৌন কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
পারকিনসন রোগ, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো স্নায়ুতান্ত্রিক রোগগুলোও ইরেকটাইল ডিসফাংশনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, কারণ এগুলো মস্তিষ্ক থেকে লিঙ্গে সিগন্যাল পাঠানোকে বাধাগ্রস্ত করে। টেস্টোস্টেরন হরমোনের কম মাত্রা (হাইপোগোনাডিজম) একটি বড় কারণ, যা বয়স বাড়ার সাথে সাধারণ হয়ে ওঠে। ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল এবং মাদকদ্রব্যের ব্যবহার রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে দমন করে, যা স্থায়ীভাবে ইরেকটাইল ডিসফাংশন সৃষ্টি করতে পারে। প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা, যেমন সার্জারি বা রেডিয়েশন, পেলভিক এলাকার আঘাত বা মেরুদণ্ডের সমস্যা এগুলোও উল্লেখযোগ্য কারণ। পেইরোনির রোগ (লিঙ্গে বাঁকা হয়ে যাওয়া বা ব্যথা) এর ফলে যৌন মিলন কষ্টকর হয়ে পড়ে।
এছাড়া, নির্দিষ্ট ওষুধগুলো যেমন অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, রক্তচাপের ওষুধ বা কেমোথেরাপি এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরেকটাইল ডিসফাংশন ঘটাতে পারে। ঘুমের সমস্যা, যেমন স্লিপ অ্যাপনিয়া, অক্সিজেনের অভাব সৃষ্টি করে যা রক্তপ্রবাহকে প্রভাবিত করে। ইরেকটাইল ডিসফাংশন কেন হয় তা বোঝার জন্য ঝুঁকির কারণগুলো জানা জরুরি: বয়স (৪০+), ডায়াবেটিস, স্থূলতা (BMI ২৫+), ধূমপান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং হৃদযন্ত্রের রোগ। এই কারণগুলো এড়ানো গেলে ইরেকটাইল ডিসফাংশন এর সমাধান অনেক সহজ হয়ে যায়।
মানসিক কারণসমূহ
মানসিক কারণগুলো প্রায়শই শারীরিক সমস্যার সাথে মিলেমিশে কাজ করে। বিষণ্ণতা, উদ্বেগ বা অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যৌন উত্তেজনাকে বাধাগ্রস্ত করে। চাপ (স্ট্রেস) কাজের চাপ, আর্থিক সমস্যা বা পরিবারের টেনশনের কারণে মস্তিষ্কের সিগন্যালকে দুর্বল করে, যা উত্থান অর্জনকে কঠিন করে। সম্পর্কের সমস্যা, যেমন সঙ্গীর সাথে অসমঝোয়া বা বিশ্বাসের অভাব, এর জন্য দায়ী। যুবকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব বা পারফরম্যান্স অ্যাঙ্গজাইটি (পারফরম্যান্স সম্পর্কিত উদ্বেগ) সাধারণ কারণ। ইরেকটাইল ডিসফাংশন কেন হয় তা বোঝার জন্য মানসিক স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করা যায় না, কারণ এটি একটি চক্র তৈরি করে যেখানে সমস্যা চাপ বাড়ায় এবং চাপ সমস্যাকে আরও খারাপ করে।
এই কারণগুলোর মধ্যে অনেকগুলো প্রতিরোধযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি কমায়। ধূমপান ছাড়া দেওয়া এবং অ্যালকোহল সীমিত করা রক্তনালীকে সুস্থ রাখে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখলে ইরেকটাইল ডিসফাংশন এর সমাধান অনেকাংশে সম্ভব।
ইরেকটাইল ডিসফাংশন এর লক্ষণ
ইরেকটাইল ডিসফাংশন এর লক্ষণ সাধারণত ধীরে ধীরে দেখা দেয় এবং সময়ের সাথে খারাপ হয়। এটি শুধুমাত্র একবারের ঘটনা নয়, বরং তিন মাসের বেশি সময় ধরে অব্যাহত থাকলে এটি নিশ্চিতভাবে ED হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রধান লক্ষণ হলো উত্থান অর্জনের অসুবিধা। উদাহরণস্বরূপ, যৌন উত্তেজনা সত্ত্বেও লিঙ্গ শক্ত হয় না বা যথেষ্ট শক্তিশালী হয় না। অন্য লক্ষণ হলো উত্থান ধরে রাখতে না পারা, যৌন মিলনের মাঝপথে উত্থান চলে যাওয়া। এছাড়া, যৌন ইচ্ছার হ্রাস, অর্থাৎ সেক্সের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া।
এই লক্ষণগুলোর সাথে যুক্ত অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন দ্রুত বীর্যপাত (প্রিম্যাচিউর ইজ্যাকুলেশন) বা বিলম্বিত বীর্যপাত। ইরেকটাইল ডিসফাংশন এর লক্ষণ শুধু যৌন নয়, বরং মানসিকও যেমন উত্থান নিয়ে চিন্তা করা, আত্মবিশ্বাস হারানো বা সম্পর্কে টেনশন। কখনো কখনো এটি অন্য স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ, যেমন ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ। যদি আপনি নিয়মিত এই লক্ষণ অনুভব করেন, তাহলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন, কারণ এটি হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাস হতে পারে।
লক্ষণগুলো বয়সভেদে ভিন্ন হতে পারে। যুবকদের মধ্যে এটি প্রায়শই মানসিক কারণে হয়, যেমন পারফরম্যান্স চাপ, যখন বয়স্কদের মধ্যে শারীরিক কারণ বেশি। ইরেকটাইল ডিসফাংশন এর লক্ষণ চিহ্নিত করে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করলে ইরেকটাইল ডিসফাংশন থেকে মুক্তির উপায় অনেক সহজ হয়।
ইরেকটাইল ডিসফাংশন থেকে মুক্তির উপায়
ইরেকটাইল ডিসফাংশন থেকে মুক্তির উপায় অনেক, এবং এগুলো কারণের উপর নির্ভর করে। প্রথমে ডায়াগনোসিস দরকার: ফিজিক্যাল এক্সাম, রক্তপরীক্ষা (টেস্টোস্টেরন, ডায়াবেটিস চেক), ইউরিন টেস্ট, আলট্রাসাউন্ড (রক্তপ্রবাহ দেখার জন্য) এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা। ইরেকটাইল ডিসফাংশন এর সমাধানের জন্য ওষুধ, থেরাপি, লাইফস্টাইল চেঞ্জ এবং সার্জারি অপশন রয়েছে।
ওষুধসমূহ
ওরাল মেডিসিন প্রথম লাইনের চিকিত্সা। সিলডেনাফিল (ভায়াগ্রা), ট্যাডালাফিল (সিয়ালিস), ভার্ডেনাফিল এবং অ্যাভানাফিল এগুলো পেশীর স্বাভাবিকতা করে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। এগুলো যৌন উত্তেজনার পর ১০-৬০ মিনিটের মধ্যে কাজ করে এবং ৩০-৬০ মিনিট স্থায়ী হয়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ফ্লাশিং, মাথাব্যথা, নাক বন্ধ। নাইট্রেট ওষুধের সাথে নেওয়া যায় না। ইনজেকশন থেরাপি (অ্যালপ্রোস্টাডিল) লিঙ্গে ইনজেক্ট করে ১০ মিনিটে উত্থান দেয়, যা ১ ঘণ্টা স্থায়ী। ইউরেথ্রাল মেডিসিন অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে ব্যবহার করা হয়। টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট (জেল, ইনজেকশন) কম হরমোনের ক্ষেত্রে কার্যকর।

থেরাপি এবং ডিভাইস
পেনিস পাম্প (ভ্যাকুয়াম ডিভাইস) টিউব দিয়ে ভ্যাকুয়াম তৈরি করে রক্ত টেনে আনে, রিং দিয়ে ধরে রাখা হয়। কাউন্সেলিং মানসিক কারণের জন্য সেক্স থেরাপিস্টের সাথে কথা বলে চাপ কমানো যায়। শকওয়েভ থেরাপি (LISWT) রক্তপ্রবাহ উন্নত করে। এছাড়া, ইরেকটাইল ডিসফাংশনের চিকিৎসায় বিভিন্ন অ্যাডভান্সড থেরাপির ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে, যা শারীরিক ব্যথা এবং কার্যক্ষমতার সমস্যা উভয়ই সমাধান করে। এই ক্ষেত্রে পেইন কিউর (Pain Cure) একটি আধুনিক ও বিশ্বস্ত পেইন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার, যেখানে নানা ধরনের শারীরিক ব্যথার জন্য উন্নত ও এডভান্স চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এখানে আমরা ওজোন থেরাপি, ওজোন সওনা, ইলেক্ট্রো আকুপাংচার, আর-টি-এম-এস থেরাপি, ম্যানুয়াল ফিজিওথেরাপি, টেকার থেরাপি, ক্রায়ো থেরাপি, শকওয়েভ থেরাপি ও পালস ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড থেরাপি (PEMF) এর মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকি। এছাড়া ও ঘরোয়া ব্যায়াম, ব্যথা প্রতিরোধে পরামর্শ এবং চিকিৎসকদের মতামতও তুলে ধরা হয়। পেইন কিউরের লক্ষ্য হল সবার কাছে ব্যথামুক্ত, সুস্থ ও সচেতন জীবনযাপনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে, শকওয়েভ থেরাপির মাধ্যমে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের মতো যৌন স্বাস্থ্য সমস্যায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়, যা রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে এবং টিস্যু পুনর্জনন করে কাজ করে। পেইন কিউরে এই থেরাপিগুলো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের তত্ত্বাবধানে প্রদান করা হয়, যাতে আপনি নিরাপদ এবং কার্যকর চিকিৎসা পান। যদি আপনি এই সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাহলে পেইন কিউরের সাথে যোগাযোগ করুন এবং আপনার যৌন স্বাস্থ্যকে নতুন করে গড়ে তুলুন।
লাইফস্টাইল চেঞ্জ
ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ED) থেকে মুক্তির উপায়গুলোর মধ্যে লাইফস্টাইল চেঞ্জগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রথম লাইনের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত হয়। এগুলো শুধুমাত্র যৌন স্বাস্থ্য উন্নত করে না, বরং সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকেও বাড়িয়ে তোলে। গবেষণা দেখিয়েছে যে, নিয়মিত লাইফস্টাইল পরিবর্তন করে ED এর ঝুঁকি ২০-৩০% পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
- কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম: হাঁটা, জগিং, সাইক্লিং বা সাঁতারের মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম সপ্তাহে ৩-৪ দিন, প্রতিবার ৪০-৪৫ মিনিট করে করলে মাইল্ড ED এর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। এটি রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে কাজ করে, যা ৬ মাসের মধ্যে ED এর লক্ষণগুলোকে উল্টাতে সাহায্য করে। শুরু করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে যদি হৃদরোগের সমস্যা থাকে।
- ধূমপান ত্যাগ: ধূমপান ED এর একটি প্রধান কারণ, কারণ এটি রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ধূমপান ছাড়ার পর ২-১২ সপ্তাহের মধ্যে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয় এবং ED এর লক্ষণগুলোতে উন্নতি দেখা যায়। কখনো কখনো ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি যৌন কার্যক্ষমতাকে ২৫% পর্যন্ত বাড়াতে পারে।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: স্থূলতা ED এর ঝুঁকি বাড়ায়, তাই ওজন কমানো (BMI ২৫-এর নিচে রাখা) অত্যন্ত উপকারী। স্বাস্থ্যকর খাদ্যে ফল (যেমন স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, আপেল), সবজি এবং গোটা শস্য (যেমন ওটস, বাদাম) অন্তর্ভুক্ত করুন। এগুলো ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ, যা ED এর ঝুঁকি ৯-১১% কমাতে পারে। মেডিটেরানিয়ান ডায়েট অনুসরণ করলে সেরা ফলাফল পাওয়া যায়।
- পর্যাপ্ত ঘুম এবং অ্যালকোহল সীমিতকরণ: প্রতিদিন ৭-৯ ঘণ্টা ভালো ঘুম ED প্রতিরোধে সাহায্য করে, কারণ ঘুমের অভাব টেস্টোস্টেরন হরমোন কমিয়ে দেয়। অতিরিক্ত অ্যালকোহল (দিনে ১-২ ড্রিঙ্কের বেশি) ED বাড়ায়, তাই এটি সীমিত করুন।
- কাপলস কাউন্সেলিং এবং সম্পর্ক উন্নয়ন: ED প্রায়শই মানসিক চাপ বা সম্পর্কের সমস্যা থেকে উদ্ভূত হয়। সঙ্গীর সাথে খোলামেলা কথা বলা বা কাপলস থেরাপির মাধ্যমে চাপ কমানো যায়, যা যৌন আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং সম্পর্ককে মজবুত করে।
সার্জারি
পেনাইল ইমপ্লান্ট (ইনফ্লেটেবল বা সেমি রিজিড) অন্যান্য চিকিৎসা ব্যর্থ হলে করা হয়। এতে সন্তুষ্টির হার ৯০% এর উপরে। ঝুঁকি: ইনফেকশন।
ইরেকটাইল ডিসফাংশন থেকে মুক্তির উপায় এবং ইরেকটাইল ডিসফাংশন এর সমাধান জানার পরও, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো চিকিৎসা শুরু করবেন না। প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার জন্য সকাল ৯:০০ থেকে রাত ৯:০০ পর্যন্ত উত্তরা বা বনানী শাখায় +৮৮০১৭৭৪৬৭৮৬০৪ নম্বরে যোগাযোগ করুন।
আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর
বিস্তারিত জানুন: সহবাসের পর কোমর ব্যথা এবং সহবাসের পর ব্যথা হলে করণীয় কি?
বিস্তারিত জানুন: কোন হরমোনের অভাবে বহুমূত্র রোগ হয়?
বিস্তারিত জানুন: পুরুষের ডায়াবেটিস হলে কি সন্তান হয়? শুক্রানু কাউন্ট কত?
বিস্তারিত জানুন: কিডনিতে পাথর হলে কি ব্যায়াম করতে হবে এবং এটি হলে কি করতে হবে
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ইরেকটাইল ডিসফাংশনের জন্য কি ভারোত্তোলন করা উচিত?
ইরেকটাইল ডিসফাংশনের (ED) চিকিৎসার জন্য ভারোত্তোলন (Weightlifting) করা যেতে পারে, তবে এটি একটি ব্যাপক চিকিৎসার অংশ হওয়া উচিত।
- সাধারণত উপকারী: নিয়মিত ব্যায়াম, যার মধ্যে ভারোত্তোলন অন্তর্ভুক্ত, শরীরের সামগ্রিক রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, যা ED-এর একটি সাধারণ কারণ। এটি টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে।
- সতর্কতা: অতিরিক্ত ভারোত্তোলন বা ভুলভাবে ব্যায়াম করলে পেটের ভেতরের পেশী (Core Muscles) এবং পেলভিক ফ্লোরে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে, যা কিছু ক্ষেত্রে উল্টো ফল দিতে পারে।
- বিশেষ ব্যায়াম: ভারোত্তোলনের চেয়েও ইরেকটাইল ফাংশনের জন্য বিশেষভাবে উপকারী হলো কেগেল এক্সারসাইজ (Kegel Exercise), যা সরাসরি পেলভিক ফ্লোরের পেশীগুলিকে শক্তিশালী করে।
তাই, ভারোত্তোলন একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারার অংশ হিসেবে উপকারী, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এবং অন্যান্য চিকিৎসার (যেমন ওষুধ, লাইফস্টাইল পরিবর্তন) পাশাপাশি এটি করা উচিত।
একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কি ইরেক্টাইল ডিসফাংশন চিকিত্সা করেন?
না, একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ (Dermatologist) সাধারণত ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ED) বা পুরুষত্বহীনতার চিকিৎসা করেন না।
এই সমস্যার জন্য আপনাকে ইউরোলজিস্ট (Urologist) বা পুরুষাঙ্গ বিশেষজ্ঞ (Men's Health Specialist) ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে। কারণ ইরেকটাইল ডিসফাংশন হলো মূত্রনালী বা প্রজননতন্ত্র সম্পর্কিত সমস্যা, যার প্রধান কারণ শারীরিক (যেমন রক্তনালীর সমস্যা) বা মানসিক হতে পারে।
প্রথম ধাপে আপনি একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের সাথেও পরামর্শ করতে পারেন, যিনি আপনাকে সঠিক বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করবেন।
ড্রাগ খেলে কি ইরেকটাইল ডিসফাংশন হতে পারে?
হ্যাঁ, কিছু ড্রাগ (ওষুধ বা মাদকদ্রব্য) সেবনের ফলে ইরেকটাইল ডিসফাংশন (পুরুষত্বহীনতা) হতে পারে। এই ড্রাগগুলোর মধ্যে রয়েছে কিছু উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট (বিষণ্ণতা কমানোর ওষুধ), এবং মাদকদ্রব্য। তবে এটি সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Dr. Saiful Islam, PT, is a Consultant Physiotherapist with expertise in Orthopedics. He holds a BPT from Dhaka University, an MPT, and a Postgraduate Certification in Acupuncture from India, with specialized training in Ozone Therapy. (Best physiotherapist in Dhaka)




