সাইনাস আমাদের মাথার খুলির ভেতরের কিছু ফাঁপা জায়গা, যা মুখ ও নাকের সাথে ছোট ছোট পথে যুক্ত থাকে। এই সাইনাসগুলোর প্রধান কাজ হলো আমাদের শ্বাস নেওয়া বাতাসকে আর্দ্র রাখা এবং জীবাণু ও ধুলোবালি থেকে রক্ষা করা। এছাড়াও, সাইনাস আমাদের মাথার খুলিকে হালকা রাখতে এবং কণ্ঠস্বরকে স্বাভাবিক রাখতেও সাহায্য করে। যখন এই সাইনাসগুলোর ভেতরের পথ কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায় অথবা এদের মধ্যে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, তখন সাইনাসের সমস্যা দেখা দেয়, যার একটি সাধারণ লক্ষণ হলো সাইনাসের মাথা ব্যথা। এই পোস্টে সাইনাসের ব্যথা কমানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবো।
সাধারণত, সাইনাসের ভেতরের আবরণে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া অথবা ছত্রাকের সংক্রমণের কারণে প্রদাহ সৃষ্টি হলে সাইনাসের ব্যথা হয়। এছাড়াও, অ্যালার্জি, নাকের পলিপ, আঘাত অথবা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার কারণেও সাইনাসের পথে বাধা সৃষ্টি হতে পারে, যা সাইনাসের ব্যথার কারণ হতে পারে। যখন সাইনাসের মুখ বন্ধ হয়ে যায়, তখন ভেতরে শ্লেষ্মা জমতে শুরু করে এবং চাপ সৃষ্টি হয়। এই চাপের কারণে কপাল, চোখ, গাল এবং নাকের আশেপাশে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে, যাকে আমরা সাইনাসের মাথা ব্যথা হিসেবে জানি।
সাইনাসের ব্যথা অন্যান্য সাধারণ মাথা ব্যথার চেয়ে কিছুটা আলাদা হতে পারে। এটি সাধারণত মুখের সামনের দিকে বেশি অনুভূত হয় এবং মাথা নাড়ালে বা সামনের দিকে ঝুঁকলে ব্যথা আরও বাড়তে পারে। অনেক সময় এর সাথে নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে হলুদ বা সবুজ রঙের ঘন শ্লেষ্মা বের হওয়া, মুখের স্বাদ নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং জ্বরও থাকতে পারে। সঠিক কারণ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে সাইনাসের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যথা হলে কি করবেন তা এই পোস্ট থেকে জেনে নিন।

সাইনাসের মাথা ব্যথার লক্ষণ
সাইনাসের মাথা ব্যথার প্রধান লক্ষণ হলো মুখের সামনের দিকে, বিশেষ করে কপাল, চোখের চারপাশে এবং গালে তীব্র ব্যথা অনুভব করা। এই ব্যথা সাধারণত ধীরে ধীরে বাড়ে এবং একটানা অনুভূতি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে, ব্যথার তীব্রতা দিনের বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এটি বেশি অনুভূত হতে পারে। মাথা ঝাঁকালে বা সামনের দিকে ঝুঁকলে এই ব্যথা আরও তীব্র হতে দেখা যায়।
সাইনাসের ভেতরের প্রকোষ্ঠগুলোতে যখন প্রদাহ হয় এবং শ্লেষ্মা জমে চাপ সৃষ্টি করে, তখন এই ব্যথা অনুভূত হয়। প্রতিটি সাইনাস একে অপরের সাথে যুক্ত থাকায়, একটি সাইনাসের সংক্রমণ অন্য সাইনাসগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে ব্যথার স্থান পরিবর্তন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, চোয়ালের উপরের অংশে এবং দাঁতেও ব্যথা অনুভূত হতে পারে, যা অনেক সময় দাঁতের ব্যথার সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়।
কোথায় ব্যথা অনুভূত হয়?
সাইনাসের সমস্যার কারণে ব্যথা মূলত মুখের সামনের দিকে বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হতে পারে। কপালে ঠিক চোখের উপরে, দুই চোখের মাঝখানে নাকের গোড়ায়, গালের হাড়ের নিচে এবং উপরের পাটির দাঁতের কাছাকাছি ব্যথা অনুভব হওয়া সাইনাসাইটিসের একটি সাধারণ লক্ষণ। এছাড়াও, কিছু ক্ষেত্রে মাথার পেছনের দিকেও হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে, তবে এটি তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়।
কোন সাইনাসটি সংক্রমিত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে ব্যথার স্থান ভিন্ন হতে পারে। যেমন, ম্যাক্সিলারি সাইনাসের সংক্রমণে গালে এবং উপরের দাঁতে ব্যথা হয়, ফ্রন্টাল সাইনাসের সংক্রমণে কপালে ব্যথা হয়, ইথময়েড সাইনাসের সংক্রমণে দুই চোখের মাঝে ও চারপাশে ব্যথা হয় এবং স্ফেনয়েড সাইনাসের সংক্রমণে মাথার পেছনের দিকে ও চোখের গভীরে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই কারণে, ব্যথার সঠিক স্থান নির্ধারণ করা সাইনাসের সংক্রমণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যান্য উপসর্গ (নাক বন্ধ, চাপ অনুভব, সর্দি ইত্যাদি)
সাইনাসের মাথা ব্যথার পাশাপাশি আরও কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে যা এই সমস্যাটিকে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা শ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া। সাইনাসের ভেতরের ঝিল্লি ফুলে যাওয়ার কারণে নাকের রাস্তা সরু হয়ে যায়, ফলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। এর সাথে ঘন হলুদ বা সবুজ রঙের সর্দি বের হতে পারে, যা সাইনাসের সংক্রমণের একটি স্পষ্ট লক্ষণ।
নাক বন্ধ থাকা এবং সর্দি ছাড়াও, সাইনাসের সংক্রমণে মুখের ভেতরে একটা চাপা অস্বস্তি বা চাপ অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে চোখের চারপাশে, গালে এবং কপালে এই চাপ বেশি অনুভব হয়। অনেক সময় ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া বা কোনো গন্ধ ঠিকমতো অনুভব করতে না পারাও এর একটি উপসর্গ হতে পারে। এছাড়া, ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং হালকা জ্বরও দেখা দিতে পারে। এই উপসর্গগুলো সাইনাসের ব্যথার সাথে থাকলে সাইনাসাইটিসের সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়।
মাথা ব্যথা কমানোর উপায় ও করণীয় এই পোস্ট থেকে জানুন।

সাইনাসের মাথা ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
সাইনাসের মাথা ব্যথা কমাতে কিছু সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি বেশ কার্যকর হতে পারে এবং প্রাথমিকভাবে আরাম দিতে পারে। তবে, যদি ব্যথা তীব্র হয় বা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো মূলত সাইনাসের ভেতরের চাপ কমানো এবং শ্লেষ্মা তরল করে বের করে আনতে সাহায্য করে।
- গরম পানির ভাপ নিন: গরম পানির ভাপ বন্ধ সাইনাসের পথ খোলে ও জমা শ্লেষ্মা নরম করে। গরম পানিতে ঝুঁকে তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে ভাপ নিন। দিনে কয়েকবার করলে আরাম পাবেন।
- গরম পানির সেঁক দিন: গরম পানির সেঁক সাইনাসের ব্যথায় আরাম দেয়। গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে কপাল, নাক ও চোখের আশেপাশে সেঁক দিন। দিনে কয়েকবার ৫-১০ মিনিট সেঁক দিন।
- প্রচুর পানি ও তরল পান করুন: পর্যাপ্ত পানি শ্লেষ্মা পাতলা করে বের হতে সাহায্য করে। গরম স্যুপ, চা, ফলের রস খেতে পারেন। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন।
- নাক পরিষ্কার রাখুন: স্যালাইন ওয়াটার বা লবণাক্ত জল দিয়ে নাক পরিষ্কার রাখুন। ন্যাজাল স্প্রে ব্যবহার করুন বা ঘরে তৈরি করে নিন। দিনে কয়েকবার ব্যবহার করুন।
- ঝাল ও গরম খাবার খান: ঝাল খাবার নাকের পথ খুলে শ্লেষ্মা বের করতে সাহায্য করে। গরম স্যুপ বা মশলাযুক্ত খাবার আরাম দেবে। অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে সাবধানে খান।
- ঠিকমতো বিশ্রাম নিন: পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীরকে দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে। দুর্বল শরীর রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না। তাই যথেষ্ট ঘুম ও বিশ্রাম জরুরি।
হঠাৎ মাথা ব্যথা হওয়ার কারণ কি জানেন? জেনে নিন।

ব্যথা কমাতে বিশেষ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
- ধুলাবালি ও ঠান্ডা এড়িয়ে চলুন: ধুলো আর ঠান্ডা সাইনাসের শত্রু। ধুলোয় অ্যালার্জি থাকলে বা ঠান্ডা লাগলে নাকের ভেতরের চামড়া ফুলে যায়, সাইনাসের মুখ বন্ধ হয়, আর মাথা ব্যথা করে। তাই ঘরদোর পরিষ্কার রাখুন আর ঠান্ডা আবহাওয়ায় গরম কাপড় পরুন, মুখ ঢাকুন।
- নিয়মিত নাক পরিষ্কার রাখুন: নাক পরিষ্কার রাখা সাইনাসের ব্যথা কমানোর ভালো উপায়। স্যালাইন ওয়াটার (লবণাক্ত জল) ব্যবহার করে নাক ধুয়ে ফেলুন। এটা নাকের ময়লা, জীবাণু ও অ্যালার্জেন বের করে দেয়, সাইনাসের মুখ পরিষ্কার রাখে এবং ব্যথা কমে।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন: শরীর একটা মেশিনের মতো, বিশ্রামের দরকার। ঘুমালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, যা জীবাণু ও প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়ে। সাইনাসে সংক্রমণ থাকলে পর্যাপ্ত ঘুম ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি।
সিজারের পর মাথা ব্যথা কেন হয় এই পোস্টে থেকে জেনে নিন।

সাইনাসের ব্যথা কমানোর উপায় হিসেবে বিশেষ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা
ফিজিওথেরাপি মূলত শরীরের নড়াচড়া এবং শারীরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসা করে। সাইনাসের সমস্যার ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো “বিশেষ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা” প্রচলিত না থাকলেও, কিছু ফিজিওথেরাপি কৌশল এবং ব্যায়াম সাইনাসের ব্যথা কমাতে, শ্লেষ্মা নিষ্কাশনে সাহায্য করতে এবং সামগ্রিক আরাম দিতে সহায়ক হতে পারে। এই চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো ঔষধের পাশাপাশি বা ঔষধের প্রয়োজন কমানোর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
ফিজিওথেরাপিস্টরা সাধারণত সাইনাসের সমস্যার জন্য নিম্নলিখিত কৌশলগুলো ব্যবহার করতে পারেন:
- ম্যানুয়াল থেরাপি এবং মৃদু চাপঃ কিছু বিশেষ ম্যানুয়াল থেরাপির মাধ্যমে মুখের হাড় এবং সাইনাসের আশেপাশে খুব হালকাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে সাইনাসের ভেতরের জমে থাকা শ্লেষ্মা আলগা হতে এবং সহজে বের হতে সাহায্য করে। এই মৃদু চাপ সাইনাসের পথে রক্ত চলাচল বাড়াতেও সাহায্য করে, যা প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে, এই কৌশলটি অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে করানো উচিত।
- পোস্টুরাল ড্র drainage এবং শ্বাসের ব্যায়ামঃ পোস্টুরাল ড্র drainage হল বিশেষ কিছু শারীরিক ভঙ্গি, যা মাধ্যাকর্ষণকে ব্যবহার করে সাইনাস থেকে জমা শ্লেষ্মা বের করতে সাহায্য করে; ফিজিওথেরাপিস্ট নির্দিষ্ট সাইনাসের জন্য কার্যকর ভঙ্গি শিখিয়ে দেন। এর পাশাপাশি, ডায়াফ্রাম্যাটিক ব্রিদিং-এর মতো বিশেষ শ্বাসের ব্যায়াম সাইনাসের চাপ কমায় এবং বায়ু চলাচল উন্নত করে আরাম দেয়।
- ঘাড়ের এবং কাঁধের ব্যায়ামঃ অনেক সময় ঘাড় এবং কাঁধের পেশীর tightness সাইনাসের ব্যথায় অবদান রাখতে পারে। ফিজিওথেরাপিস্ট আপনাকে কিছু মৃদু স্ট্রেচিং এবং ব্যায়াম শেখাতে পারেন যা ঘাড় ও কাঁধের পেশীগুলোকে শিথিল করবে এবং সামগ্রিকভাবে আরাম দেবে।
- আলট্রাসাউন্ড থেরাপিঃ কিছু ক্ষেত্রে, ফিজিওথেরাপিস্টরা সাইনাসের আশেপাশে আলট্রাসাউন্ড থেরাপি ব্যবহার করতে পারেন। আলট্রাসাউন্ড তরঙ্গ ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে তাপ উৎপন্ন করে, যা রক্ত চলাচল বাড়াতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে সাইনাসের ব্যথা কিছুটা উপশম হতে পারে।
মনে রাখবেন, সাইনাসের প্রধান চিকিৎসা হলো ওষুধ আর ঘরোয়া উপায়। ফিজিওথেরাপি শুধু একটু সাহায্য করতে পারে, যাতে আপনি আরাম পান এবং তাড়াতাড়ি সুস্থ হন। আপনার জন্য ফিজিওথেরাপি ঠিক হবে কিনা, তা ডাক্তারই বলতে পারবেন। দরকার হলে তিনি আপনাকে ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে পাঠাবেন।
উপসংহার
উপসংহারে বলা যায়, সাইনাসের মাথা ব্যথা কমানোর জন্য উপরে বলা নিয়মগুলো যদি নিয়মিত মেনে চলা যায়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই উপকার পাওয়া যায়। ছোটখাটো সমস্যা বা প্রাথমিক পর্যায়ে এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো বেশ কাজে দেয়। তবে, যদি সাইনাসের ব্যথা খুব বেশি হয়, অথবা অনেক দিন ধরে চলতে থাকে, কিংবা অন্য কোনো জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ডাক্তার আপনার সমস্যার সঠিক কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারবেন এবং জটিলতা এড়ানো যাবে।
ব্যথা সম্পর্কিত যেকোনো ধরণের পরামর্শ পেতে বা ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট নিতে – উত্তরা- +8801727177436 এবং বনানী- +8801774678604 (সকাল ৯.০০ থেকে রাত ৯.০০ টা) এই নম্বরে কল করুন এবং এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নিন।
আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর

Dr. Saiful Islam, PT, is a Consultant Physiotherapist with expertise in Orthopedics. He holds a BPT from Dhaka University, an MPT, and a Postgraduate Certification in Acupuncture from India, with specialized training in Ozone Therapy. (Best physiotherapist in Dhaka)

