মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ, মিনি স্ট্রোক কেন হয় ও এটি হলে করণীয়

মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ, মিনি স্ট্রোক কেন হয় ও এটি হলে করণীয়

স্ট্রোক একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা যা যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না যে স্ট্রোকের আগে একটি সতর্কবার্তা আসতে পারে, যাকে আমরা মিনি স্ট্রোক বলি। আজকের এই ব্লগে আমরা বিস্তারিতভাবে জানব মিনি স্ট্রোক কি, মিনি স্ট্রোক কেন হয়, মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ এবং মিনি স্ট্রোক হলে করণীয় কি।

মিনি স্ট্রোক কি

মিনি স্ট্রোক কি?

মিনি স্ট্রোক কি এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মিনি স্ট্রোককে ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (TIA) বলা হয়। এটি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহে সাময়িক বাধার কারণে হয়। সাধারণ স্ট্রোকের সাথে পার্থক্য হলো, মিনি স্ট্রোকের ক্ষেত্রে রক্ত চলাচলে বাধা অল্প সময়ের জন্য থাকে এবং সাধারণত ৫ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেরে যায়।

মিনি স্ট্রোক কি বিষয়টি বুঝতে হলে জানা জরুরি যে এটি মস্তিষ্কের কোষগুলোতে স্থায়ী ক্ষতি করে না। তবে এটি ভবিষ্যতে বড় স্ট্রোকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের মিনি স্ট্রোক হয়েছে তাদের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে বড় স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেশি।

মিনি স্ট্রোক কেন হয়

মিনি স্ট্রোক কেন হয়?

মিনি স্ট্রোক কেন হয় এই বিষয়টি জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যাতে আমরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারি। মূলত মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা বা চর্বি জমে গিয়ে সাময়িকভাবে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে এটি ঘটে।

মিনি স্ট্রোক কেন হয় তার কয়েকটি প্রধান কারণ হলো:

উচ্চ রক্তচাপ

অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ রক্তনালীর দেয়ালে ক্ষতি করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়। এটি মিনি স্ট্রোক কেন হয় এর সবচেয়ে বড় কারণ।

ডায়াবেটিস

দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রক্তনালীকে দুর্বল করে দেয় এবং মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

হৃদরোগ

হৃদপিণ্ডের অনিয়মিত ছন্দ (অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন) থেকে রক্ত জমাট তৈরি হয়ে মস্তিষ্কে যেতে পারে।

ধূমপান

ধূমপান রক্তনালীকে সংকুচিত করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

উচ্চ কোলেস্টেরল

রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ধমনীতে চর্বি জমিয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।

অতিরিক্ত ওজন ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা

এগুলো বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায় যা মিনি স্ট্রোকের অন্যতম কারণ।

মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ

মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ

মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ জানা অত্যন্ত জরুরি কারণ দ্রুত চিকিৎসা নিলে বড় স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব। মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ সাধারণত হঠাৎ করে দেখা দেয় এবং কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়।

মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ গুলো হলো:

মুখ বেঁকে যাওয়া: হঠাৎ করে মুখের একদিক বেঁকে যাওয়া বা অবশ হয়ে যাওয়া মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ এর একটি প্রধান চিহ্ন। হাসতে বললে মুখের একদিক নিচের দিকে ঝুলে যেতে পারে।

হাত বা পায়ে দুর্বলতা: শরীরের একদিকের হাত বা পা হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়া বা অবশ হয়ে যাওয়া।

কথা বলতে সমস্যা: কথা জড়িয়ে যাওয়া, অস্পষ্ট কথা বলা বা সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।

দৃষ্টি সমস্যা: এক চোখে বা উভয় চোখেই হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ঝাপসা দেখা বা দ্বিগুণ দেখা।

ভারসাম্য হারানো: হঠাৎ করে মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো বা হাঁটতে অসুবিধা হওয়া।

তীব্র মাথাব্যথা: কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

বোঝার ক্ষমতা কমে যাওয়া: অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া বা বিভ্রান্ত অনুভব করা।

মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে মনে রাখবেন যে এগুলো সাময়িক এবং দ্রুত চলে যেতে পারে। তবে লক্ষণগুলো চলে গেলেও অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মিনি স্ট্রোক হলে করণীয়

মিনি স্ট্রোক হলে করণীয়

মিনি স্ট্রোক হলে করণীয় কি তা জানা জীবন বাঁচাতে পারে। যদিও মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত চলে যায়, তবুও এটি একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি।

মিনি স্ট্রোক হলে করণীয় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ:

  • দ্রুত হাসপাতালে যান: মিনি স্ট্রোক হলে করণীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়া। লক্ষণগুলো চলে গেলেও দেরি করবেন না।
  • জরুরি সেবায় যোগাযোগ করুন: অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন বা দ্রুততম উপায়ে জরুরি বিভাগে যান।
  • রোগীকে শান্ত রাখুন: আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন এবং আরামদায়ক অবস্থায় বসিয়ে বা শুইয়ে রাখুন।
  • সময় লক্ষ্য করুন: মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে তা মনে রাখুন এবং ডাক্তারকে জানান।

মিনি স্ট্রোক হলে করণীয় দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ:

  • নিয়মিত চেকআপ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন।
  • ওষুধ সেবন: চিকিৎসক সাধারণত রক্ত পাতলা করার ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ বা কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ দিতে পারেন। নিয়মিত ওষুধ খাওয়া মিনি স্ট্রোক হলে করণীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
  • জীবনযাত্রায় পরিবর্তন: ধূমপান ত্যাগ করুন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • স্ট্রেস কমান: মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা অন্যান্য শিথিলকরণ পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
  • নিয়মিত ফলোআপ: মিনি স্ট্রোক হলে করণীয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে ফলোআপে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো।

মিনি স্ট্রোকের ঝুঁকি কাদের বেশি

মিনি স্ট্রোক কেন হয় এবং কাদের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি বেশি তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। কিছু মানুষ অন্যদের তুলনায় মিনি স্ট্রোকের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ থাকেন। যেমন:

বয়স্ক ব্যক্তিরা

৫৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মিনি স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং চর্বি জমার সম্ভাবনা বাড়ে।

পারিবারিক ইতিহাস

পরিবারে কারো স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস থাকলে আপনার ঝুঁকিও বেশি। জেনেটিক কারণও মিনি স্ট্রোকের একটি ফ্যাক্টর।

পুরুষদের ঝুঁকি

সাধারণত পুরুষদের ক্ষেত্রে মহিলাদের তুলনায় মিনি স্ট্রোকের ঝুঁকি কিছুটা বেশি দেখা যায়, বিশেষত মধ্যবয়সে।

অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন

অতিরিক্ত মদ্যপান, জাঙ্ক ফুড খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম না করা এবং অনিয়মিত ঘুম মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।

মিনি স্ট্রোক নির্ণয়ের পদ্ধতি

মিনি স্ট্রোক হলে করণীয় পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সঠিক নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে রোগী সত্যিই মিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা।

সিটি স্ক্যান বা এমআরআই

মস্তিষ্কের বিস্তারিত ছবি তুলে কোনো রক্ত জমাট বা রক্তক্ষরণ হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়।

ক্যারোটিড আল্ট্রাসাউন্ড

ঘাড়ের প্রধান ধমনীতে কোনো বাধা বা চর্বি জমা আছে কিনা দেখা হয়।

ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাম

হৃদপিণ্ডের ছন্দ এবং কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয় কারণ হৃদরোগ থেকে রক্ত জমাট মস্তিষ্কে যেতে পারে।

রক্ত পরীক্ষা

কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা পরীক্ষা করা হয়।

এসব পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসক মিনি স্ট্রোক হলে করণীয় সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করেন।

মিনি স্ট্রোক ও বড় স্ট্রোকের মধ্যে পার্থক্য

মিনি স্ট্রোক ও বড় স্ট্রোকের মধ্যে পার্থক্য

অনেকেই প্রশ্ন করেন মিনি স্ট্রোক কি এবং এটি বড় স্ট্রোকের থেকে কীভাবে আলাদা। মূল পার্থক্য হলো সময়কাল এবং স্থায়ী ক্ষতি।

সময়কাল: মিনি স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেরে যায়। কিন্তু বড় স্ট্রোকের লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং জরুরি চিকিৎসা ছাড়া বাড়তে থাকে।

স্থায়ী ক্ষতি: মিনি স্ট্রোক কি বুঝতে হলে জানতে হবে যে এটি মস্তিষ্কের কোষে স্থায়ী ক্ষতি করে না। তবে বড় স্ট্রোক মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট করে ফেলে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদী প্যারালাইসিস, কথা বলার সমস্যা বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসা: উভয় ক্ষেত্রেই দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। মিনি স্ট্রোক হলে করণীয় যে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া, তা বড় স্ট্রোকের ক্ষেত্রেও একই রকম জরুরি।

মিনি স্ট্রোক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা 

মিনি স্ট্রোক কেন হয় এবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় তা জানলে আপনি সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবেন। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো অনুসরণ করলে মিনি স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

স্বাস্থ্যকর খাবার

প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি (যেমন মাছের তেল, অলিভ অয়েল) খান। লবণ, চিনি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমিয়ে ফেলুন। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। পানি রক্ত পাতলা রাখতে এবং রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে সাহায্য করে।

নিয়মিত ব্যায়াম

সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি তীব্রতার ব্যায়াম করুন। দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইক্লিং বা যোগব্যায়াম উপকারী। নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ধূমপান ত্যাগ

ধূমপান স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণ করে দেয়। আপনি যদি ধূমপায়ী হন, তবে এখনই ছেড়ে দিন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সহায়তা নিন।

মদ্যপান সীমিত করুন

অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে দিনে দুই পেগ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে এক পেগের বেশি নয়, এমনকি তা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট

দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, শখের কাজ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে স্ট্রেস কমান।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগের জন্য পরীক্ষা করুন।

স্ট্রোক পরবর্তী জীবনযাপন

মিনি স্ট্রোক হলে করণীয় শুধু তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নয়, দীর্ঘমেয়াদী জীবনযাপনেও পরিবর্তন আনতে হবে। মিনি স্ট্রোকের পরে সঠিক জীবনযাত্রা অনুসরণ করলে বড় স্ট্রোকের ঝুঁকি ৮০% পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

নিয়মিত চেকআপ: প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার চিকিৎসকের কাছে যান এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান।

ওষুধ নিয়মিত সেবন: চিকিৎসক যে ওষুধ দিয়েছেন তা নিয়মিত এবং সময়মতো খান। নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করবেন না।

পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটান: সামাজিক সংযোগ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।

নতুন শখ গড়ুন: পড়াশোনা, বাগান করা, ছবি আঁকা বা সঙ্গীত শুনুন। মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যাপ্ত ঘুম: প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ভালো ঘুমের ব্যবস্থা করুন।

মিনি স্ট্রোকের জরুরি অবস্থা কীভাবে বুঝবেন?

মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে FAST নিয়মটি মনে রাখুন:

  • F (Face – মুখ): মুখ কি একদিকে বেঁকে গেছে? হাসতে বললে কি অস্বাভাবিক দেখাচ্ছে?
  • A (Arms – হাত): দুই হাত উপরে তুলতে বললে কি একটি হাত নিচে নেমে আসছে?
  • S (Speech – কথা): কথা কি জড়িয়ে যাচ্ছে বা অস্পষ্ট শোনাচ্ছে?
  • T (Time – সময়): উপরের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে যান।

এই FAST নিয়মটি মনে রাখলে মিনি স্ট্রোক হলে করণীয় কী তা তাৎক্ষণিক বুঝতে পারবেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

মিনি স্ট্রোক প্রতিরোধে সর্বোত্তম চিকিৎসা

মিনি স্ট্রোক প্রতিরোধে সর্বোত্তম চিকিৎসা

মিনি স্ট্রোক কি, মিনি স্ট্রোক কেন হয়, মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ এবং মিনি স্ট্রোক হলে করণীয় সম্পর্কে জানার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাবার এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি মিনি স্ট্রোক এবং বড় স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে পারবেন। মনে রাখবেন, মিনি স্ট্রোক শুধুমাত্র একটি সাময়িক সমস্যা নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের বিপদের একটি সতর্কবাণী। তাই মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং মিনি স্ট্রোক হলে করণীয় সব পদক্ষেপ অনুসরণ করুন। মিনি স্ট্রোকের পরবর্তী পুনর্বাসন এবং শারীরিক ব্যথা নিরাময়ের জন্য সঠিক চিকিৎসা কেন্দ্র নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেইন কিউর (Pain Cure) একটি আধুনিক ও বিশ্বস্ত পেইন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার, যেখানে নানা ধরনের শারীরিক ব্যথার জন্য উন্নত ও এডভান্স চিকিৎসা প্রদান করা হয়। মিনি স্ট্রোক হলে করণীয় চিকিৎসার পাশাপাশি অনেক রোগীর শারীরিক ব্যথা এবং দুর্বলতা থেকে যায়। পেইন কিউরে এসব সমস্যার জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়া যায়। এখানে আমরা ওজোন থেরাপি, ওজোন সওনা, ইলেক্ট্রো আকুপাংচার, আর-টি-এম-এস থেরাপি, ম্যানুয়াল ফিজিওথেরাপি, টেকার থেরাপি, ক্রায়ো থেরাপি, শকওয়েভ থেরাপিপালস ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড থেরাপি (PEMF) এর মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকি। পেইন কিউরে শুধু উন্নত চিকিৎসা নয়, ঘরোয়া ব্যায়াম, ব্যথা প্রতিরোধে পরামর্শ এবং চিকিৎসকদের মতামতও তুলে ধরা হয়। স্ট্রোক পরবর্তী শারীরিক দুর্বলতা, পেশীতে ব্যথা, জয়েন্টের সমস্যা বা যেকোনো ধরনের ক্রনিক ব্যথার জন্য পেইন কিউর আপনার সেরা সমাধান। পেইন কিউরের লক্ষ্য হল সবার কাছে ব্যথামুক্ত, সুস্থ ও সচেতন জীবনযাপনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। আপনার স্বাস্থ্য আপনার হাতে। সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পারে আপনাকে এবং আপনার প্রিয়জনদের মিনি স্ট্রোক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে। যদি আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ মিনি স্ট্রোকের পরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগছেন, তাহলে পেইন কিউরের মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন এবং উন্নত চিকিৎসা সেবা নিন।

 

উত্তরা অথবা বনানী শাখার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করতে, আপনি প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে রাত ৯:০০ টা পর্যন্ত +৮৮০১৭৭৪৬৭৮৬০৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর

 

বিস্তারিত জানুন: Advance Physiotherapy Center

বিস্তারিত জানুন: Expert Physiotherapy Center

বিস্তারিত জানুন: মাথা ব্যথা কমানোর উপায় ও হঠাৎ মাথা ব্যথা হলে করণীয়

 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

মিনি স্ট্রোকের পর অবিলম্বে হাসপাতালে যাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি বড় স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা প্রয়োজন। পরবর্তী স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত চেকআপ এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা অপরিহার্য।

মিনি স্ট্রোকের পর অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এগুলো রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল বাড়ায়। ভাজাপোড়া, মিষ্টি, কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এবং রেড মিট সীমিত করা প্রয়োজন। ট্রান্স ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার যেমন বেকারি আইটেম, মার্জারিন এবং অতিরিক্ত তেলে রান্না করা খাবার পরিহার করতে হবে। পরিবর্তে তাজা শাকসবজি, ফলমূল, আস্ত শস্য, মাছ এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি (যেমন জলপাই তেল) খাওয়া উচিত।

ব্রেইন ড্যামেজ বা মস্তিষ্কের ক্ষতি হলে আক্রান্ত অংশের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। শারীরিক সমস্যা যেমন পক্ষাঘাত, শরীরের কোনো অংশ নাড়াতে না পারা, ভারসাম্যহীনতা, খিঁচুনি বা সমন্বয়ের অভাব হতে পারে। মানসিক ও জ্ঞানগত সমস্যার মধ্যে রয়েছে স্মৃতিশক্তি হারানো, মনোযোগের অভাব, কথা বলতে বা বুঝতে সমস্যা, চিন্তা করতে অসুবিধা এবং সিদ্ধান্ত নিতে না পারা। আবেগজনিত পরিবর্তন যেমন বিষণ্নতা, রাগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন এবং দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি হারানোও হতে পারে।

রক্তচাপ ১৮০/১২০ mmHg বা তার বেশি হলে হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিস বা জরুরি অবস্থা তৈরি হয় যা স্ট্রোকের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি বাড়ায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও ধীরে ধীরে রক্তনালীর ক্ষতি হয় এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ mmHg এর কাছাকাছি রাখা উচিত এবং নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা স্ট্রোক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়, তাই ওষুধ সেবন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অপরিহার্য।

আফ্রিকান-আমেরিকান বা কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীতে স্ট্রোকের হার সবচেয়ে বেশি, যা অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং তারা অল্প বয়সে স্ট্রোকের শিকার হন। এছাড়া হিস্পানিক ও ল্যাটিনো সম্প্রদায়েও স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। এশিয়ান জনগোষ্ঠীতে বিশেষত দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ায় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের কারণে স্ট্রোকের হার উল্লেখযোগ্য। এই পার্থক্যের কারণ হলো জেনেটিক প্রবণতা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের বেশি হার, স্বাস্থ্যসেবার অসমতা এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক কারণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *