স্ট্রোক একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা যা মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশের কার্যক্ষমতা হ্রাস করতে পারে। স্ট্রোকের পরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় নিয়মিত স্ট্রোক রোগীর ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক স্ট্রোকের ব্যায়াম রোগীর হারানো শক্তি ও নড়াচড়ার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
এই ব্লগে আমরা আলোচনা করব স্ট্রোকের ব্যায়াম, কীভাবে স্ট্রোক রোগীর হাতের ব্যায়াম, স্ট্রোক রোগীর পায়ের ব্যায়াম এবং স্ট্রোক রোগীর মুখের ব্যায়াম করতে হয়। এই ব্যায়ামগুলো নিয়মিত অনুশীলন করলে রোগীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এবং স্বাধীনতা ফিরে পেতে সাহায্য করে।

স্ট্রোক রোগীর হাতের ব্যায়াম
স্ট্রোকের পরে হাতের দুর্বলতা এবং নড়াচড়ায় সমস্যা খুবই সাধারণ। স্ট্রোক রোগীর হাতের ব্যায়াম নিয়মিত করলে হাতের পেশী শক্তিশালী হয়, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করার ক্ষমতা ফিরে আসে।
১. আঙুল খোলা ও বন্ধ করা
হাতের তালু খুলুন এবং আঙুলগুলো যতটা সম্ভব প্রসারিত করুন। তারপর মুষ্টিবদ্ধ করুন। এই স্ট্রোক রোগীর হাতের ব্যায়াম টি ১০-১৫ বার পুনরাবৃত্তি করুন। এটি আঙুলের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে এবং গ্রিপ শক্তি উন্নত করে।
২. কব্জি ঘোরানো
হাতের কব্জি ধীরে ধীরে ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং বিপরীত দিকে ঘোরান। প্রতিটি দিকে ১০ বার করুন। এই ব্যায়াম কব্জির নমনীয়তা বাড়ায় এবং শক্ত ভাব কমায়।
৩. হাত তোলা এবং নামানো
বসা বা শোয়া অবস্থায় আক্রান্ত হাতটি উপরে তুলুন এবং ধীরে ধীরে নামান। সুস্থ হাত দিয়ে সাহায্য নিতে পারেন। এই স্ট্রোকের ব্যায়াম কাঁধের নড়াচড়া উন্নত করে এবং পেশী শক্তি বৃদ্ধি করে।
৪. বল চেপে ধরা
একটি নরম রাবার বল হাতে নিয়ে চেপে ধরুন ৫ সেকেন্ডের জন্য, তারপর ছেড়ে দিন। এই ব্যায়াম ১০-১৫ বার করুন। এটি হাতের গ্রিপ শক্তি বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর।
৫. টেবিলে হাত স্লাইড করা
একটি টেবিলে হাত রেখে সামনে-পিছনে স্লাইড করুন। এই সহজ স্ট্রোক রোগীর ব্যায়াম হাত ও কাঁধের সমন্বয় উন্নত করে।
স্ট্রোক রোগীর পায়ের ব্যায়াম
স্ট্রোকের পরে পায়ের শক্তি এবং ভারসাম্য হারানো একটি বড় সমস্যা। স্ট্রোক রোগীর পায়ের ব্যায়াম নিয়মিত করলে পায়ের পেশী শক্তিশালী হয়, হাঁটার ক্ষমতা ফিরে আসে এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
১. গোড়ালি উপর-নিচ করা
বসা বা শোয়া অবস্থায় পায়ের গোড়ালি উপরে এবং নিচে সরান। এই স্ট্রোক রোগীর পায়ের ব্যায়াম টি ১৫-২০ বার করুন। এটি গোড়ালির নমনীয়তা বৃদ্ধি করে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।
২. পা সোজা করা
চেয়ারে বসে এক পা সোজা করে উপরে তুলুন এবং ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর নামান। প্রতিটি পায়ে ১০ বার করুন। এই ব্যায়াম উরুর পেশী শক্তিশালী করে।
৩. হাঁটু ভাঁজ করা
শোয়া অবস্থায় হাঁটু ভাঁজ করে বুকের দিকে আনুন এবং আবার সোজা করুন। প্রতিটি পায়ে ১০ বার করুন। এই স্ট্রোকের ব্যায়াম হাঁটুর নমনীয়তা বাড়ায়।
৪. পায়ের আঙুল নাড়ানো
পায়ের আঙুলগুলো উপরে এবং নিচে নাড়ান। এই সহজ স্ট্রোক রোগীর ব্যায়াম পায়ের আঙুলের নিয়ন্ত্রণ উন্নত করে এবং নার্ভ সংযোগ পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।
৫. দাঁড়িয়ে ভারসাম্য রক্ষা
যদি সম্ভব হয়, দেওয়াল বা চেয়ার ধরে দাঁড়ান এবং এক পায়ে ওজন দিয়ে ১০ সেকেন্ড ভারসাম্য রক্ষা করুন। পা পরিবর্তন করুন। এই ব্যায়াম ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করে।
৬. হাঁটার অনুশীলন
সাহায্য নিয়ে ঘরের মধ্যে কিছু পদক্ষেপ হাঁটুন। প্রথমে ছোট পদক্ষেপ নিন এবং ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়ান। নিয়মিত স্ট্রোক রোগীর পায়ের ব্যায়াম করলে হাঁটার ক্ষমতা দ্রুত ফিরে আসে।
স্ট্রোক রোগীর মুখের ব্যায়াম
স্ট্রোকের কারণে মুখের পেশী দুর্বল হয়ে যেতে পারে, যার ফলে কথা বলা, খাওয়া এবং মুখের অভিব্যক্তিতে সমস্যা দেখা দেয়। স্ট্রোক রোগীর মুখের ব্যায়াম নিয়মিত করলে মুখের পেশী শক্তিশালী হয় এবং স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরে আসে।
১. ঠোঁট বন্ধ করে হাসা
ঠোঁট বন্ধ রেখে হাসার ভঙ্গি করুন যতটা সম্ভব চওড়া করে। ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং ছেড়ে দিন। এই স্ট্রোক রোগীর মুখের ব্যায়াম টি ১০ বার করুন। এটি গালের পেশী শক্তিশালী করে।
২. চুমু খাওয়ার ভঙ্গি
ঠোঁট সামনের দিকে বাড়িয়ে চুমু খাওয়ার ভঙ্গি করুন। ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং ছেড়ে দিন। ১০ বার পুনরাবৃত্তি করুন। এই ব্যায়াম ঠোঁটের নিয়ন্ত্রণ উন্নত করে।
৩. গাল ফোলানো
গাল ফুলিয়ে বাতাস ভরুন এবং ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর ছেড়ে দিন। ১০ বার করুন। এই স্ট্রোকের ব্যায়াম গালের পেশী টোন করে এবং খাওয়ার সময় সাহায্য করে।
৪. জিহ্বা বের করা
জিহ্বা যতটা সম্ভব বাইরে বের করুন এবং ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন। তারপর ভিতরে নিন। ১০ বার করুন। এই ব্যায়াম জিহ্বার শক্তি বৃদ্ধি করে এবং কথা বলতে সাহায্য করে।
৫. জিহ্বা একপাশ থেকে অন্যপাশে নেওয়া
জিহ্বা মুখের এক কোণ থেকে অন্য কোণে স্পর্শ করান। প্রতিটি পাশে ১০ বার করুন। এই স্ট্রোক রোগীর মুখের ব্যায়াম জিহ্বার নমনীয়তা বাড়ায়।
৬. “আ”, “ই”, “উ” উচ্চারণ করা
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে “আ”, “ই”, “উ” স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করুন এবং মুখের নড়াচড়া লক্ষ্য করুন। এই ব্যায়াম বাকশক্তি উন্নত করে এবং মুখের সমন্বয় বৃদ্ধি করে।
শেষ কথা (স্ট্রোকের ব্যায়াম)
স্ট্রোকের পরে পুনর্বাসন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, কিন্তু নিয়মিত স্ট্রোক রোগীর ব্যায়াম করলে রোগীর জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। স্ট্রোক রোগীর হাতের ব্যায়াম, স্ট্রোক রোগীর পায়ের ব্যায়াম এবং স্ট্রোক রোগীর মুখের ব্যায়াম তিনটিই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিদিন অনুশীলন করা উচিত।
মনে রাখবেন, স্ট্রোকের ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন। প্রতিটি রোগীর অবস্থা আলাদা, তাই ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী ব্যায়াম পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন। ধৈর্য ধরুন এবং নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যান।
উত্তরা অথবা বনানী শাখার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করতে, আপনি প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে রাত ৯:০০ টা পর্যন্ত +৮৮০১৭৭৪৬৭৮৬০৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।
আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর
বিস্তারিত জানুন: Best Physiotherapy Home Service in Dhaka
বিস্তারিত জানুন: Best Female Physiotherapist in Dhaka
বিস্তারিত জানুন: Expert Physiotherapy Center
বিস্তারিত জানুন: ব্রেন স্ট্রোক কি, লক্ষণ ও ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়
সাধারণ জিজ্ঞাসা
স্ট্রোকের পর কি কি করা উচিত নয়?
স্ট্রোকের পর অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার, ধূমপান ও মদ্যপান সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। হঠাৎ ভারী কাজ বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করবেন না এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। মানসিক চাপ ও অনিয়মিত ঘুম এড়ান, কারণ এগুলো পুনরায় স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত ব্লাড প্রেশার ও সুগার পরীক্ষা করা এবং ফলোআপ চেকআপ মিস করা থেকে বিরত থাকুন।
স্ট্রোক করলে কি পা ফুলে যায়?
হ্যাঁ, স্ট্রোকের পর পা ফুলে যেতে পারে, বিশেষত যে পাশে প্যারালাইসিস হয়েছে সেই পায়ে। এটি মূলত দীর্ঘসময় নড়াচড়া না করা, দুর্বল রক্ত সঞ্চালন এবং পেশীর অকার্যকারিতার কারণে হয়। পা উঁচু করে রাখা, নিয়মিত হালকা ম্যাসাজ, এবং ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী পায়ের ব্যায়াম করলে ফোলা কমতে পারে। তবে হঠাৎ বেশি ফুলে গেলে বা ব্যথা হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন, কারণ এটি রক্ত জমাট বাঁধার (DVT) লক্ষণ হতে পারে।
স্ট্রোক কতটা ক্ষতিকর?
স্ট্রোক অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং জীবনঘাতী হতে পারে। এটি মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট করে যা স্থায়ী প্যারালাইসিস, কথা বলার সমস্যা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং শারীরিক অক্ষমতা সৃষ্টি করতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে এবং বেঁচে থাকলেও অনেকে সারাজীবন পরনির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে দ্রুত (৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে) চিকিৎসা শুরু হলে ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। প্রতিরোধযোগ্য রোগ হিসেবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত চেকআপ এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।

Dr. Saiful Islam, PT, is a Consultant Physiotherapist with expertise in Orthopedics. He holds a BPT from Dhaka University, an MPT, and a Postgraduate Certification in Acupuncture from India, with specialized training in Ozone Therapy. (Best physiotherapist in Dhaka)




