কোমরের বাম পাশে ব্যথা একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা যা বিভিন্ন বয়সের মানুষকে প্রভাবিত করে। অনেকেই প্রশ্ন করেন কোমরের বাম পাশে ব্যথা কেন হয় এবং এর সমাধান কী। এই ব্যথা হালকা অস্বস্তি থেকে শুরু করে তীব্র যন্ত্রণা পর্যন্ত হতে পারে। আজকের এই বিস্তারিত আলোচনায় আমরা জানব কোমরের বাম পাশে ব্যথার বিভিন্ন কারণ, লক্ষণ এবং প্রতিকারের উপায়।

কোমরের বাম পাশে ব্যথার প্রধান কারণসমূহ
কোমরের বাম পাশে ব্যথা কেন হয় তা বুঝতে হলে আমাদের প্রথমে এর বিভিন্ন কারণ সম্পর্কে জানতে হবে। এই ব্যথার পেছনে থাকতে পারে মাংসপেশির সমস্যা, কিডনির রোগ, হজমতন্ত্রের সমস্যা, মেরুদণ্ডের জটিলতা বা অন্যান্য অভ্যন্তরীণ অঙ্গের সমস্যা।
মাংসপেশি এবং লিগামেন্টের সমস্যা
কোমরের বাম পাশে ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো মাংসপেশি এবং লিগামেন্টের আঘাত বা টান। দীর্ঘ সময় একই অবস্থানে বসে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো, হঠাৎ ভারী জিনিস তোলা বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করলে মাংসপেশিতে টান লাগতে পারে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না বা দুর্বল মাংসপেশির অধিকারী তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
অফিসে দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলে, ভুল চেয়ারে বসলে বা সঠিক পিঠের সাপোর্ট না থাকলে কোমরের পেশিতে চাপ পড়ে। এছাড়া রাতে শক্ত বা নরম গদিতে ঘুমালে, অনুপযুক্ত বালিশ ব্যবহার করলেও কোমরের বাম পাশে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
কিডনির সমস্যা কোমরের বাম পাশে ব্যথা কেন হয় তার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বাম কিডনিতে পাথর, সংক্রমণ বা প্রদাহ হলে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। কিডনিতে পাথর হলে ব্যথা কোমর থেকে শুরু হয়ে তলপেট এবং উরু পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। এই ব্যথা সাধারণত তরঙ্গের মতো আসে এবং যায়, এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে।
কিডনি সংক্রমণের ক্ষেত্রে জ্বর, বমি বমি ভাব, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া এবং প্রস্রাবে দুর্গন্ধের মতো লক্ষণও দেখা দেয়। যদি কেউ লক্ষ্য করেন যে তাদের কোমরের বাম পাশে তীব্র ব্যথার সাথে এই ধরনের উপসর্গ রয়েছে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হজমতন্ত্রের সমস্যা
পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, ছোট বড় অন্ত্র এবং কোলনের সমস্যার কারণেও কোমরের বাম পাশে ব্যথা হতে পারে। বাম দিকের কোলনে যদি কোনো সমস্যা হয় যেমন ডাইভার্টিকুলাইটিস, কোলাইটিস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস), তাহলে কোমরের বাম পাশে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য বা গ্যাস জমলেও কোমরের বাম পাশে চাপ এবং ব্যথা তৈরি হতে পারে। অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ বা প্যানক্রিয়াটাইটিসের ক্ষেত্রে তীব্র পেট ব্যথার সাথে কোমরে ব্যথা ছড়িয়ে যায়। খাবার খাওয়ার পর যদি কোমরের বাম পাশে ব্যথা বৃদ্ধি পায়, তবে এটি হজমতন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
মেরুদণ্ডের সমস্যা
মেরুদণ্ডের বিভিন্ন জটিলতা কোমরের বাম পাশে ব্যথা কেন হয় তার আরেকটি প্রধান কারণ। স্পাইনাল স্টেনোসিস, হার্নিয়েটেড ডিস্ক, স্পন্ডাইলোসিস বা স্পাইনাল আর্থ্রাইটিসের কারণে কোমরে ব্যথা হতে পারে। যখন মেরুদণ্ডের ডিস্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা স্থানচ্যুত হয়, তখন এটি নার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি করে যা কোমরে তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করে।
স্লিপড ডিস্ক বা হার্নিয়েটেড ডিস্কের ক্ষেত্রে ব্যথা কোমর থেকে পা পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে, যাকে সায়াটিকা বলা হয়। এই ব্যথা সাধারণত একদিকে বেশি অনুভূত হয় এবং দাঁড়ালে, হাঁটলে বা কাশি দিলে বৃদ্ধি পায়। বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের হাড়ের ক্ষয়, অস্টিওপোরোসিস বা কম্প্রেশন ফ্র্যাকচারের কারণেও কোমরের বাম পাশে ব্যথা হতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ কারণ
নারীদের ক্ষেত্রে কোমরের বাম পাশে ব্যথা কেন হয় তার কিছু নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। মাসিকের সময় জরায়ু সংকোচনের কারণে কোমরে ব্যথা হতে পারে। এন্ডোমেট্রিওসিস, ওভারিয়ান সিস্ট, পেলভিক ইনফ্লেমেটরি ডিজিজ বা ফাইব্রয়েডের কারণেও কোমরের বাম পাশে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় শিশুর ওজন এবং জরায়ুর সম্প্রসারণের কারণে কোমরের উপর চাপ পড়ে যা ব্যথার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষ মাসগুলোতে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এছাড়া একটোপিক প্রেগন্যান্সির ক্ষেত্রে তীব্র কোমর এবং পেট ব্যথা হয় যা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন।
কোমরের বাম পাশে ব্যথার লক্ষণসমূহ
কোমরের বাম পাশে ব্যথার সাথে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে যা সমস্যার প্রকৃতি নির্ণয়ে সাহায্য করে। ব্যথা হঠাৎ শুরু হতে পারে বা ধীরে ধীরে বিকশিত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যথা তীব্র এবং ছুরিকাঘাতের মতো অনুভূত হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে নিস্তেজ এবং ক্রমাগত থাকে।
যদি ব্যথার সাথে জ্বর, ওজন হ্রাস, রাতে ঘাম, প্রস্রাবে রক্ত, পা অবশ হয়ে যাওয়া, মূত্রাশয় বা অন্ত্র নিয়ন্ত্রণ হারানো বা তীব্র পেট ব্যথা থাকে, তবে এটি গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ব্যথা সকালে ঘুম থেকে উঠলে বেশি থাকে এবং নড়াচড়া করলে কমে যায় এমন হলে এটি সাধারণত মাংসপেশি বা মেরুদণ্ডের সমস্যা নির্দেশ করে। আবার যদি ব্যথা নড়াচড়া করলে বৃদ্ধি পায় এবং বিশ্রামে কমে যায়, তবে এটি ভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।

কোমরের বাম পাশে ব্যথার রোগ নির্ণয় পদ্ধতি
কোমরের বাম পাশে ব্যথা কেন হয় তা নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক প্রথমে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস জানবেন এবং শারীরিক পরীক্ষা করবেন। ব্যথার ধরন, তীব্রতা, কখন শুরু হয়েছে, কোন কাজ করলে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায় এই সব তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা করা হতে পারে যেমন রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা আল্ট্রাসনোগ্রাফি। কিডনি, লিভার, অগ্ন্যাশয় বা অন্যান্য অভ্যন্তরীণ অঙ্গের সমস্যা শনাক্ত করার জন্য এসব পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেরুদণ্ডের সমস্যা নির্ণয়ের জন্য এমআরআই সবচেয়ে কার্যকর পরীক্ষা।
কোমরের বাম পাশে ব্যথার চিকিৎসা এবং প্রতিকার
কোমরের বাম পাশে ব্যথার চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার মূল কারণের উপর। মাংসপেশির টান বা আঘাতের জন্য বিশ্রাম, বরফ বা গরম সেঁক, ব্যথানাশক ওষুধ এবং ফিজিওথেরাপি কার্যকর। প্রথম দুই থেকে তিন দিন বরফ সেঁক দেওয়া এবং পরে গরম সেঁক দেওয়া ভালো ফলাফল দেয়।
কিডনির পাথর বা সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হয়। ছোট পাথর পানি খাওয়া এবং ওষুধের মাধ্যমে বের হয়ে যেতে পারে, কিন্তু বড় পাথরের ক্ষেত্রে লিথোট্রিপসি বা সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। মেরুদণ্ডের সমস্যার জন্য ফিজিওথেরাপি, ব্যথানাশক, মাংসপেশি শিথিলকারী ওষুধ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে।
হজমতন্ত্রের সমস্যার জন্য খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, প্রোবায়োটিক গ্রহণ এবং প্রয়োজনমতো ওষুধ সেবন করতে হয়। নারীদের প্রজনন অঙ্গের সমস্যার জন্য স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কোমরের বাম পাশে ব্যথার ঘরোয়া প্রতিকার এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন
কোমরের বাম পাশে ব্যথা কেন হয় তা জানার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া প্রতিকার এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন এই সমস্যা প্রতিরোধ এবং উপশমে সাহায্য করতে পারে। সঠিক ভঙ্গিতে বসা এবং দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি। কম্পিউটারে কাজ করার সময় নিয়মিত বিরতি নিয়ে শরীর সোজা করা এবং হাঁটাচলা করা উচিত।
প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম এবং স্ট্রেচিং কোমরের মাংসপেশি শক্তিশালী করে এবং নমনীয়তা বৃদ্ধি করে। যোগব্যায়াম বিশেষত কোমর ব্যথা উপশমে অত্যন্ত কার্যকর। কিন্তু যেকোনো নতুন ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা কোমর ব্যথা প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। অতিরিক্ত ওজন মেরুদণ্ড এবং কোমরের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। পর্যাপ্ত পানি পান করা কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং পাথর তৈরি প্রতিরোধ করে। দিনে কমপক্ষে দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা উচিত।
ঘুমানোর সময় সঠিক গদি এবং বালিশ ব্যবহার করা জরুরি। গদি খুব শক্ত বা খুব নরম না হয়ে মাঝামাঝি হওয়া উচিত যাতে মেরুদণ্ড সঠিক অবস্থানে থাকে। পাশে ঘুমালে দুই হাঁটুর মাঝে একটি বালিশ রাখা কোমরের চাপ কমায়।

কোমরের বাম পাশে ব্যথার জন্য কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি
কোমরের বাম পাশে ব্যথা যদি কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হয়, ক্রমশ তীব্র হতে থাকে বা দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যদি ব্যথার সাথে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো থাকে তবে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন:
উচ্চ জ্বর এবং ঠাণ্ডা লাগা, প্রস্রাবে রক্ত বা পুঁজ, তীব্র পেট ব্যথা বা বমি, পা দুর্বল হয়ে যাওয়া বা অবশ ভাব, মূত্রাশয় বা অন্ত্র নিয়ন্ত্রণ হারানো, হঠাৎ তীব্র ব্যথা যা সহ্য করা যায় না, বা দুর্ঘটনা বা পড়ে যাওয়ার পর ব্যথা শুরু হলে।
গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে কোমরের বাম পাশে তীব্র ব্যথা হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত কারণ এটি একটোপিক প্রেগন্যান্সি বা অন্য কোনো জটিলতার লক্ষণ হতে পারে।
কোমরের বাম পাশে ব্যথার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
কোমরের বাম পাশে ব্যথা কেন হয় তা জানার পরে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম, বিশেষত কোর মাংসপেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম কোমর ব্যথা প্রতিরোধে কার্যকর। সাঁতার, হাঁটা এবং সাইক্লিং কোমরের জন্য ভালো ব্যায়াম।
ভারী জিনিস তোলার সময় সঠিক কৌশল অনুসরণ করা উচিত। হাঁটু ভেঙে নিচু হয়ে, পিঠ সোজা রেখে জিনিস তোলা উচিত, কোমর বাঁকিয়ে নয়। দীর্ঘ সময় একই অবস্থানে বসে থাকা এড়িয়ে চলতে হবে এবং নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে।
ধূমপান ত্যাগ করা উচিত কারণ এটি মেরুদণ্ডের ডিস্কে রক্ত সরবরাহ কমায় এবং ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
মানসিক চাপ এবং কোমরের বাম পাশে ব্যথার সম্পর্ক
অনেকে জানেন না যে মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কোমরের বাম পাশে ব্যথা কেন হয় তার একটি কারণ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ মাংসপেশিতে টান সৃষ্টি করে, বিশেষত ঘাড়, কাঁধ এবং কোমরে। এছাড়া স্ট্রেস শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি করতে পারে যা ব্যথাকে তীব্র করে।
মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, গভীর শ্বাসের ব্যায়াম এবং নিয়মিত বিশ্রাম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি কারণ ঘুমের অভাব ব্যথা সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে। রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।
খাদ্যাভ্যাস এবং কোমরের বাম পাশে ব্যথা
সঠিক খাদ্যাভ্যাস কোমর ব্যথা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রদাহবিরোধী খাবার যেমন মাছ, বাদাম, জলপাই তেল, সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূল ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। হলুদ, আদা এবং রসুনে প্রাকৃতিক প্রদাহবিরোধী উপাদান রয়েছে।
প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এগুলো শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি করে। পর্যাপ্ত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার হজমতন্ত্র ভালো রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে যা কোমর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
কোমরের বাম পাশে ব্যথার ফিজিওথেরাপি এবং বিকল্প চিকিৎসা
ফিজিওথেরাপি কোমরের বাম পাশে ব্যথা কেন হয় তার চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর। একজন প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্ট নির্দিষ্ট ব্যায়াম এবং থেরাপি প্রদান করেন যা মাংসপেশি শক্তিশালী করে, নমনীয়তা বৃদ্ধি করে এবং ব্যথা কমায়। ম্যানুয়াল থেরাপি, আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি এবং টেনস (TENS) থেরাপি ব্যথা উপশমে সাহায্য করে।
কাইরোপ্র্যাক্টিক চিকিৎসা মেরুদণ্ডের সমস্যায় উপকারী হতে পারে। আকুপাংচার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্যথা কমাতে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে যেকোনো বিকল্প চিকিৎসা নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং নিশ্চিত করতে হবে যে চিকিৎসাদাতা যোগ্য এবং প্রশিক্ষিত।
ম্যাসাজ থেরাপি মাংসপেশির টান কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে যা ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। তবে তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে কারণ কিছু পরিস্থিতিতে ম্যাসাজ ক্ষতিকর হতে পারে।
কোমরের বাম পাশে ব্যথার দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা ব্যবস্থাপনা
যারা দীর্ঘমেয়াদী কোমরের বাম পাশে ব্যথায় ভুগছেন তাদের জন্য একটি সমন্বিত চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রয়োজন। এতে ওষুধ, ফিজিওথেরাপি, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং কখনো কখনো মনোবৈজ্ঞানিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই এই দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যথা ডায়েরি রাখা উপকারী হতে পারে যেখানে কখন, কোন পরিস্থিতিতে ব্যথা বৃদ্ধি বা হ্রাস পায় তা লিখে রাখা হয়। এটি চিকিৎসককে সমস্যা বুঝতে এবং উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদানে সাহায্য করে।
উপসংহার (কোমরের বাম পাশে ব্যথা কেন হয়?)
কোমরের বাম পাশে ব্যথা কেন হয় এই প্রশ্নের উত্তর বহুমুখী। মাংসপেশির সমস্যা থেকে শুরু করে কিডনি, হজমতন্ত্র, মেরুদণ্ড এবং প্রজনন অঙ্গের বিভিন্ন সমস্যা এই ব্যথার কারণ হতে পারে। সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যেমন নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক ভঙ্গি, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ কোমর ব্যথা প্রতিরোধে কার্যকর। যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা তীব্র হয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসা সেবা নেওয়া উচিত।
মনে রাখবেন, প্রতিটি মানুষের শরীর আলাদা এবং একই উপসর্গের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই নিজে নিজে চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া সবসময় নিরাপদ ও কার্যকর। সঠিক সময়ে চিকিৎসা এবং সচেতনতার মাধ্যমে কোমর ব্যথা থেকে মুক্তি পেয়ে সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব।
ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে +8801334913590 নম্বরে যোগাযোগ করুন (উত্তরা ও বনানী শাখা)।
আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর
বিস্তারিত জানুন: কোমরের দুই পাশে ব্যথার কারণ কি
বিস্তারিত জানুন: কোমর ব্যাথা সারানোর সহজ উপায় ব্যায়াম

Dr. Saiful Islam, PT, is a Consultant Physiotherapist with expertise in Orthopedics. He holds a BPT from Dhaka University, an MPT, and a Postgraduate Certification in Acupuncture from India, with specialized training in Ozone Therapy. (Best physiotherapist in Dhaka)


