ব্রেন স্ট্রোক কি, লক্ষণ ও ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়

ব্রেন স্ট্রোক কি, লক্ষণ ও ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়

ব্রেন স্ট্রোক একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা যা প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। এই রোগটি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্লগে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব ব্রেন স্ট্রোক কি, এর কারণ, লক্ষণ এবং ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে।

ব্রেন স্ট্রোক কি

ব্রেন স্ট্রোক কি?

ব্রেন স্ট্রোক কি তা বোঝার জন্য প্রথমে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে জানা দরকার। মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা প্রতিনিয়ত অক্সিজেন এবং পুষ্টির প্রয়োজন হয়। যখন মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয় বা বন্ধ হয়ে যায়, তখন সেই অংশের কোষগুলো মরে যেতে শুরু করে। এই অবস্থাকেই ব্রেন স্ট্রোক বলা হয়।

ব্রেন স্ট্রোক কি এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি যেখানে মস্তিষ্কের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয় রক্ত সরবরাহের অভাবে। মেডিকেল পরিভাষায় একে সেরিব্রোভাস্কুলার অ্যাক্সিডেন্ট বা CVA বলা হয়। স্ট্রোক দুই ধরনের হতে পারে – ইস্কেমিক স্ট্রোক যেখানে রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায়, এবং হেমোরেজিক স্ট্রোক যেখানে রক্তনালী ফেটে যায়।

ইস্কেমিক স্ট্রোক সবচেয়ে সাধারণ ধরন যা প্রায় ৮৭% ক্ষেত্রে দেখা যায়। এটি সাধারণত রক্তনালীতে জমাট বাঁধা রক্ত বা চর্বি জমে সৃষ্ট বাধার কারণে হয়। হেমোরেজিক স্ট্রোক কম দেখা গেলেও এটি বেশি মারাত্মক হতে পারে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে আশেপাশের টিস্যুতে চাপ পড়ে এবং ক্ষতি হয়।

ব্রেন স্ট্রোক কি এবং এর গুরুত্ব বোঝা জরুরি কারণ প্রতি মিনিটে প্রায় ১.৯ মিলিয়ন নিউরন নষ্ট হয়ে যায় স্ট্রোকের সময়। তাই একে “টাইম ইজ ব্রেইন” বলা হয় – যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হবে, ক্ষতির পরিমাণ তত কম হবে।

ব্রেন স্ট্রোক কি কারনে হয়

ব্রেন স্ট্রোক কি কারনে হয়?

ব্রেন স্ট্রোক কি কারনে হয় তা জানা প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত জরুরি। স্ট্রোকের পেছনে অনেক কারণ এবং ঝুঁকির উপাদান রয়েছে। প্রথমত, উচ্চ রক্তচাপ হলো সবচেয়ে বড় কারণ। যখন রক্তচাপ দীর্ঘদিন উচ্চ থাকে, তখন রক্তনালীর দেয়াল দুর্বল হয়ে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে রক্তনালী বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা ফেটে যেতে পারে।

ব্রেন স্ট্রোক কি কারনে হয় এর দ্বিতীয় প্রধান কারণ হলো ডায়াবেটিস। উচ্চ রক্তে শর্করা রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ায়। ডায়াবেটিস রোগীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে চারগুণ বেশি।

হৃদরোগ বিশেষত অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন ব্রেন স্ট্রোক কি কারনে হয় তার একটি বড় উত্তর। হৃৎপিণ্ডে যখন রক্ত জমাট বাঁধে, তা মস্তিষ্কে গিয়ে রক্তনালী বন্ধ করে দিতে পারে। এছাড়া হৃৎপিণ্ডের ভালভে সমস্যা, হার্ট অ্যাটাক এবং কার্ডিওমায়োপ্যাথিও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

উচ্চ কোলেস্টেরল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বেশি থাকলে তা রক্তনালীর দেয়ালে জমা হয়ে প্লাক তৈরি করে। এই প্লাক ধীরে ধীরে রক্তনালী সরু করে দেয় এবং রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত করে।

ধূমপান ব্রেন স্ট্রোক কি কারনে হয় এর একটি প্রধান প্রভাবক। সিগারেটের নিকোটিন এবং কার্বন মনোঅক্সাইড রক্তনালীর ক্ষতি করে, রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ায় এবং অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়। ধূমপায়ীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় দ্বিগুণ।

অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলতাও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। শরীরে অতিরিক্ত চর্বি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরল সমস্যার কারণ হয় যা পরোক্ষভাবে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং ব্যায়ামের অভাব ব্রেন স্ট্রোক কি কারনে হয় তার আরেকটি উত্তর। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করলে রক্ত চলাচল ঠিকমতো হয় না এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, বিশেষত অতিরিক্ত লবণ, চর্বি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপান, মানসিক চাপ, বয়স বৃদ্ধি, পারিবারিক ইতিহাস এবং পূর্ববর্তী স্ট্রোক বা মিনি-স্ট্রোক (TIA) থাকলেও ঝুঁকি বেশি থাকে।

নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা, গর্ভনিরোধক বড়ি সেবন এবং হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিও ব্রেন স্ট্রোক কি কারনে হয় এর অতিরিক্ত কারণ হতে পারে।

ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণ

ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণ

ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণ চেনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। স্ট্রোকের লক্ষণগুলো হঠাৎ করেই দেখা দেয় এবং তীব্র হয়।

সবচেয়ে সাধারণ ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণ হলো শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া বা দুর্বল হয়ে পড়া। বিশেষত মুখ, হাত বা পা হঠাৎ করে অসাড় হয়ে যেতে পারে। এটি সাধারণত শরীরের এক পাশেই হয় কারণ মস্তিষ্কের যে অংশে স্ট্রোক হয়, তার বিপরীত পাশের শরীর প্রভাবিত হয়।

মুখ বেঁকে যাওয়া বা ঝুলে পড়া একটি স্পষ্ট ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণ। রোগীকে হাসতে বললে দেখা যাবে তার মুখের একপাশ স্বাভাবিকভাবে নড়ছে না এবং ঝুলে আছে।

কথা বলতে অসুবিধা বা জড়িয়ে যাওয়া আরেকটি প্রধান লক্ষণ। রোগী হয়তো কথা বুঝতে পারছেন না, বা বলতে চাইলেও পারছেন না, অথবা তার কথা অস্পষ্ট এবং জড়িয়ে যাচ্ছে। কখনো কখনো রোগী সম্পূর্ণ বাকশক্তি হারিয়ে ফেলতে পারেন।

হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা যা আগে কখনো অনুভব করেননি, এমন ব্যথা ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এই মাথাব্যথা সাধারণত খুব তীব্র হয় এবং সাথে বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।

হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি সমস্যা দেখা দেওয়া যেমন এক চোখে বা দুই চোখেই ঝাপসা দেখা, দ্বিগুণ দেখা বা সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যাওয়া ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

হাঁটতে অসুবিধা, ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, মাথা ঘোরা এবং সমন্বয়হীনতা দেখা দিতে পারে। রোগী হয়তো হঠাৎ পড়ে যেতে পারেন বা সোজা হাঁটতে পারছেন না।

কিছু ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি হওয়া, গিলতে অসুবিধা এবং হঠাৎ বিভ্রান্তি বা স্মৃতিভ্রমও ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।

ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণ চেনার জন্য একটি সহজ পদ্ধতি আছে যাকে FAST বলা হয়:

  • F (Face) – মুখ: ব্যক্তিকে হাসতে বলুন, দেখুন মুখের একপাশ ঝুলে পড়ছে কিনা
  • A (Arms) – বাহু: দুই হাত উপরে তুলতে বলুন, দেখুন একটি হাত নিচে নেমে আসছে কিনা
  • S (Speech) – কথা: একটি সাধারণ বাক্য বলতে বলুন, দেখুন কথা জড়িয়ে যাচ্ছে কিনা
  • T (Time) – সময়: এই যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যান

মিনি-স্ট্রোক বা ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (TIA) এর ক্ষেত্রেও একই ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেয় তবে এগুলো কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু এটিকে গুরুত্বহীনভাবে নেওয়া উচিত নয় কারণ এটি পূর্ণাঙ্গ স্ট্রোকের সতর্ক সংকেত হতে পারে।

ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়

ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়

ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় জানা এবং সেগুলো মেনে চলা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। ভাল খবর হলো বেশিরভাগ স্ট্রোক প্রতিরোধযোগ্য যদি আমরা জীবনযাত্রার পরিবর্তন আনি এবং স্বাস্থ্য সচেতন হই।

প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় হলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করুন এবং ১২০/৮০ এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন এবং লবণ খাওয়া কমিয়ে দিন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। HbA1c লেভেল ৭% এর নিচে রাখার চেষ্টা করুন।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অপরিহার্য। প্রচুর পরিমাণে ফলমূল এবং শাকসবজি খান। প্রতিদিন অন্তত পাঁচ সার্ভিং ফল এবং সবজি খাওয়া উচিত। গোটা শস্য যেমন লাল চাল, লাল আটা, ওটস ইত্যাদি খান। মাছ বিশেষত সামুদ্রিক মাছ যা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডে সমৃদ্ধ তা খাদ্যতালিকায় রাখুন। অতিরিক্ত লবণ, চিনি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ট্রান্স ফ্যাট এড়িয়ে চলুন। প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড এবং জাঙ্ক ফুড যতটা সম্ভব কম খান।

নিয়মিত ব্যায়াম করা ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় গুলির মধ্যে অত্যন্ত কার্যকর। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি তীব্রতার ব্যায়াম করুন যেমন দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা ইত্যাদি। অথবা ৭৫ মিনিট তীব্র ব্যায়াম করতে পারেন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম করার চেষ্টা করুন।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। পেটের চর্বি বিশেষভাবে ক্ষতিকর তাই কোমরের মাপ পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩৭ ইঞ্চি এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৩৫ ইঞ্চির নিচে রাখুন।

ধূমপান সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করা ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় গুলির মধ্যে সবচেয়ে জরুরি। ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পর মাত্র দুই বছরে স্ট্রোকের ঝুঁকি অধূমপায়ীদের মতো হয়ে যায়। ধূমপান ত্যাগের জন্য প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

মদ্যপান নিয়ন্ত্রণ করুন বা একদম ছেড়ে দিন। অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বাড়ায় এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

মানসিক চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় এর অংশ। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান। যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন যেখানে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল লেভেল পরীক্ষা করা হয়। হৃদরোগ থাকলে নিয়মিত কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নিন এবং নির্ধারিত ওষুধ সঠিকভাবে সেবন করুন।

কোলেস্টেরল লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখা ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায় এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ান। স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ট্রান্স ফ্যাট কম খান এবং প্রয়োজনে স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ সেবন করুন।

অ্যাসপিরিন বা অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শে নিতে হবে বিশেষত যদি আগে মিনি-স্ট্রোক বা হৃদরোগের সমস্যা থাকে।

পরিবারে কারো স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলে বা ঝুঁকির উপাদান থাকলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন এবং নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

তরল পান করুন পর্যাপ্ত পরিমাণে। প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন যা রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে সাহায্য করে।

নিয়মিত মেডিটেশন এবং মাইন্ডফুলনেস অনুশীলন করুন যা মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং চাপ কমায়।

সামাজিক সংযোগ বজায় রাখুন এবং সক্রিয় জীবনযাপন করুন। বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সাথে সময় কাটান যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

ব্রেন স্ট্রোক রোগীর থেরাপি

ব্রেন স্ট্রোক রোগীর থেরাপি

ব্রেন স্ট্রোক রোগীর থেরাপি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যা রোগীর অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়:

১. ফিজিওথেরাপি

স্ট্রোকের পরে শরীরের বিভিন্ন অংশে দুর্বলতা বা প্যারালাইসিস দেখা দিতে পারে। ফিজিওথেরাপি রোগীর শারীরিক শক্তি, ভারসাম্য এবং চলাফেরার ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। পেইন কিউরে আমরা ম্যানুয়াল ফিজিওথেরাপি, শকওয়েভ থেরাপি এবং PEMF থেরাপির মাধ্যমে রোগীদের দ্রুত সুস্থ হতে সহায়তা করি।

২. অকুপেশনাল থেরাপি

এই থেরাপি রোগীকে দৈনন্দিন কাজকর্ম যেমন খাওয়া, পোশাক পরা, এবং লেখালেখি করতে সক্ষম করে তোলে।

৩. স্পিচ থেরাপি

অনেক স্ট্রোক রোগী কথা বলতে বা গিলতে সমস্যার সম্মুখীন হন। স্পিচ থেরাপি এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর।

৪. ইলেক্ট্রো আকুপাংচারআর-টি-এম-এস থেরাপি

পেইন কিউরে আমরা ইলেক্ট্রো আকুপাংচার এবং আর-টি-এম-এস (Repetitive Transcranial Magnetic Stimulation) থেরাপির মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নার্ভ সিস্টেম পুনরুদ্ধারে সহায়তা করি।

৫. ক্রায়ো থেরাপি ও টেকার থেরাপি

প্রদাহ কমাতে এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতে এই থেরাপিগুলো অত্যন্ত কার্যকর।

ব্রেন স্ট্রোক রোগীর থেরাপির উপকারিতা

ব্রেন স্ট্রোক রোগীর থেরাপি সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে নিম্নলিখিত উপকারিতা পাওয়া যায়:

  • শারীরিক শক্তি ও ভারসাম্য পুনরুদ্ধার
  • স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি
  • কথা বলা ও গিলতে সমস্যার সমাধান
  • দৈনন্দিন কাজকর্মে স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া
  • জীবনযাত্রার মান উন্নতি

পেইন কিউরে ব্রেন স্ট্রোক রোগীর থেরাপি

পেইন কিউরে আমরা ব্রেন স্ট্রোক রোগীর থেরাপি প্রদানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কাজ করি। আমাদের প্রতিটি থেরাপি পদ্ধতি রোগীর বিশেষ অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োগ করা হয়। ওজোন থেরাপি, PEMF থেরাপি, আর-টি-এম-এস, ইলেক্ট্রো আকুপাংচার এবং ম্যানুয়াল ফিজিওথেরাপির মতো উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা স্ট্রোক রোগীদের দ্রুত সুস্থতার পথে এগিয়ে নিতে পারি।

 

উত্তরা অথবা বনানী শাখার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করতে, আপনি প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে রাত ৯:০০ টা পর্যন্ত +৮৮০১৭৭৪৬৭৮৬০৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর

 

বিস্তারিত জানুন: Best Physiotherapy Home Service in Dhaka

বিস্তারিত জানুন: Best Female Physiotherapist in Dhaka

বিস্তারিত জানুন: Expert Physiotherapy Center

বিস্তারিত জানুন: Advance Physiotherapy Center

 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ঘুমের মধ্যে ব্রেন স্ট্রোক হলে সকালে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ শরীরের এক পাশ অবশ বা দুর্বল লাগতে পারে, মুখ বাঁকা হয়ে যেতে পারে, এবং কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারা দেখা দিতে পারে।

তীব্র মাথাব্যথা, ভারসাম্যহীনতা, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া বা চলাফেরায় সমস্যা হলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যেতে হবে। 

মাথায় রক্ত চলাচল কম হলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ কমে যায়, ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মনোযোগহীনতা এবং স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে।

দীর্ঘদিন এই সমস্যা থাকলে স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া বা মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তীব্র ক্ষেত্রে চেতনা হারানো বা মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে, তাই দ্রুত চিকিৎসা জরুরি।

স্ট্রোক হলে অবিলম্বে ৯৯৯ বা জরুরি সেবায় কল করুন - প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। রোগীকে আরামদায়ক অবস্থানে শুইয়ে দিন এবং মাথা সামান্য উঁচু রাখুন।

কিছু খাওয়াবেন না বা পানি দেবেন না কারণ গিলতে সমস্যা হতে পারে। রোগীকে শান্ত রাখুন এবং হাসপাতালে পৌঁছানো পর্যন্ত তার সাথে থাকুন। প্রথম ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা পেলে মস্তিষ্কের ক্ষতি অনেক কমানো সম্ভব।

হ্যাঁ, স্ট্রোক মারাত্মক হতে পারে, বিশেষত যদি দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়া যায় বা স্ট্রোক তীব্র হয়। তবে সময়মতো চিকিৎসা পেলে অনেকেই বেঁচে যান এবং সুস্থ হয়ে ওঠেন।

মৃত্যুর ঝুঁকি নির্ভর করে স্ট্রোকের ধরন, মস্তিষ্কের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত এবং কত দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো যায় তার উপর। প্রথম ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা পেলে বেঁচে যাওয়া ও সুস্থতার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

মস্তিষ্কের ক্ষতি হলে শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, হাঁটা বা ভারসাম্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে। কথা বলা, বোঝা বা গিলতে অসুবিধা, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ কমে যাওয়া এবং ব্যক্তিত্ব বা আচরণে পরিবর্তন হতে পারে।

দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি বা অনুভূতিতে সমস্যা হতে পারে, এবং মাথাব্যথা, খিঁচুনি বা চেতনা হারানোও দেখা দিতে পারে। সমস্যার ধরন নির্ভর করে মস্তিষ্কের কোন অংশ এবং কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার উপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *