ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম গুলো জানা আছে কি?

আধুনিক জীবনযাত্রার চাপ, কর্মক্ষেত্রের উদ্বেগ, এবং ব্যক্তিগত সমস্যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা এমন একটি মানসিক অবস্থা যা বর্তমানে লাখো মানুষকে প্রভাবিত করছে। তবে আশার কথা হলো, নিয়মিত ব্যায়াম ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির একটি কার্যকর এবং প্রাকৃতিক উপায়। এই ব্লগে আমরা জানবো কীভাবে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম আপনার মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে এবং কোন ধরনের ব্যায়াম সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

ডিপ্রেশন এবং ব্যায়ামের সম্পর্ক

গবেষণায় দেখা গেছে যে শারীরিক ব্যায়াম মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন নামক হরমোন নিঃসরণ করে, যা প্রাকৃতিক মুড বুস্টার হিসেবে কাজ করে। এন্ডোরফিন ব্যথা কমায় এবং একটি ইতিবাচক অনুভূতি সৃষ্টি করে। এছাড়াও, নিয়মিত ব্যায়াম সেরোটোনিন এবং ডোপামিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে, যা মানসিক স্থিতিশীলতা এবং খুশির অনুভূতি তৈরি করে। যখন আমরা ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম নিয়মিত অনুশীলন করি, তখন আমাদের মস্তিষ্কের রসায়ন পরিবর্তিত হয় এবং নেতিবাচক চিন্তাভাবনা হ্রাস পায়।

ব্যায়াম শুধুমাত্র শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, বরং এটি আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে, ঘুমের মান উন্নত করে, এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ তৈরি করে। যখন আমরা হতাশ অবস্থায় থাকি, তখন শরীর নড়াচড়া করতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু একবার শুরু করলে, ব্যায়াম একটি ইতিবাচক চক্র তৈরি করে যা ধীরে ধীরে মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটায়।

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম

কার্যকর ব্যায়াম যা ডিপ্রেশন কমাতে সাহায্য করে –

১. হাঁটা এবং জগিং

হাঁটা হলো সবচেয়ে সহজ এবং সবার জন্য উপযুক্ত একটি ব্যায়াম। প্রতিদিন ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা হালকা জগিং করলে মন ভালো হয় এবং মানসিক চাপ কমে। প্রকৃতির মাঝে হাঁটলে আরও বেশি উপকার পাওয়া যায় কারণ সবুজ পরিবেশ মনকে শান্ত করে। সকালের সূর্যালোক শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি করে যা মুড উন্নত করতে সহায়ক। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম হিসেবে হাঁটা অত্যন্ত কার্যকর কারণ এটি কোনো বিশেষ সরঞ্জাম বা দক্ষতার প্রয়োজন হয় না এবং যে কোনো বয়সের মানুষ এটি করতে পারে।

২. যোগব্যায়াম

যোগব্যায়াম শরীর এবং মনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। বিভিন্ন আসন, প্রাণায়াম এবং ধ্যান মানসিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা প্রদান করে। যোগব্যায়াম কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) এর মাত্রা কমায় এবং গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে। সূর্য দেখে যোগব্যায়াম, শবাসন, বালাসন এবং ভুজঙ্গাসন বিশেষভাবে ডিপ্রেশনের জন্য উপকারী। নিয়মিত যোগব্যায়াম অনুশীলন করলে আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং নেতিবাচক চিন্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ আসে।

৩. দৌড়ানো

দৌড়ানো একটি তীব্র কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম যা দ্রুত এন্ডোরফিন নিঃসরণ করে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত দৌড়ানো অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে। “রানার্স হাই” নামে পরিচিত একটি অনুভূতি দৌড়ানোর পরে আসে যা গভীর সুখ এবং শান্তির অনুভূতি দেয়। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম এর তালিকায় দৌড়ানো একটি শক্তিশালী বিকল্প। প্রথমে ধীরে শুরু করে ধীরে ধীরে দূরত্ব এবং গতি বাড়ানো উচিত।

৪. সাইক্লিং

সাইক্লিং একটি মজাদার এবং কম-প্রভাবশালী ব্যায়াম যা জয়েন্টের ওপর চাপ কম দেয়। বাইরে সাইক্লিং করলে প্রকৃতির সাথে সংযোগ হয় এবং মন তাজা হয়। এটি কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়। গ্রুপে সাইক্লিং করলে সামাজিক বন্ধন তৈরি হয় যা বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি কমায়। যারা একাকীত্ব অনুভব করেন তাদের জন্য সাইক্লিং ক্লাবে যোগ দেওয়া খুবই উপকারী।

সাঁতার

৫. সাঁতার

সাঁতার সম্পূর্ণ শরীরের ব্যায়াম যা একইসাথে শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। পানির মধ্যে থাকা একটি ধ্যানমূলক অভিজ্ঞতা দেয় এবং মনকে শান্ত করে। সাঁতার পেশী শক্তিশালী করে, নমনীয়তা বৃদ্ধি করে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে। ঠান্ডা পানি শরীরের প্রদাহ কমায় এবং মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। যাদের জয়েন্টের সমস্যা আছে তাদের জন্য সাঁতার একটি আদর্শ ব্যায়াম।

৬. নৃত্য

নৃত্য একটি আনন্দদায়ক এবং সৃজনশীল ব্যায়াম যা মন এবং শরীর উভয়কে সক্রিয় রাখে। সঙ্গীতের তালে নৃত্য করলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসৃত হয় যা খুশির অনুভূতি তৈরি করে। জুম্বা, বলিউড ড্যান্স, বা যেকোনো ধরনের নৃত্য মানসিক চাপ কমায় এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম হিসেবে নৃত্য বিশেষভাবে কার্যকর কারণ এটি শুধু শারীরিক নয়, আবেগজনিত প্রকাশেরও একটি মাধ্যম।

৭. শক্তি প্রশিক্ষণ

ওজন উত্তোলন বা প্রতিরোধ ব্যায়াম শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে শক্তি প্রশিক্ষণ ডিপ্রেশনের লক্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। যখন আমরা ওজন তুলি এবং পেশী শক্তিশালী করি, তখন আমরা আমাদের নিজের ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস অর্জন করি। এটি আত্মসম্মান বাড়ায় এবং নিজের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে।

৮. টাই চি

টাই চি একটি প্রাচীন চীনা মার্শাল আর্ট যা ধীর এবং ধ্যানমূলক গতিবিধির মাধ্যমে মন এবং শরীরের ভারসাম্য তৈরি করে। এটি বিশেষভাবে বয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কারণ এটি নিরাপদ এবং হালকা। টাই চি মানসিক চাপ কমায়, ভারসাম্য উন্নত করে এবং শান্তির অনুভূতি দেয়। নিয়মিত অনুশীলন করলে উদ্বেগ এবং ডিপ্রেশনের লক্ষণ হ্রাস পায়।

ডিপ্রেশনের ব্যায়াম কীভাবে শুরু করবেন?

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম শুরু করার জন্য কোনো বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করুন।

  • ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন: প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন ১০ মিনিট হাঁটা থেকে শুরু করুন। এরপর ধীরে ধীরে সময় বাড়ান।
  • পছন্দের ব্যায়াম বেছে নিন: যে ব্যায়াম করতে আপনার ভালো লাগে সেটিই করুন। জোর করে ব্যায়াম করলে তা দীর্ঘমেয়াদে টিকবে না।
  • নিয়মিত রুটিন তৈরি করুন: প্রতিদিন একই সময়ে ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন যাতে এটি একটি অভ্যাসে পরিণত হয়।
  • বন্ধু বা পরিবারের সদস্যের সাথে করুন: একসাথে ব্যায়াম করলে অনুপ্রেরণা বৃদ্ধি পায় এবং নিয়মিত থাকা সহজ হয়।
  • নিজের প্রতি সদয় হন: কিছু দিন ব্যায়াম করতে না পারলেও হতাশ হবেন না। পরের দিন আবার শুরু করুন।

ডিপ্রেশন ব্যায়ামের পাশাপাশি অন্যান্য পদক্ষেপ

ডিপ্রেশন ব্যায়ামের পাশাপাশি অন্যান্য পদক্ষেপ

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম যদিও অত্যন্ত কার্যকর, তবে এর পাশাপাশি অন্যান্য পদক্ষেপও প্রয়োজন। সঠিক পুষ্টি, পর্যাপ্ত ঘুম, এবং সামাজিক সংযোগ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে তাজা ফল, সবজি, এবং পুরো শস্যজাতীয় খাবার খান। প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। বন্ধু এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখুন এবং নিজের অনুভূতি শেয়ার করুন।

ধ্যান এবং মাইন্ডফুলনেস অনুশীলন মানসিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট নিরিবিলি বসে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করুন। যদি ডিপ্রেশনের লক্ষণ গুরুতর হয় তাহলে পেশাদার সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না। মনোবিদ বা সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যায়ামের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব

নিয়মিত ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম অনুশীলন করলে শুধুমাত্র তাৎক্ষণিকভাবে মন ভালো হয় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আপনি লক্ষ্য করবেন যে আপনার ঘুম ভালো হচ্ছে, শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নেতিবাচক চিন্তা কমছে। কয়েক মাস পর আত্মবিশ্বাস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়।

ব্যায়াম মস্তিষ্কে নতুন স্নায়ু কোষ তৈরি করে এবং স্নায়ু সংযোগ শক্তিশালী করে। এটি নিউরোপ্লাস্টিসিটি বৃদ্ধি করে যার মানে হলো মস্তিষ্ক নতুন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে এবং শিখতে আরও সক্ষম হয়। এটি জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা উন্নত করে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে।

সাফল্যের গল্প এবং অনুপ্রেরণা

বিশ্বব্যাপী হাজারো মানুষ ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম এর মাধ্যমে তাদের জীবন পরিবর্তন করেছেন। অনেক মানুষ শেয়ার করেন যে যখন তারা সবচেয়ে বেশি হতাশ ছিলেন, তখন ব্যায়াম শুরু করা তাদের জীবনে আলো নিয়ে এসেছিল। প্রথমে তাদের মনে হয়েছিল অসম্ভব, কিন্তু একটু একটু করে যখন তারা নিজেদের ধাক্কা দিয়েছিলেন, তখন পরিবর্তন আসতে শুরু করে।

একজন ব্যক্তি হয়তো বছরের পর বছর ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন এবং বিভিন্ন চিকিৎসা নিয়েছিলেন। কিন্তু যখন তিনি প্রতিদিন সকালে হাঁটা শুরু করলেন, তখন তার জীবনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে লাগলো। তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে শুরু করলেন, পাখির ডাক শুনতে পেলেন এবং অনুভব করলেন যে জীবনে এখনও অনেক সুন্দর কিছু আছে।

আরেকজন যুবক যোগব্যায়ামের মাধ্যমে তার উদ্বেগ এবং ডিপ্রেশন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। প্রথম দিকে তিনি ধ্যানে মনোনিবেশ করতে পারতেন না, কিন্তু ধৈর্য ধরে চালিয়ে যাওয়ার পর তিনি নিজের মধ্যে একটি গভীর শান্তি খুঁজে পেয়েছেন। এখন তিনি অন্যদের সাথেও তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং তাদের অনুপ্রাণিত করেন।

চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান

যখন আমরা ডিপ্রেশনে থাকি, তখন ব্যায়াম শুরু করা অত্যন্ত কঠিন মনে হতে পারে। শক্তির অভাব, অনুপ্রেরণার অভাব এবং নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়া এই বাধাগুলো তৈরি করে। কিন্তু মনে রাখবেন, প্রথম পদক্ষেপটাই সবচেয়ে কঠিন। একবার শুরু করলে পরে সহজ হতে থাকে।

যদি ঘর থেকে বের হতে না পারেন, তাহলে ঘরেই হালকা ব্যায়াম করুন। ইউটিউবে অনেক বিনামূল্যের ব্যায়াম ভিডিও আছে। যদি একা করতে না চান, তাহলে কোনো বন্ধুকে সাথে নিন বা অনলাইন ব্যায়াম কমিউনিটিতে যোগ দিন। যদি মনে হয় আপনার কোনো লক্ষ্য নেই, তাহলে খুব ছোট লক্ষ্য দিয়ে শুরু করুন যেমন আজ ৫ মিনিট হাঁটবো।

কিছু দিন ব্যায়াম বাদ পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। এতে হতাশ না হয়ে আবার শুরু করুন। মনে রাখবেন, পারফেকশনের দরকার নেই, ধারাবাহিকতাই মূল চাবিকাঠি।

সামাজিক সহায়তার গুরুত্ব

ডিপ্রেশনের সময় মানুষ প্রায়ই বিচ্ছিন্ন বোধ করে এবং সামাজিক সংযোগ এড়িয়ে যায়। কিন্তু সামাজিক সহায়তা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম গ্রুপে যোগ দেওয়া, ফিটনেস ক্লাসে অংশ নেওয়া বা কোনো খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করা সামাজিক বন্ধন তৈরি করে। যখন আমরা অন্যদের সাথে ব্যায়াম করি, তখন একটি সম্প্রদায়ের অংশ হওয়ার অনুভূতি হয় যা একাকীত্ব কমায়।

পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। তাদের জানান যে আপনি কী অনুভব করছেন। মনে রাখবেন, সাহায্য চাওয়া দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং শক্তির লক্ষণ।

বৈজ্ঞানিক গবেষণার সমর্থন

অসংখ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রমাণ করেছে যে ব্যায়াম ডিপ্রেশনের একটি কার্যকর চিকিৎসা। ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত ব্যায়াম অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ওষুধের মতোই কার্যকর এবং পুনরায় ডিপ্রেশনে ফেরার হার কম। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকরা দেখেছেন যে প্রতিদিন ১৫ মিনিট দৌড়ানো বা এক ঘন্টা হাঁটা মেজর ডিপ্রেশনের ঝুঁকি ২৬% কমায়।

মস্তিষ্কের ইমেজিং স্টাডি দেখিয়েছে যে ব্যায়াম হিপোক্যাম্পাসের আকার বৃদ্ধি করে, যা স্মৃতি এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়ী। এটি প্রদাহ কমায় এবং মস্তিষ্কে নতুন রক্তনালী তৈরি করে। এই সমস্ত শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ডিপ্রেশনের লক্ষণ কমাতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশের সেরা ফিজিওথেরাপি সেন্টার

ব্যায়াম করে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি না পেলে পেইন কিউরে (Pain Cure) রয়েছে এডভান্স ফিজিওথেরাপি যেমন: আর-টিএমএস থেরাপি, আকুপাংচার সহ আধুনিক ফিজিওথেরাপি।

বাংলাদেশের সেরা ফিজিওথেরাপি সেন্টার এর মধ্যে পেইন কিউর অন্যতম। উত্তরা অথবা বনানী শাখার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করতে, আপনি প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে রাত ৯:০০ টা পর্যন্ত +৮৮০১৭৭৪৬৭৮৬০৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর

 

বিস্তারিত জানুন: Best Physiotherapy Home Service in Dhaka

বিস্তারিত জানুন: ডিপ্রেশনের ৮টি মারাত্মক লক্ষণ

বিস্তারিত জানুন: Expert Physiotherapy Center

বিস্তারিত জানুন: ডিপ্রেশন হলে কি কি সমস্যা হয় ও ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায়

 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম, যোগব্যায়াম বা ধ্যান করা উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং পরিবার-বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো সাহায্য করে। প্রিয় কাজ, শখ বা বিনোদনমূলক কাজে সময় দিলে মন ভালো থাকে। প্রয়োজনে মনোবিদ বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অতিরিক্ত টেনশন থেকে মুক্তি পেতে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং মেডিটেশন করুন। নিয়মিত হাঁটা, খেলাধুলা বা শারীরিক কসরত মন হালকা করে। প্রিয়জনদের সাথে খোলামেলা কথা বলুন এবং নেতিবাচক চিন্তা এড়িয়ে ইতিবাচক দিকে মনোযোগ দিন। প্রয়োজনে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিন।

হতাশা ও অতিরিক্ত চিন্তা দূর করতে দৈনন্দিন রুটিন মেনে চলুন এবং ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান। প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটান, নিজের অনুভূতি শেয়ার করুন এবং যা ভালো লাগে তা করুন। দীর্ঘমেয়াদী হতাশায় অবশ্যই মনোবিদ বা থেরাপিস্টের সাহায্য নিন।

মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, যোগাসন বা হাঁটাহাঁটি করুন। পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পানি পান করুন নিয়মিত। প্রিয়জনদের সাথে আড্ডা, গান শোনা, বই পড়া বা শখের কাজে সময় দিন। প্রয়োজনে দ্বিধা না করে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

বেশি দুশ্চিন্তা করলে শারীরিকভাবে মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়, হজমের সমস্যা এবং ক্লান্তি দেখা দেয়। এটি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণ হতে পারে। মানসিকভাবে ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের অভাব, বিরক্তি এবং বিষণ্নতা তৈরি হয়। দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তা জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়।

1 thought on “ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম গুলো জানা আছে কি?”

  1. রেজাউল করিম মির

    অসাধারণ তথ্যবহুল পোস্ট! ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম সম্পর্কে জানা সত্যিই খুব জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত কার্যকর। যোগব্যায়াম, হাঁটা, এবং হালকা ব্যায়াম মনকে প্রশান্ত রাখতে এবং ডিপ্রেশন কমাতে সাহায্য করে। এই বিষয়ে আরও তথ্য শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি অনেকেই এই পোস্ট থেকে উপকৃত হবেন এবং ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ব্যায়াম নিয়মিত অনুশীলন করে সুস্থ জীবন যাপন করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *