গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা, যা অনেক গর্ভবতী মহিলাই অনুভব করে থাকেন। তবে এটি হালকা অস্বস্তি থেকে শুরু করে তীব্র ব্যথা পর্যন্ত হতে পারে এবং এর কারণও বিভিন্ন হতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, ঘুমের অভাব, ডিহাইড্রেশন, মানসিক চাপ, সাইনাসের সমস্যা অথবা উচ্চ রক্তচাপের মতো গুরুতর কারণও এর পেছনে থাকতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যথাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয় এবং এর সঠিক কারণ নির্ধারণ ও উপশমের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রথমত, গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যথা হলে করণীয় হিসেবে মাথা ব্যথা হলে আতঙ্কিত না হয়ে বিশ্রাম নেওয়া এবং নিজেকে শান্ত রাখা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম এবং আরামদায়ক পরিবেশ অনেক সময় মাথা ব্যথার তীব্রতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। সেই সাথে, প্রচুর পরিমাণে জল পান করা উচিত, কারণ ডিহাইড্রেশনও মাথা ব্যথার একটি অন্যতম কারণ। হালকা এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা এবং দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে যাওয়া উচিত, কারণ এগুলো মাথা ব্যথা বাড়াতে পারে।
দ্বিতীয়ত, কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি মাথা ব্যথার উপশমে সাহায্য করতে পারে। কপালে ঠান্ডা বা গরম সেঁক দেওয়া, হালকা হাতে মাথার তালু এবং ঘাড়ে মালিশ করা আরাম দিতে পারে। অন্ধকার এবং শান্ত ঘরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়াও উপকারী। যদি মাথা ব্যথা খুব বেশি তীব্র হয় বা এর সাথে অন্য কোনো উপসর্গ যেমন – ঝাপসা দেখা, পেটে ব্যথা, বমি বা জ্বর থাকে, তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ গর্ভাবস্থায় কিছু মাথা ব্যথা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যার জন্য দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যথা হলে করণীয়
গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যথা হওয়া বেশ স্বাভাবিক ঘটনা, তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এই সময় হরমোনের পরিবর্তন, ঘুমের অভাব, ডিহাইড্রেশন বা স্ট্রেসের কারণে মাথা ব্যথা হতে পারে। আরাম পেতে শান্ত ও অন্ধকার ঘরে বিশ্রাম নিন। হালকা গরম বা ঠান্ডা সেঁক নিতে পারেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। বেশি সমস্যা হলে বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। নিজে থেকে কোনো ওষুধ খাবেন না।
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন, যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়
গর্ভাবস্থায় শরীরে পানির চাহিদা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। গর্ভের শিশুর সঠিক বিকাশের জন্য এবং মায়ের শরীরের কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা অপরিহার্য। অনেক সময় গর্ভবতী মহিলারা যথেষ্ট পানি পান না করার কারণে পানিশূন্যতায় ভোগেন, যা মাথাব্যথার একটি অন্যতম প্রধান কারণ। শরীরে যখন জলের অভাব হয়, তখন রক্তচাপ কমে যেতে পারে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যার ফলে তীব্র মাথাব্যথা অনুভূত হতে পারে।
তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিতভাবে অল্প অল্প করে বারে বারে পানি পান করা উচিত। শুধুমাত্র পানিই নয়, এর পাশাপাশি অন্যান্য তরল খাবার যেমন – ফলের রস, ডাবের পানি, পাতলা স্যুপ অথবা ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করা যেতে পারে। এগুলো শরীরকে সতেজ রাখতে এবং পানিশূন্যতা পূরণে সহায়ক। তবে চিনিযুক্ত পানীয় বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পরিহার করা উচিত, কারণ এগুলো শরীর থেকে পানি বের করে দিতে পারে এবং মাথাব্যথা আরও বাড়াতে পারে।
নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
গর্ভাবস্থায় মহিলাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনের কারণে অনেক গর্ভবতী মহিলা ঘুমের সমস্যায় ভুগতে পারেন। অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে ব্যাহত করে এবং এর ফলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও বিরক্তি অনুভব হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে পুনরায় সক্রিয় করে তোলে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করা উচিত। শোবার ঘর শান্ত ও আরামদায়ক হওয়া প্রয়োজন। রাতে ঘুমাতে অসুবিধা হলে দিনের বেলায় অল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমানোর কারণে রাতের ঘুম ব্যাহত না হয়। আরামদায়ক ঘুমের জন্য হালকা গরম দুধ পান করা বা বই পড়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।

চাপমুক্ত ও চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করুন
গর্ভাবস্থা একটি বিশেষ সময়, যখন একজন মহিলা শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই অনেক পরিবর্তনের সম্মুখীন হন। এই সময়ে দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত কাজের চাপ মাথাব্যথার একটি সাধারণ কারণ হতে পারে। মানসিক চাপ শরীরের পেশীগুলোকে সংকুচিত করে, যার ফলে ঘাড় ও মাথার চারপাশে tension তৈরি হয় এবং মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।
তাই গর্ভাবস্থায় নিজের মনকে শান্ত রাখা এবং চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পছন্দের কাজ করা, যেমন – গান শোনা, বই পড়া বা বাগান পরিচর্যা করার মাধ্যমে মনকে আনন্দিত রাখা যেতে পারে। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সাথে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া এবং তাদের সহযোগিতা চাওয়া উচিত। প্রয়োজনে যোগা বা মেডিটেশনের মতো শিথিলকরণ কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে, যা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।
হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাচলা করুন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে
গর্ভাবস্থায় হালকা ব্যায়াম বা নিয়মিত হাঁটাচলা করা মায়ের শরীর ও গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। শারীরিক কার্যকলাপ রক্ত চলাচলকে উন্নত করে, যা মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করে এবং মাথাব্যথা কমাতে পারে। এছাড়াও, হালকা ব্যায়াম মনকে প্রফুল্ল রাখে এবং ঘুমের উন্নতি ঘটায়।
তবে গর্ভাবস্থায় যেকোনো ধরনের ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ডাক্তার আপনার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে উপযুক্ত ব্যায়ামের ধরণ ও সময় নির্ধারণ করে দেবেন। নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল রাখা এবং কোনো প্রকার অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করে দেওয়া উচিত। অতিরিক্ত বা কঠিন ব্যায়াম করা গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
মাথায় ঠান্ডা বা গরম সেঁক দিতে পারেন, যেটা আরামদায়ক লাগে
মাথাব্যথা হলে তাৎক্ষণিক আরাম পেতে ঠান্ডা বা গরম সেঁক একটি সহজ ও কার্যকর উপায় হতে পারে। ঠান্ডা সেঁক রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে প্রদাহ কমাতে এবং ব্যথানুভূতি কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। বরফের টুকরো একটি কাপড়ে মুড়ে অথবা ঠান্ডা জলের তোয়ালে কপালে বা মাথার পাশে কিছুক্ষণ ধরে রাখলে আরাম পাওয়া যায়।
গরম সেঁক প্রয়োগের মাধ্যমে মাংসপেশির আরাম এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি সম্ভব। টেনশন হেডেক বা মাথার পেছনের দিকে ব্যথার উপশমের জন্য গরম জলের ব্যাগ অথবা তোয়ালে ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এটি ঘাড় ও মাথার পেছনের পেশিগুলোকে শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে আরাম পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে, সরাসরি অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম সেঁক ব্যবহার করা উচিত নয়। যেটা আপনার কাছে আরামদায়ক মনে হয় এবং যেটাতে ব্যথা কিছুটা কমে বলে মনে হয়, সেটাই ব্যবহার করুন।

অন্ধকার ও শান্ত ঘরে বিশ্রাম নিন
উজ্জ্বল আলো এবং অতিরিক্ত শব্দ মাথাব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই যখন মাথাব্যথা অনুভব হয়, তখন একটি অন্ধকার ও শান্ত ঘরে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। আলো কম থাকলে মস্তিষ্কের উপর চাপ কমে এবং ব্যথার তীব্রতা হ্রাস পেতে পারে।
ঘরে ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোশাকে চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ চুপচাপ শুয়ে থাকুন। গভীর শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন এবং মনকে শান্ত রাখার জন্য কোনো হালকা সঙ্গীত শুনতে পারেন অথবা পছন্দের কোনো বিষয়ে ভাবতে পারেন। এই বিশ্রাম শরীর ও মন উভয়কেই শান্ত করে এবং মাথাব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
মাথা, ঘাড় বা কাঁধে হালকা ম্যাসাজ করতে পারেন
মাথাব্যথা কমাতে হালকা ম্যাসাজ একটি চমৎকার পদ্ধতি। মাথার তালু, ঘাড় এবং কাঁধের পেশীগুলোতে হালকা হাতে ম্যাসাজ করলে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং পেশী শিথিল হয়। এর ফলে tension headache এবং অন্যান্য ধরনের মাথাব্যথা থেকে আরাম পাওয়া যেতে পারে।
আপনি নিজেই আপনার কপালে, মাথার পাশে এবং ঘাড়ের পেছনের অংশে আঙুল দিয়ে হালকাভাবে кругообраз движения-এ ম্যাসাজ করতে পারেন। অথবা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের সাহায্য নিতে পারেন। ম্যাসাজের সময় খুব বেশি চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়। হালকা এবং আরামদায়কভাবে ম্যাসাজ করুন। চাইলে হালকা গরম তেল ব্যবহার করতে পারেন, যা আরও বেশি আরাম দেবে।
স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খান এবং ক্ষুধা লাগলে খাবার খান
গর্ভাবস্থায় সঠিক সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা মায়ের ও গর্ভের শিশুর উভয়ের জন্যই অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সময় ধরে পেট খালি থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে, যা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিতভাবে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত।
আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই সবুজ শাকসবজি, ফল, ডাল, ডিম, মাছ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করুন। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন। যখনই ক্ষুধা অনুভব করবেন, তখনই অল্প পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাবার খান। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা উচিত নয়। নিয়মিত খাবার গ্রহণ শরীরকে স্থিতিশীল রাখে এবং মাথাব্যথা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ক্যাফেইন হঠাৎ কমিয়ে দিলে মাথা ব্যথা বাড়তে পারে, তাই ধীরে ধীরে কমান
অনেকেরই সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা বা কফি পান করার অভ্যাস থাকে। ক্যাফেইন মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে সাময়িকভাবে মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করা মায়ের ও শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই গর্ভবতী মহিলাদের ক্যাফেইন গ্রহণ সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
যদি আপনি নিয়মিত চা বা কফি পান করে থাকেন এবং হঠাৎ করে তা বন্ধ করে দেন, তবে withdrawal symptoms হিসেবে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। এই কারণে ক্যাফেইনের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমানো উচিত। প্রথমে আপনার দৈনিক গ্রহণের পরিমাণ অর্ধেক করুন এবং কয়েক দিন পর আরও কমিয়ে দিন। প্রয়োজনে দিনে একবার হালকা চা বা কফি খেতে পারেন, তবে এর পরিমাণ যেন বেশি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। ক্যাফেইনের বিকল্প হিসেবে ভেষজ চা বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণ করতে পারেন।
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না
গর্ভাবস্থায় যেকোনো ধরনের ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। মাথাব্যথা হলে অনেকেই নিজে থেকে ব্যথানাশক ওষুধ কিনে খান, যা গর্ভের শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এমনকি সাধারণ মনে হওয়া কিছু ওষুধও গর্ভাবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
যদি আপনার মাথাব্যথা খুব বেশি তীব্র হয় বা ঘন ঘন হতে থাকে, তবে অবশ্যই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডাক্তার আপনার শারীরিক অবস্থা এবং গর্ভধারণের পর্যায় বিবেচনা করে নিরাপদ এবং উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণ করবেন। ডাক্তারের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন এবং কোনো অবস্থাতেই নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ খাবেন না। মনে রাখবেন, আপনার সামান্য অসাবধানতা আপনার অনাগত সন্তানের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ফিজিওথেরাপির ভূমিকা
গর্ভাবস্থা একটি শারীরিক পরিবর্তনের সময়, যখন মহিলারা কোমর, পিঠ এবং জয়েন্টগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এই সময়ে ফিজিওথেরাপি একটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। ফিজিওথেরাপি কেবল ব্যথাই কমায় না, পাশাপাশি শরীরের পেশীগুলোকে শক্তিশালী করে, সঠিক অঙ্গবিন্যাস বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরকে প্রসবের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ কিছু এক্সারসাইজ করার মাধ্যমে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং মানসিক চাপ কমে। ফিজিওথেরাপি পেলভিক ফ্লোরের পেশী এবং শরীরের মূল পেশীগুলোকে শক্তিশালী করতে বিশেষভাবে সহায়ক, যা স্বাভাবিক প্রসব এবং প্রসব পরবর্তী সময়ে দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণত, গর্ভধারণের ১৪ থেকে ২০ সপ্তাহের মধ্যে ফিজিওথেরাপি শুরু করা উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে, যেকোনো ধরনের ফিজিওথেরাপি বা ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তিনি আপনার শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং নিরাপদ চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করে দেবেন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যথা একটি সাধারণ ঘটনা হলেও, কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যদি আপনার মাথা ব্যথার সাথে জ্বর, বমি, ঝাপসা দৃষ্টি, অস্বাভাবিক বিভ্রান্তি, হাত-পা অবশ বা দুর্বল লাগা, খিঁচুনি অথবা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে একেবারেই দেরি করা উচিত নয়। এছাড়াও, যদি নাক বা চোখ দিয়ে রক্তপাত হয়, তবে তা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
যদি আপনার মাথা ব্যথা খুব বেশি তীব্র হয় এবং কয়েক ঘণ্টা পরেও না কমে, তবে மருத்துவ সহায়তা নেওয়া উচিত। সাধারণ মাথাব্যথা বিশ্রাম বা ঘরোয়া উপায়ে কিছুটা উপশম হয়। কিন্তু যদি ব্যথা অসহ্য হয় এবং কোনো কিছুতেই আরাম না পান, তবে এর কারণ নির্ণয় করা এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।
গর্ভাবস্থার দ্বিতীয়ার্ধে অর্থাৎ ২০ সপ্তাহের পর যদি হঠাৎ করে নতুন ধরনের বা অস্বাভাবিক তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হয়, তবে এটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এটি প্রি-এক্লাম্পসিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে, যা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রি-এক্লাম্পসিয়ার অন্যান্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, শরীরে অতিরিক্ত পানি আসা বা ফুলে যাওয়া এবং প্রস্রাবে প্রোটিনের উপস্থিতি।
যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপ থাকে, চোখে ঝাপসা দেখেন অথবা অজ্ঞান হয়ে যান, তবে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া উচিত। এই লক্ষণগুলো গুরুতর জটিলতার ইঙ্গিত দিতে পারে এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন। মনে রাখবেন, গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। আপনার যেকোনো সমস্যায় সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য সর্বদা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
যেকোনো পরামর্শ পেতে – উত্তরা- +8801727177436 এবং বনানী- +8801774678604 (সকাল ৯.০০ থেকে রাত ৯.০০ টা) এই নম্বরে কল করুন এবং এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নিন।
আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর

Dr. Saiful Islam, PT, is a Consultant Physiotherapist with expertise in Orthopedics. He holds a BPT from Dhaka University, an MPT, and a Postgraduate Certification in Acupuncture from India, with specialized training in Ozone Therapy. (Best physiotherapist in Dhaka)

