বেলস পালসি হলে করণীয় এবং বেলস পালসি কি ভালো হয়

বেলস পালসি হলে করণীয় এবং বেলস পালসি কি ভালো হয়?

বেলস পালসি একটি স্নায়বিক সমস্যা যা মুখের একপাশে হঠাৎ দুর্বলতা বা প্যারালাইসিস সৃষ্টি করে। অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রশ্ন করেন বেলস পালসি কি ভালো হয়? এবং বেলস পালসি হলে করণীয় কী? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।

বেলস পালসি কি এবং কেন হয়

বেলস পালসি কি এবং কেন হয়?

বেলস পালসি হলো মুখের সপ্তম ক্র্যানিয়াল নার্ভ বা ফেসিয়াল নার্ভের প্রদাহজনিত সমস্যা। এই স্নায়ু মুখের পেশীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং যখন এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন মুখের একপাশে হঠাৎ দুর্বলতা দেখা দেয়। এর ফলে রোগী হয়তো চোখ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পারেন না, হাসলে মুখ একদিকে বেঁকে যায়, কপাল কুঁচকাতে সমস্যা হয়, এবং খাবার খেতে বা কথা বলতে অসুবিধা হতে পারে।

বেলস পালসির সঠিক কারণ এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ভাইরাল ইনফেকশন (বিশেষত হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস), রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যা, ডায়াবেটিস, গর্ভাবস্থা, এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে

বেলস পালসি কি ভালো হয়

বেলস পালসি কি ভালো হয়?

বেলস পালসি কি ভালো হয় এই প্রশ্নের উত্তর হলো হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেলস পালসি সম্পূর্ণ ভালো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ রোগী কোনো চিকিৎসা ছাড়াই তিন সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হতে শুরু করেন এবং তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান। তবে যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, তত দ্রুত এবং সম্পূর্ণভাবে সুস্থতা লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষত যেসব রোগীর সম্পূর্ণ প্যারালাইসিস হয়েছে বা যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের সুস্থ হতে একটু বেশি সময় লাগতে পারে। তবে সঠিক চিকিৎসা এবং ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে তারাও ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগিয়ে যেতে পারেন। প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি রোগী যথাযথ চিকিৎসা নিলে সম্পূর্ণ বা প্রায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

তবে একটি ছোট অংশের রোগীর ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা থেকে যেতে পারে, যেমন মুখের পেশীতে দুর্বলতা, অনিচ্ছাকৃত মুখভঙ্গি, বা চোখ থেকে পানি পড়ার সমস্যা। এই কারণেই বেলস পালসি কি ভালো হয় এই প্রশ্নের সাথে সাথে সঠিক এবং সময়মত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বেলস পালসি হলে করণীয়

বেলস পালসি হলে করণীয়

বেলস পালসি হলে করণীয় বিষয়ে সচেতনতা থাকা প্রতিটি রোগীর জন্য অত্যাবশ্যক। নিচে বেলস পালসি হলে যা করা উচিত তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

বেলস পালসির লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই একজন নিউরোলজিস্ট বা সাধারণ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রোগের প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করলে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। বেলস পালসি হলে করণীয় এর মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

চিকিৎসক রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করবেন এবং প্রয়োজনে কিছু পরীক্ষা যেমন এমআরআই বা সিটি স্ক্যান করতে বলতে পারেন, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি স্ট্রোক বা অন্য কোনো গুরুতর সমস্যা নয়।

ওষুধের নিয়মিত সেবন

চিকিৎসক সাধারণত স্টেরয়েড (প্রেডনিসোলোন) এবং অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ (যেমন অ্যাসাইক্লোভির) দিয়ে থাকেন। এই ওষুধগুলো প্রদাহ কমাতে এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। স্টেরয়েড সাধারণত রোগের প্রথম সপ্তাহে সবচেয়ে কার্যকর এবং এটি স্নায়ুর ফোলাভাব কমিয়ে দেয়। নিয়মিত এবং সঠিক মাত্রায় ওষুধ সেবন করা অত্যন্ত জরুরি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।

চোখের যত্ন নেওয়া

বেলস পালসিতে আক্রান্ত পাশের চোখ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ নাও হতে পারে, যার ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার এবং কর্নিয়ায় ক্ষত বা ইনফেকশনের ঝুঁকি থাকে। বেলস পালসি হলে করণীয় হিসেবে চোখের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দিনের বেলায় প্রতি ঘণ্টায় কৃত্রিম চোখের ড্রপ (আর্টিফিশিয়াল টিয়ার্স) ব্যবহার করুন এবং রাতে ঘুমানোর সময় চোখ টেপ দিয়ে বন্ধ করে রাখুন অথবা চোখের ময়েশ্চারাইজিং মলম ব্যবহার করুন। বাইরে বের হওয়ার সময় সানগ্লাস পরুন যাতে ধুলাবালি ও বাতাস থেকে চোখ সুরক্ষিত থাকে। যদি চোখে কোনো লালভাব, ব্যথা বা দৃষ্টির পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তাহলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

ফিজিওথেরাপি এবং মুখের ব্যায়াম

ফিজিওথেরাপি বেলস পালসি কি ভালো হয় এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে মুখের পেশী শক্তিশালী করার ব্যায়াম করুন। এই ব্যায়ামগুলো মুখের পেশীর রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, পেশীর দুর্বলতা কমায় এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

কার্যকর মুখের ব্যায়ামগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • চোখের ব্যায়াম: চোখ জোরে বন্ধ করে আবার খোলার চেষ্টা করুন। এটি ১০-১৫ বার পুনরাবৃত্তি করুন।
  • ভ্রুর ব্যায়াম: ভ্রু উপরে তুলুন এবং নিচে নামান। এটি দিনে কয়েকবার করুন।
  • হাসির ব্যায়াম: মুখের কোণ টেনে হাসার চেষ্টা করুন, তারপর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন।
  • গাল ফুলানো: গাল ফুলিয়ে ৫-১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর ধীরে ধীরে বাতাস ছাড়ুন।
  • ঠোঁটের ব্যায়াম: ঠোঁট গোল করে সামনের দিকে বাড়ান, তারপর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরুন। এছাড়া ঠোঁট বন্ধ করে একপাশ থেকে অন্যপাশে নাড়ান।
  • নাক কুঁচকানো: নাক কুঁচকে ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর শিথিল করুন।
  • মাসাজ থেরাপি: মুখের আক্রান্ত পাশে হালকা করে মাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং পেশী শিথিল হয়।

এই ব্যায়ামগুলো দিনে তিন থেকে চারবার নিয়মিত করলে পেশীর কার্যকারিতা দ্রুত ফিরে আসে। তবে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং সবসময় ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করুন।

পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ

ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, বিশেষ করে ভিটামিন বি১, বি৬ এবং বি১২ স্নায়ুর সুস্থতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বেলস পালসি হলে করণীয় এর অংশ হিসেবে পুষ্টিকর খাবার যেমন সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মুরগি, ডিম, দুধ, দই, বাদাম এবং গোটা শস্য খাওয়া উচিত।

ভিটামিন সি এবং ই এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং স্নায়ুকে রক্ষা করে। তাই লেবু, কমলা, আমলকী, পেয়ারা এবং অন্যান্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খান। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন তৈলাক্ত মাছ (স্যামন, টুনা, ইলিশ), আখরোট এবং চিয়া সিড স্নায়ুর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

এছাড়াও চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ট্যাবলেট বা অন্যান্য সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

মানসিক চাপ কমান

মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে। তাই বেলস পালসি কি ভালো হয় এই প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর পেতে হলে মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিতে হবে।

পর্যাপ্ত ঘুম নিন (প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা), বিশ্রাম নিন এবং ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখুন। যোগব্যায়াম, মেডিটেশন এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটান এবং তাদের সাথে আপনার অনুভূতি শেয়ার করুন। প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে দ্বিধা করবেন না।

ধূমপান এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন

ধূমপান এবং অ্যালকোহল স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে এবং সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই বেলস পালসি হলে করণীয় হিসেবে এগুলো সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত। ধূমপান রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয় এবং স্নায়ুতে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত করে, যা রোগ নিরাময়ে বিলম্ব ঘটায়।

নিয়মিত ফলোআপ করুন

চিকিৎসক যে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেবেন সেই অনুযায়ী নিয়মিত ফলোআপ করা জরুরি। এতে রোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা পরিবর্তন করা যায়। সাধারণত প্রথম সপ্তাহে এক বা দুইবার, তারপর মাসিক ভিত্তিতে চিকিৎসক দেখানো প্রয়োজন হতে পারে। যদি কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দেয় বা উন্নতি না হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

গরম বা ঠান্ডা সেঁক

কিছু ক্ষেত্রে মুখের আক্রান্ত পাশে হালকা গরম সেঁক দিলে পেশী শিথিল হয় এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। তবে এটি করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে নিংড়ে নিয়ে ১০-১৫ মিনিটের জন্য আক্রান্ত স্থানে রাখতে পারেন, দিনে দুই থেকে তিনবার।

পেইন কিউরে বেলস পালসির আধুনিক চিকিৎসা

পেইন কিউরে বেলস পালসির আধুনিক চিকিৎসা

বেলস পালসি থেকে দ্রুত এবং সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য শুধু ওষুধ এবং ঘরোয়া ব্যায়ামই যথেষ্ট নয়, বরং আধুনিক ও কার্যকর ফিজিওথেরাপি এবং পেইন ম্যানেজমেন্ট চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক চিকিৎসা ও আস্থার সমন্বয়ে গঠিত পেইন কিউর (Pain Cure) একটি উন্নত পেইন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার। দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল শারীরিক ব্যথার নিরাময়ে আমরা দিচ্ছি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সেবা।

পেইন কিউরে বেলস পালসি হলে করণীয় হিসেবে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এখানে আমরা ওজোন থেরাপি, ওজোন সওনা, ইলেক্ট্রো আকুপাংচার, আর-টি-এম-এস থেরাপি, ম্যানুয়াল ফিজিওথেরাপি, টেকার থেরাপি, ক্রায়ো থেরাপি, শকওয়েভ থেরাপি ও PEMF (পালস ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড থেরাপি) প্রযুক্তি ব্যবহার করে কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে।

পেইন কিউরে বেলস পালসির জন্য উপলব্ধ চিকিৎসা

১. ইলেক্ট্রো আকুপাংচার: এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট আকুপাংচার পয়েন্টে হালকা বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা প্রয়োগ করা হয়, যা মুখের স্নায়ু এবং পেশীর কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। এটি রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং প্রদাহ কমায়।

২. আর-টি-এম-এস থেরাপি (Repetitive Transcranial Magnetic Stimulation): এই আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষে চুম্বকীয় উদ্দীপনা প্রদান করে, যা স্নায়ুর পুনর্গঠন ও নিরাময় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পারে।

৩. ম্যানুয়াল ফিজিওথেরাপি: অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টরা মুখের পেশীতে বিশেষভাবে ডিজাইন করা ম্যানুয়াল থেরাপি এবং মুখের ব্যায়াম শেখান, যা পেশীর শক্তি এবং নমনীয়তা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

৪. পালস ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড থেরাপি (PEMF): এই থেরাপি কোষের পর্যায়ে নিরাময় প্রক্রিয়া সক্রিয় করে এবং স্নায়ুর পুনর্জন্ম ত্বরান্বিত করে। এটি প্রদাহ কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।

৫. ওজোন থেরাপি: ওজোন থেরাপি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায় এবং দ্রুত নিরাময় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।

৬. ক্রায়ো থেরাপি: নিয়ন্ত্রিত শীতল তাপমাত্রা ব্যবহার করে এই চিকিৎসা প্রদাহ কমায় এবং ব্যথা উপশম করে।

৭. শকওয়েভ থেরাপি: শকওয়েভ থেরাপি আক্রান্ত স্থানে বিশেষ ধরনের শক্তি তরঙ্গ পাঠিয়ে টিস্যু পুনর্গঠন এবং নিরাময় ত্বরান্বিত করে।

এছাড়াও পেইন কিউরে ঘরোয়া ব্যায়াম, ব্যথা প্রতিরোধে পরামর্শ এবং চিকিৎসকদের মতামতও তুলে ধরা হয়। আমাদের অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং ফিজিওথেরাপিস্টরা প্রতিটি রোগীর জন্য ব্যক্তিগত পরিকল্পনা তৈরি করেন এবং সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদান করেন।

বেলস পালসির জটিলতা এড়ানোর উপায়

যদিও বেশিরভাগ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান, তবুও কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। বেলস পালসি হলে করণীয় এর অংশ হিসেবে এই জটিলতাগুলো এড়ানোর জন্য:

  • সময়মত চিকিৎসা শুরু করুন
  • নিয়মিত ফিজিওথেরাপি চালিয়ে যান
  • চিকিৎসকের সব নির্দেশনা সঠিকভাবে মেনে চলুন
  • চোখের যত্নে অবহেলা করবেন না
  • অতিরিক্ত চাপ বা আঘাত থেকে মুখকে রক্ষা করুন

সম্ভাব্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে অসম্পূর্ণ সুস্থতা, অনিচ্ছাকৃত মুখের নড়াচড়া, স্বাদ গ্রহণে সমস্যা, এবং চোখের শুষ্কতা। তবে সঠিক চিকিৎসা নিলে এই জটিলতাগুলোর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

বেলস পালসির প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

যদিও বেলস পালসি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবুও কিছু পদক্ষেপ ঝুঁকি কমাতে পারে:

  • সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
  • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
  • ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
  • ভাইরাল ইনফেকশন থেকে সুরক্ষিত থাকুন
  • ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করুন
  • শীতকালে ঠান্ডা বাতাস থেকে মুখ সুরক্ষিত রাখুন

শেষ কথা (বেলস পালসি হলে করণীয় এবং বেলস পালসি কি ভালো হয়?)

বেলস পালসি কি ভালো হয় এবং বেলস পালসি হলে করণীয় এই দুটি প্রশ্নের উত্তর এখন আপনার জানা। মনে রাখবেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেলস পালসি সম্পূর্ণ ভালো হয় যদি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া হয়। দ্রুত চিকিৎসা, নিয়মিত ওষুধ সেবন, ফিজিওথেরাপি, এবং জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে এই রোগ থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

পেইন কিউরের অত্যাধুনিক ওজোন থেরাপি, ইলেক্ট্রো আকুপাংচার, rTMS এবং PEMF থেরাপি বেলস পালসি নিরাময়ে যুগান্তকারী সাফল্য দেখিয়েছে। এই চিকিৎসাগুলো মূলত স্নায়ুর দ্রুত পুনর্গঠনে সহায়তা করে, ফলে রোগী খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন।

যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ বেলস পালসিতে আক্রান্ত হন, তাহলে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং এই নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করুন। পেইন কিউরের মতো বিশেষায়িত কেন্দ্রে উন্নত চিকিৎসা নিলে আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সুস্থ হওয়া সম্ভব।

মনে রাখবেন, ধৈর্য ধরে চিকিৎসা চালিয়ে গেলে সম্পূর্ণ সুস্থতা অর্জন সম্ভব। বেলস পালসি একটি সাময়িক সমস্যা এবং সঠিক চিকিৎসায় এটি সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য। আশা হারাবেন না এবং নিয়মিত আপনার চিকিৎসা পরিকল্পনা মেনে চলুন। পেইন কিউর সবসময় আপনার সুস্থতার পথে আপনার পাশে আছে।

বাংলাদেশের সেরা ফিজিওথেরাপি সেন্টার

বাংলাদেশের সেরা ফিজিওথেরাপি সেন্টার হিসেবে পেইন কিউর একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। উত্তরা কিংবা বনানী শাখায় চিকিৎসা সেবা নিতে চাইলে প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে রাত ৯:০০ টা পর্যন্ত +৮৮০১৭৭৪৬৭৮৬০৪ নম্বরে যোগাযোগ করে সহজেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে পারবেন।

আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর

 

বিস্তারিত জানুন: বেলস পালসি কেন হয়, বেলস পালসি ব্যায়াম ও বেলস পালসি থেরাপি

বিস্তারিত জানুন: Best Physiotherapy Home Service in Dhaka

বিস্তারিত জানুন: Expert Physiotherapy Center

 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বেলস পালসিতে খাবারে বিশেষ কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে কিছু বিষয় এড়ানো ভালো। অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, জাঙ্ক ফুড, এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার সীমিত করা উচিত কারণ এগুলো প্রদাহ বাড়াতে পারে। খুব শক্ত বা চিবানো কঠিন খাবার এড়িয়ে নরম খাবার খাওয়া সুবিধাজনক। ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়ানো উচিত কারণ এগুলো স্নায়ুর পুনরুদ্ধারে বাধা দিতে পারে।

বেলস পালসির মূল লক্ষণ হলো মুখের একপাশ হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা ঝুলে পড়া। আক্রান্ত দিকের চোখ বন্ধ করতে সমস্যা, মুখ বাঁকা হয়ে যাওয়া, কথা বলা বা হাসতে অসুবিধা হতে পারে। কানের পিছনে ব্যথা, স্বাদ নিতে সমস্যা, চোখে পানি আসা বা শুষ্কতা এবং শব্দের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে। লক্ষণগুলো সাধারণত হঠাৎ শুরু হয় এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছায়।

হ্যাঁ, বেলস পালসি অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। প্রায় ৭০-৮০% রোগী কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ৩ সপ্তাহ থেকে ৩ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে দ্রুত সুস্থতা ও জটিলতা এড়াতে প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্টেরয়েড ও অন্যান্য চিকিৎসা নেওয়া উত্তম। কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে ৬ মাস বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।

বেলস পালসি সরাসরি দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে না, তবে চোখের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। আক্রান্ত দিকের চোখ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না হওয়ায় চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া এবং কর্নিয়ায় ক্ষত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। চোখে পানি আসা বা অতিরিক্ত শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা এবং আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে। চোখের সুরক্ষায় কৃত্রিম চোখের পানি ব্যবহার, রাতে চোখ ঢেকে ঘুমানো এবং নিয়মিত চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি।

বেলস পালসি সাধারণত কাঁধে ব্যথা সৃষ্টি করে না, কারণ এটি মুখের স্নায়ুর (ফেসিয়াল নার্ভ) সমস্যা। তবে কানের পিছনে বা চোয়ালের কাছে ব্যথা হতে পারে যা কখনও কখনও ঘাড় পর্যন্ত ছড়াতে পারে। যদি কাঁধে ব্যথা থাকে, তবে তা সম্ভবত অন্য কোনো কারণে বা শরীরের ভারসাম্যহীনতার জন্য হতে পারে। কাঁধে তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বেলস পালসির প্রথম লক্ষণ সাধারণত কানের পিছনে বা চোয়ালের কাছে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি, যা মুখের দুর্বলতা শুরু হওয়ার ১-২ দিন আগে দেখা দিতে পারে। এরপর মুখের একপাশ হঠাৎ অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, মুখ বাঁকা হওয়া বা ঝুলে পড়া লক্ষণ দেখা দেয়। কখনও কখনও প্রথম লক্ষণ হিসেবে স্বাদ নিতে সমস্যা, চোখ বন্ধ করতে অসুবিধা বা লালা ঝরতে পারে। লক্ষণগুলো দ্রুত বিকশিত হয় এবং ৪৮-৭২ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *