কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে

কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে?

Table of Contents

হাত পায়ে জ্বালাপোড়া একটি অস্বস্তিকর সমস্যা যা অনেকেই অনুভব করেন। এই সমস্যার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, তবে সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো ভিটামিনের ঘাটতি। কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে এই প্রশ্নের উত্তর জানা অত্যন্ত জরুরি কারণ সঠিক ভিটামিন সম্পর্কে জানলে আপনি সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

ভিটামিন বি-১২ এর অভাবজনিত সমস্যা

ভিটামিন বি-১২ এর অভাবজনিত সমস্যা

কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে? এই প্রশ্নের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তর হলো ভিটামিন বি-১২। ভিটামিন বি-১২ আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। এই ভিটামিনের অভাব হলে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি নামক একটি অবস্থা সৃষ্টি হয় যা হাত পায়ে জ্বালাপোড়া, ঝিনঝিন করা এবং অসাড় ভাব তৈরি করে।

ভিটামিন বি-১২ প্রধানত প্রাণিজ খাবারে পাওয়া যায়। মাংস, মাছ, ডিম, দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবারে এই ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে থাকে। যারা নিরামিষভোজী বা ভেগান, তাদের ক্ষেত্রে বি-১২ এর ঘাটতি বেশি দেখা যায়। এছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেও এই সমস্যা বেশি হয় কারণ তাদের শরীরে খাবার থেকে বি-১২ শোষণের ক্ষমতা কমে যায়।

ভিটামিন বি-৬ এর গুরুত্ব

কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে এই বিষয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন হলো বি-৬ বা পাইরিডক্সিন। এই ভিটামিন স্নায়ু সংকেত প্রেরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন বি-৬ এর অভাবে স্নায়ুর কার্যকারিতা ব্যাহত হয় এবং হাত পায়ে জ্বালাপোড়া অনুভূতি সৃষ্টি হতে পারে।

ভিটামিন বি-৬ এর ভালো উৎস হলো মুরগির মাংস, মাছ, আলু, ছোলা, কলা এবং বিভিন্ন ধরনের বাদাম। তবে মনে রাখতে হবে যে অতিরিক্ত বি-৬ গ্রহণও স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে, তাই সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিনের ভূমিকা

কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে এই প্রশ্নের আরেকটি উত্তর হলো ভিটামিন বি-১। থায়ামিন নামে পরিচিত এই ভিটামিন স্নায়ুকোষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হতে পারে যার একটি প্রধান লক্ষণ হলো হাত পায়ে জ্বালাপোড়া এবং ব্যথা।

ভিটামিন বি-১ পাওয়া যায় শস্যদানা, বাদাম, মটরশুঁটি, শুকরের মাংস এবং খামিরে। যারা অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করেন তাদের ক্ষেত্রে থায়ামিনের ঘাটতি বেশি দেখা যায় কারণ অ্যালকোহল এই ভিটামিনের শোষণে বাধা দেয়।

ভিটামিন ই এর অভাবজনিত প্রভাব

অনেকেই জানতে চান কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে এবং এর উত্তরে ভিটামিন ই একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ভিটামিন ই একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা স্নায়ুকোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। এর অভাবে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাত পায়ে অসাড়তা ও জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে।

ভিটামিন ই এর ভালো উৎস হলো বাদাম, বীজ, সবুজ শাকসবজি, উদ্ভিজ্জ তেল এবং অ্যাভোকাডো। যদিও ভিটামিন ই এর ঘাটতি তুলনামূলকভাবে বিরল, তবুও যাদের ফ্যাট শোষণে সমস্যা আছে তাদের এই ঘাটতি হতে পারে।

হাত পা জ্বালাপোড়ার অন্যান্য লক্ষণ

হাত পা জ্বালাপোড়ার অন্যান্য লক্ষণ

কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে এটি জানার পাশাপাশি এই সমস্যার সাথে যুক্ত অন্যান্য লক্ষণগুলো চিনতে পারা জরুরি। ভিটামিনের ঘাটতিজনিত হাত পা জ্বালাপোড়ার সাথে সাথে আরও কিছু লক্ষণ দেখা যেতে পারে যেমন:

  • হাত পায়ে ঝিনঝিন করা বা সূঁচ ফোটার মতো অনুভূতি
  • অসাড়তা বা সংবেদনশীলতা কমে যাওা
  • দুর্বলতা এবং ভারসাম্যহীনতা
  • পেশীতে খিঁচুনি বা ব্যথা
  • হাঁটাচলায় অসুবিধা
  • ক্লান্তি এবং অবসাদ
  • ত্বকের রঙ পরিবর্তন
  • স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা মানসিক বিভ্রান্তি

এই লক্ষণগুলো যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

হাত পা জ্বালাপোড়ার রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়া

কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে তা নির্ধারণ করতে চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন। সাধারণত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ভিটামিনের মাত্রা নির্ণয় করা হয়। বিশেষ করে ভিটামিন বি-১২, বি-৬, বি-১ এবং ভিটামিন ই এর মাত্রা পরীক্ষা করা হয়।

এছাড়াও চিকিৎসক আপনার চিকিৎসা ইতিহাস, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার ধরন সম্পর্কে জানতে চাইবেন। কিছু ক্ষেত্রে নার্ভ কন্ডাকশন স্টাডি বা ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি (EMG) করার প্রয়োজন হতে পারে যা স্নায়ুর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে।

হাত পা জ্বালাপোড়ার চিকিৎসা এবং প্রতিকার

হাত পা জ্বালাপোড়ার চিকিৎসা এবং প্রতিকার

কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে তা জানার পর সঠিক চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য হলো ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করা এবং লক্ষণগুলো কমানো।

সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ

ভিটামিনের মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসক সাপ্লিমেন্ট নির্ধারণ করতে পারেন। ভিটামিন বি-১২ এর ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার ট্যাবলেট বা ইনজেকশন দেওয়া হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে নিয়মিত ইনজেকশন প্রয়োজন হয় বিশেষত যাদের শোষণ সমস্যা আছে।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন

কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে এই সমস্যা সমাধানে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার যোগ করতে হবে:

  • ভিটামিন বি-১২ এর জন্য: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, পনির এবং ফরটিফাইড সিরিয়াল
  • ভিটামিন বি-৬ এর জন্য: মুরগির মাংস, মাছ, আলু, কলা, ছোলা এবং সূর্যমুখী বীজ
  • ভিটামিন বি-১ এর জন্য: বাদামি চাল, শস্যদানা, মটরশুঁটি এবং মসুর ডাল
  • ভিটামিন ই এর জন্য: বাদাম, সবুজ শাকসবজি, সূর্যমুখী তেল এবং অ্যাভোকাডো

জীবনযাত্রার পরিবর্তন

নিয়মিত ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং স্নায়ুর স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে। হাঁটা, সাঁতার, যোগব্যায়াম বা হালকা স্ট্রেচিং উপকারী হতে পারে। অ্যালকোহল এবং ধূমপান পরিহার করা উচিত কারণ এগুলো ভিটামিনের শোষণে বাধা দেয় এবং স্নায়ুর ক্ষতি করে।

পেইন কিউর সেন্টারে বিশেষায়িত থেরাপি সেবা

পেইন কিউর (Pain Cure) একটি আধুনিক ও বিশ্বস্ত পেইন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার, যেখানে নানা ধরনের শারীরিক ব্যথার জন্য উন্নত ও এডভান্স চিকিৎসা প্রদান করা হয়। হাত পা জ্বালাপোড়া এবং স্নায়ুজনিত ব্যথার চিকিৎসায় পেইন কিউর বিশেষায়িত থেরাপি প্রদান করে থাকে।

পেইন কিউরে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক থেরাপি সেবা পাওয়া যায়:

  • ওজোন থেরাপি: এই থেরাপি রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। হাত পায়ে জ্বালাপোড়া কমাতে এটি বিশেষভাবে কার্যকর।
  • ওজোন সওনা: শরীরের টক্সিন দূর করে এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে। এটি সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতা বৃদ্ধি করে।
  • ইলেক্ট্রো আকুপাংচার: প্রাচীন চীনা চিকিৎসা পদ্ধতির আধুনিক রূপ যা স্নায়ু উদ্দীপিত করে এবং ব্যথা উপশম করে। হাত পা জ্বালাপোড়ার জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী।
  • আর-টি-এম-এস থেরাপি: রিপিটিটিভ ট্রান্সক্র্যানিয়াল ম্যাগনেটিক স্টিমুলেশন স্নায়ুতন্ত্রকে পুনর্গঠন করতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা কমায়।
  • ম্যানুয়াল ফিজিওথেরাপি: প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টদের হাতের মাধ্যমে চিকিৎসা যা রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং পেশীর নমনীয়তা বাড়ায়।
  • টেকার থেরাপি: গভীর টিস্যু ম্যাসাজ এবং স্নায়ু মুক্তকরণ কৌশল যা স্নায়ুতন্ত্রের উপর চাপ কমায়।
  • ক্রায়ো থেরাপি: ঠান্ডা থেরাপির মাধ্যমে প্রদাহ কমানো এবং ব্যথা উপশম করা হয়।
  • শকওয়েভ থেরাপি: শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে কোষের পুনর্জন্ম ত্বরান্বিত করে এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
  • পালস ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড থেরাপি (PEMF): তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্রের মাধ্যমে কোষের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং স্নায়ু পুনর্জীবিত করতে সাহায্য করে।

ঘরোয়া ব্যায়াম এবং পরামর্শ

পেইন কিউরে শুধুমাত্র ক্লিনিক ভিত্তিক চিকিৎসাই নয়, ঘরোয়া ব্যায়াম এবং ব্যথা প্রতিরোধে পরামর্শও প্রদান করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে ব্যক্তিগত পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

পেইন কিউরের লক্ষ্য হল সবার কাছে ব্যথামুক্ত, সুস্থ ও সচেতন জীবনযাপনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে এই ধরনের সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা পেইন কিউরের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সমন্বিত চিকিৎসা পেতে পারেন।

হাত পা জ্বালাপোড়ার প্রতিরোধ এবং সচেতনতা

হাত পা জ্বালাপোড়ার প্রতিরোধ এবং সচেতনতা

কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে এই সম্পর্কে সচেতন থাকলে আপনি সমস্যা হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করতে পারবেন। প্রতিরোধের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ:

সুষম খাদ্য গ্রহণ

প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়া নিশ্চিত করুন যাতে সব ধরনের ভিটামিন এবং খনিজ পাওয়া যায়। রঙিন ফল ও সবজি, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার, শস্যদানা এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। বিশেষ করে যাদের বয়স ৫০ এর উপরে বা যাদের পরিবারে ভিটামিনের ঘাটতি জনিত সমস্যার ইতিহাস আছে তাদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।

ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপের জন্য বিশেষ সতর্কতা

কিছু মানুষের ভিটামিনের ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে:

  • নিরামিষভোজী এবং ভেগান
  • বয়স্ক ব্যক্তি
  • গর্ভবতী এবং স্তন্যদায়ী মা
  • যাদের হজমের সমস্যা আছে (যেমন ক্রোনস ডিজিজ, সিলিয়াক ডিজিজ)
  • যারা নিয়মিত অ্যালকোহল পান করেন
  • যারা নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করেন (যেমন মেটফরমিন, প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর)

এই গ্রুপের মানুষদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং চিকিৎসকের সাথে নিয়মিত পরামর্শ করা উচিত।

হাত পা জ্বালাপোড়ার জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব

কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে এই সমস্যা যদি অবহেলা করা হয় তাহলে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। দীর্ঘদিন ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে স্থায়ী স্নায়ু ক্ষতি হতে পারে যা অপরিবর্তনীয়।

স্নায়ুক্ষয়রোগ

দীর্ঘমেয়াদী ভিটামিন বি-১২ এর অভাব পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি থেকে আরও গুরুতর স্নায়ুক্ষয়রোগে পরিণত হতে পারে। এতে হাঁটাচলায় অসুবিধা, ভারসাম্যহীনতা এবং এমনকি পক্ষাঘাত পর্যন্ত হতে পারে।

জ্ঞানীয় সমস্যা

ভিটামিন বি-১২ এর অভাব মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। স্মৃতিশক্তি হ্রাস, বিভ্রান্তি, ডিমেনশিয়া এবং অন্যান্য জ্ঞানীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রক্তস্বল্পতা

বি ভিটামিনের ঘাটতি বিশেষত বি-১২ এবং ফোলেটের অভাব মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এতে ক্লান্তি, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট এবং ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যায়।

হাত পা জ্বালাপোড়ার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে এই প্রশ্নের উত্তর জটিল হতে পারে কারণ একাধিক ভিটামিনের ঘাটতি একসাথে থাকতে পারে। তাই স্ব-চিকিৎসা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

একজন পুষ্টিবিদ আপনার খাদ্যাভ্যাস মূল্যায়ন করে সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন। নিউরোলজিস্ট স্নায়ুর অবস্থা মূল্যায়ন করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।

হাত পা জ্বালাপোড়ার শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা

শিশুদের ক্ষেত্রেও কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বেড়ে ওঠার সময় পর্যাপ্ত ভিটামিন পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন ফল, সবজি, প্রোটিন এবং দুগ্ধজাত খাবার রাখা উচিত।

যে শিশুরা খেতে চায় না বা যাদের খাবারে অরুচি আছে তাদের ক্ষেত্রে ভিটামিনের ঘাটতির ঝুঁকি বেশি। এক্ষেত্রে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে মাল্টিভিটামিন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া যেতে পারে।

উপসংহার (কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে)

কোন ভিটামিনের অভাবে হাত পা জ্বালা পোড়া করে এই প্রশ্নের উত্তর এখন আপনার কাছে স্পষ্ট হওয়া উচিত। প্রধানত ভিটামিন বি-১২, বি-৬, বি-১ এবং ভিটামিন ই এর অভাবে এই সমস্যা হয়। তবে মনে রাখতে হবে যে হাত পা জ্বালাপোড়ার অন্যান্য কারণও থাকতে পারে যেমন ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা।

সুষম খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি ভিটামিনের ঘাটতি প্রতিরোধ করতে পারেন। যদি আপনি হাত পায়ে জ্বালাপোড়া অনুভব করেন তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা সম্পূর্ণভাবে সেরে যায় এবং স্থায়ী ক্ষতি এড়ানো যায়।

বাংলাদেশের সেরা ফিজিওথেরাপি সেন্টার

আপনার ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে চান? উত্তরা অথবা বনানী শাখায় অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টদের দ্বারা আধুনিক ও কার্যকর চিকিৎসা পান। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন আপনার সুবিধামতো সময়ে! ☎কল করুন: +৮৮০১৭৭৪৬৭৮৬০৪

আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর

 

বিস্তারিত জানুন: সারা শরীর জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তির উপায় ও এটি করার কারণ

বিস্তারিত জানুন: পায়ের তলা জ্বালাপোড়া করে কেন

বিস্তারিত জানুন: Best Physiotherapy Home Service in Dhaka

বিস্তারিত জানুন: হাত পা জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তির উপায়

 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ভিটামিন B2 (রাইবোফ্লাভিন), B3 (নায়াসিন), B6 এবং বিশেষত ভিটামিন B12 এর অভাবে মুখে ঘা হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। ভিটামিন C এর ঘাটতিও মুখের ঘা সৃষ্টির একটি প্রধান কারণ, কারণ এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ত্বক ও মিউকাস মেমব্রেন সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলিক এসিড বা ভিটামিন B9 এর অভাবেও জিহ্বা ও মুখের ভিতরে বারবার ঘা হতে পারে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে খাদ্য তালিকায় দুধ, ডিম, মাংস, মাছ, সবুজ শাকসবজি, লেবু, কমলা, আমলকী, টমেটো এবং শস্যজাতীয় খাবার অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। মুখের ঘা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা বারবার হতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিনের মাত্রা যাচাই করে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান এবং মুখের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেও এই সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

ভিটামিন B2 (রাইবোফ্লাভিন) এর অভাবে ঠোঁটে ঘা হওয়ার সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে "অ্যাঙ্গুলার কাইলাইটিস" বা "অ্যাঙ্গুলার স্টোমাটাইটিস" নামে পরিচিত। এছাড়া ভিটামিন B3 (নায়াসিন), B6 এবং B12 এর ঘাটতিও ঠোঁটের কোণে ফাটল ও ঘা সৃষ্টি করতে পারে। ভিটামিন C এর অভাবেও ঠোঁট ফেটে যাওয়া এবং ঘা হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। আয়রন এবং জিংকের ঘাটতিও এই সমস্যার সাথে সম্পর্কিত। ঠোঁটে ঘা প্রতিরোধে খাদ্য তালিকায় দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, মাছ, মাংস, সবুজ শাকসবজি, বাদাম, ডাল, লেবু এবং টক জাতীয় ফল নিয়মিত রাখা উচিত। শীতকালে ঠোঁটে লিপ বাম বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করলে আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং ফাটা প্রতিরোধ হয়। যদি ঘা দীর্ঘদিন না সারে বা বারবার হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *