আধুনিক যুগে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৮০ মিলিয়ন মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগছেন। বাংলাদেশেও এই সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অনেকেই জানেন না যে তারা ডিপ্রেশনে ভুগছেন, কারণ ডিপ্রেশনের লক্ষণ সবসময় স্পষ্ট থাকে না। তবে কিছু মারাত্মক লক্ষণ রয়েছে যা চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এই ব্লগে আমরা ডিপ্রেশনের ৮টি মারাত্মক লক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, যা আপনাকে বা আপনার প্রিয়জনকে সাহায্য করতে পারে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিতে।

ডিপ্রেশন কি এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
ডিপ্রেশন শুধুমাত্র একদিন খারাপ মেজাজ বা দুঃখবোধ নয়। এটি একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে এবং আপনার চিন্তাভাবনা, অনুভূতি এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে গুরুতর প্রভাব ফেলে। ডিপ্রেশন আপনার কাজের ক্ষমতা, সম্পর্ক এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান হ্রাস করতে পারে। যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
ডিপ্রেশন বিভিন্ন কারণে হতে পারে জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত কারণ। মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা, জীবনের কঠিন ঘটনা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, পারিবারিক ইতিহাস এসব কারণে ডিপ্রেশন হতে পারে। তাই ডিপ্রেশনের লক্ষণ চিনতে পারা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।

ডিপ্রেশনের ৮টি মারাত্মক লক্ষণ
বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন) এর ৮টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ-
১. ক্রমাগত দুঃখবোধ এবং হতাশা
ডিপ্রেশনের ৮টি মারাত্মক লক্ষণ এর মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে প্রচলিত লক্ষণ হলো ক্রমাগত দুঃখবোধ এবং গভীর হতাশা। এটি শুধু একদিন বা দুই দিনের জন্য নয়, বরং সপ্তাহের পর সপ্তাহ, এমনকি মাসের পর মাস ধরে চলতে থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তি অনুভব করেন যে জীবনে কোনো আনন্দ নেই, সবকিছু অর্থহীন এবং ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
এই দুঃখবোধ এতটাই গভীর হয় যে ব্যক্তি নিজের প্রিয় কাজগুলোতেও আর আনন্দ পান না। যে কাজগুলো আগে তাকে খুশি করত যেমন বন্ধুদের সাথে দেখা করা, শখের কাজ করা, খেলাধুলা করা সেগুলোও এখন আর ভালো লাগে না। এই অবস্থাকে “অ্যানহেডোনিয়া” বলা হয়, যেখানে ব্যক্তি আনন্দ অনুভব করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।
এই ক্রমাগত দুঃখবোধ শুধু মানসিকভাবেই নয়, শারীরিকভাবেও প্রভাব ফেলে। মানুষ ক্লান্ত বোধ করেন, শক্তির অভাব অনুভব করেন এবং জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। অনেকে এই অবস্থাকে “একটি অন্ধকার গর্তে পড়ে যাওয়া” হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো পথ খুঁজে পান না।
যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই ধরনের গভীর দুঃখবোধ অনুভব করেন, তাহলে এটি গুরুত্বের সাথে নেওয়া উচিত এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. অতিরিক্ত ঘুম বা ঘুমের অভাব
ঘুমের সমস্যা ডিপ্রেশনের একটি অন্যতম মারাত্মক লক্ষণ। ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তি দুই ধরনের ঘুমের সমস্যায় ভুগতে পারেন। কেউ কেউ অতিরিক্ত ঘুমান (হাইপারসমনিয়া), আবার কেউ কেউ একদমই ঘুমাতে পারেন না (ইনসমনিয়া)।
যারা অতিরিক্ত ঘুমান, তারা দিনে ১০-১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি ঘুমান। তবুও তাদের ক্লান্তি কাটে না। তারা সকালে উঠতে চান না, বিছানা ছেড়ে উঠতে অনীহা বোধ করেন এবং দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে বা শুয়ে থেকে কাটান। এটি আসলে একটি পালিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বাস্তবতা থেকে, সমস্যা থেকে পালাতে তারা ঘুমের আশ্রয় নেন।
অন্যদিকে, যারা ঘুমাতে পারেন না, তারা রাতের পর রাত জেগে থাকেন, মাথায় হাজারো চিন্তা ঘুরপাক খায়। তারা বিছানায় শুয়েও ঘুম আসে না, কিংবা ঘুম এলেও মাঝরাতে বারবার ভেঙে যায়। খুব ভোরে জেগে যান এবং আর ঘুমাতে পারেন না। এই ধরনের ঘুমের ব্যাঘাত শরীর এবং মনের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের সমস্যা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ঘুমের সমস্যা হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
৩. ক্ষুধার পরিবর্তন এবং ওজনের ওঠানামা
ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তির খাওয়ার অভ্যাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দেয়। কারো ক্ষুধা একদম কমে যায়, খাবারের প্রতি আগ্রহ থাকে না, খেতে ইচ্ছে করে না এবং জোর করে খেতে হয়। ফলে দ্রুত ওজন কমে যায়। এই ধরনের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন শরীরে পুষ্টির ঘাটতি সৃষ্টি করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, কিছু মানুষ ডিপ্রেশনের সময় অতিরিক্ত খান। তারা “ইমোশনাল ইটিং” বা আবেগজনিত খাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন। মিষ্টি, চর্বিযুক্ত এবং ফাস্ট ফুড বেশি খান, যা ক্ষণিকের জন্য ভালো অনুভূতি দেয় কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পায়, যা আত্মসম্মানবোধ আরও কমিয়ে দেয় এবং ডিপ্রেশন আরও গভীর হয়।
একজন ব্যক্তি যদি এক মাসের মধ্যে ৫ শতাংশ বা তার বেশি ওজন হারান বা বৃদ্ধি পান কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই, তাহলে এটি ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। এই ধরনের শারীরিক পরিবর্তন গুরুত্বের সাথে নেওয়া উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

৪. অবসাদ এবং শক্তির অভাব
ডিপ্রেশনের ৮টি মারাত্মক লক্ষণ এর মধ্যে একটি প্রধান লক্ষণ হলো চরম অবসাদ এবং শক্তির অভাব। আক্রান্ত ব্যক্তি সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করেন, এমনকি যথেষ্ট ঘুমের পরেও। ছোট ছোট কাজ করতেও প্রচুর শক্তি ব্যয় হয় বলে মনে হয়। সকালে বিছানা থেকে উঠা, গোসল করা, কাপড় পরা এসব সাধারণ কাজগুলোই পাহাড়সম মনে হয়।
এই অবসাদ শুধু শারীরিক নয়, মানসিকও। মস্তিষ্ক যেন ঠিকমতো কাজ করছে না, চিন্তাভাবনা ধীরগতির হয়ে যায়, সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট হয়। কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, উৎপাদনশীলতা কমে যায় এবং দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন করা দুরূহ হয়ে ওঠে।
অনেকে এই অবস্থাকে “অলস” বা “দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে ভুল বোঝেন। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ। ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তি চাইলেও সহজে এই অবসাদ কাটিয়ে উঠতে পারেন না, তাদের সাহায্য ও চিকিৎসা প্রয়োজন।
৫. মনোযোগের অভাব এবং সিদ্ধান্তহীনতা
ডিপ্রেশনের সময় মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা প্রভাবিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না। বই পড়ছেন কিন্তু লেখা মাথায় ঢুকছে না, সিনেমা দেখছেন কিন্তু কাহিনী বুঝতে পারছেন না, কথা বলছেন কিন্তু কী বলা হচ্ছে তা মনে রাখতে পারছেন না। এই মনোযোগের অভাব কাজে, পড়াশোনায় এবং সামাজিক জীবনে গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করে।
সিদ্ধান্ত নেওয়া ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। ছোট থেকে বড় যেকোনো সিদ্ধান্ত। কী পরবেন, কী খাবেন, কোন কাজটি আগে করবেন এসব নিয়ে তারা দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। মস্তিষ্ক যেন জট পাকিয়ে যায়, চিন্তাভাবনা গোলমেলে হয়ে যায় এবং সঠিক পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়।
এই সমস্যা পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। চাকরিতে কর্মক্ষমতা কমে যায়, ভুল হয় এবং দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা দেখা দেয়। ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল এবং ক্যারিয়ারে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
৬. অপরাধবোধ এবং মূল্যহীনতার অনুভূতি
ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায়শই গভীর অপরাধবোধে ভোগেন। তারা মনে করেন যে সবকিছু তাদের দোষ, তারা কাউকে সুখী করতে পারছেন না, তারা একজন বোঝা। এই অপরাধবোধ অযৌক্তিক হলেও ব্যক্তির মনে গভীরভাবে শিকড় গাড়ে এবং তাদের আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়।
মূল্যহীনতার অনুভূতি আরেকটি ভয়ানক লক্ষণ। ব্যক্তি মনে করেন তার জীবনের কোনো মূল্য নেই, সে কোনো কাজে আসছে না, তার না থাকলেই বরং সবার ভালো হবে। এই ধরনের চিন্তাভাবনা অত্যন্ত বিপজ্জনক কারণ এটি আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি করে।
অনেক সময় এই অপরাধবোধ এবং মূল্যহীনতার অনুভূতি অতীতের ছোটখাটো ভুল বা ব্যর্থতা থেকে উদ্ভূত হয়, যা একজন সুস্থ মানুষ সহজেই ভুলে যেতে পারেন। কিন্তু ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তি এসব ঘটনা নিয়ে বারবার চিন্তা করেন এবং নিজেকে দোষারোপ করতে থাকেন।
এই অবস্থায় পরিবার এবং বন্ধুদের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিকে বোঝানো দরকার যে তার মূল্য আছে, তাকে ভালোবাসা হয় এবং সে গুরুত্বপূর্ণ।

৭. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং একাকীত্ব
ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে সামাজিক সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যান। বন্ধুবান্ধব, পরিবার এবং সহকর্মীদের সাথে দেখা করতে অনীহা বোধ করেন। ফোন কল এড়িয়ে যান, আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন এবং নিজেকে ঘরে বন্দি রাখেন। এই সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ডিপ্রেশনকে আরও গভীর করে।
মানুষ সামাজিক প্রাণী এবং সামাজিক সংযোগ আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন কেউ নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন, তখন তাদের মানসিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। একাকীত্ব বোধ বৃদ্ধি পায়, যা ডিপ্রেশনের একটি দুষ্টচক্র তৈরি করে, ডিপ্রেশনের কারণে একাকীত্ব এবং একাকীত্বের কারণে আরও ডিপ্রেশন।
এই বিচ্ছিন্নতা পেশাগত জীবনেও প্রভাব ফেলে। অফিসে সহকর্মীদের সাথে মিশতে পারেন না, মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতে চান না এবং টিমওয়ার্কে সমস্যা হয়। এর ফলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি থাকে, যা আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এবং ডিপ্রেশন আরও বাড়ায়।
পরিবার এবং বন্ধুদের উচিত এই ধরনের বিচ্ছিন্নতা লক্ষ্য করা এবং ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করা। জোর করে নয়, বরং ধৈর্য এবং ভালোবাসা দিয়ে তাদের কাছে পৌঁছানো দরকার।
৮. আত্মহত্যার চিন্তাভাবনা
ডিপ্রেশনের ৮টি মারাত্মক লক্ষণ এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর এবং জরুরি লক্ষণ হলো আত্মহত্যার চিন্তাভাবনা। যখন ডিপ্রেশন গভীর পর্যায়ে পৌঁছে, তখন ব্যক্তি মনে করতে শুরু করেন যে বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই, মৃত্যুই একমাত্র মুক্তি। এই ধরনের চিন্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আত্মহত্যার চিন্তাভাবনা বিভিন্ন রূপে আসতে পারে। কেউ হয়তো মৃত্যু সম্পর্কে চিন্তা করেন, কেউ আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেন এবং কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এই সমস্ত অবস্থাই অত্যন্ত গুরুতর এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করেন এবং এর একটি বড় কারণ হলো ডিপ্রেশন। তবে এই মৃত্যুগুলো প্রতিরোধযোগ্য যদি সঠিক সময়ে সনাক্ত করা যায় এবং চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ আত্মহত্যার চিন্তাভাবনা করেন, তাহলে অবিলম্বে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন। বাংলাদেশে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন হেল্পলাইন রয়েছে যেখানে সাহায্য পাওয়া যায়। মনে রাখবেন, সাহায্য চাওয়া দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং সাহসের পরিচয়।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে পেইন কিউরে (Pain Cure) রয়েছে এডভান্স ফিজিওথেরাপি যেমন: আর-টিএমএস থেরাপি, আকুপাংচার সহ আধুনিক ফিজিওথেরাপি।
বাংলাদেশের সেরা ফিজিওথেরাপি সেন্টার এর মধ্যে পেইন কিউর অন্যতম। উত্তরা অথবা বনানী শাখার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করতে, আপনি প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে রাত ৯:০০ টা পর্যন্ত +৮৮০১৭৭৪৬৭৮৬০৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।
আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর
বিস্তারিত জানুন: Best Physiotherapy Home Service in Dhaka
বিস্তারিত জানুন: Best Female Physiotherapist in Dhaka
বিস্তারিত জানুন: Expert Physiotherapy Center
বিস্তারিত জানুন: ডিপ্রেশন হলে কি কি সমস্যা হয় ও ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায়
সাধারণ জিজ্ঞাসা
মানসিক চাপ কী?
মানসিক চাপ বা স্ট্রেস হলো শরীর ও মনের এমন একটি প্রতিক্রিয়া যা কঠিন, চ্যালেঞ্জিং বা হুমকিস্বরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে তৈরি হয়। এটি শারীরিক, মানসিক বা আবেগিক চাপ হতে পারে যা দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ঘটনা যেমন কাজের চাপ, আর্থিক সমস্যা, সম্পর্কের জটিলতা বা স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে সৃষ্টি হয়। স্বল্পমেয়াদী মানসিক চাপ স্বাভাবিক এবং কখনো কখনো উপকারীও হতে পারে, তবে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে উদ্বেগ, অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা এবং মনোযোগের অভাব অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
কোন খাবার খেলে টেনশন দূর হয়?
কিছু খাবার মস্তিষ্কের রাসায়নিক পদার্থ নিয়ন্ত্রণ করে টেনশন কমাতে সাহায্য করে। ডার্ক চকলেট, বাদাম, কলা এবং চর্বিযুক্ত মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড মানসিক চাপ কমায় এবং মেজাজ ভালো করে। সবুজ শাকসবজি, দই, ওটমিল এবং সবুজ চা মস্তিষ্কে সেরোটোনিন হরমোন বৃদ্ধি করে যা মনকে প্রফুল্ল রাখে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন কমলা এবং লেবু কর্টিসল হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে টেনশন দূর করতে পারে। তবে সুষম খাবার খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, ব্যায়াম এবং পানি পান করাও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মন খারাপ থাকলে কি করা উচিৎ?
মন খারাপ থাকলে প্রথমে নিজের অনুভূতি স্বীকার করা এবং কাছের কারো সাথে মনের কথা শেয়ার করা উচিত। শারীরিক কার্যকলাপ যেমন হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে এন্ডরফিন নিঃসৃত হয় যা মেজাজ ভালো করে। প্রিয় গান শোনা, বই পড়া বা সৃজনশীল কাজে সময় কাটানো মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে আনন্দ দিতে পারে। প্রকৃতির সাথে সময় কাটানো, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘদিন মন খারাপ থাকলে বা বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শদাতার সাহায্য নেওয়া উচিত।
টেনশন কত প্রকার?
টেনশন বা মানসিক চাপ মূলত দুই প্রকার - তীব্র (Acute) এবং দীর্ঘস্থায়ী (Chronic)। তীব্র টেনশন হঠাৎ কোনো চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে তৈরি হয় যেমন পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার বা জরুরি অবস্থা এবং পরিস্থিতি শেষ হলে এটি কমে যায়। দীর্ঘস্থায়ী টেনশন দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে যা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা যেমন আর্থিক চাপ, কাজের চাপ বা পারিবারিক সমস্যার কারণে হয় এবং এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া কিছু বিশেষজ্ঞ টেনশনকে ইতিবাচক (Eustress) এবং নেতিবাচক (Distress) হিসেবেও শ্রেণিবদ্ধ করেন, ইতিবাচক টেনশন অনুপ্রেরণা দেয় যখন নেতিবাচক টেনশন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

Dr. Saiful Islam, PT, is a Consultant Physiotherapist with expertise in Orthopedics. He holds a BPT from Dhaka University, an MPT, and a Postgraduate Certification in Acupuncture from India, with specialized training in Ozone Therapy. (Best physiotherapist in Dhaka)

