কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ
কোমরের মাঝখানে ব্যথা আজকাল একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যা বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করছে। অফিসে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো কিংবা শারীরিক পরিশ্রমের কারণে অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন। কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ বুঝতে পারলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হয়। এই ব্যথা কখনও হালকা অস্বস্তি থেকে শুরু করে তীব্র যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে, যা দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কোমর ব্যথায় আক্রান্ত হন। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এই সমস্যা বাড়ছে, যার মূল কারণ হলো আধুনিক জীবনযাত্রা এবং প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার।
মেরুদণ্ডের সমস্যা এবং কাঠামোগত জটিলতা
কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ হিসেবে মেরুদণ্ডের সমস্যা অন্যতম প্রধান। মেরুদণ্ড মানবদেহের কাঠামোগত ভিত্তি এবং এটি ৩৩টি কশেরুকা দিয়ে গঠিত। এই কশেরুকাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে থাকে ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক, যা শক অ্যাবজরবার হিসেবে কাজ করে। মেরুদণ্ডের হাড়ের মধ্যবর্তী ডিস্কের ক্ষয়, স্লিপ ডিস্ক বা হার্নিয়েটেড ডিস্ক এই ব্যথার প্রধান কারণ হতে পারে।
ডিস্ক হার্নিয়েশন বা স্লিপ ডিস্ক হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে ডিস্কের ভেতরের নরম অংশ বাইরে বের হয়ে আসে এবং কাছাকাছি স্নায়ুতে চাপ দেয়। এর ফলে কোমরে তীব্র ব্যথা, পায়ে ঝিনঝিন অনুভূতি এবং পেশি দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। স্পাইনাল স্টেনোসিস নামক আরেকটি সমস্যা রয়েছে, যেখানে মেরুদণ্ডের ভেতরের ফাঁকা জায়গা সংকুচিত হয়ে যায় এবং স্নায়ুতে চাপ পড়ে।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে মেরুদণ্ডের হাড় এবং তরুণাস্থি দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে কোমরে ব্যথা অনুভূত হয়। ডিজেনারেটিভ ডিস্ক ডিজিজ একটি স্বাভাবিক বয়সজনিত প্রক্রিয়া, যেখানে ডিস্কগুলো তাদের পানি ধারণ ক্ষমতা হারায় এবং শুকিয়ে যায়। এছাড়া মেরুদণ্ডের বিভিন্ন অংশে আঘাত বা চাপ পড়লেও তীব্র ব্যথা হতে পারে। স্পন্ডাইলোলিস্থেসিস নামক একটি অবস্থায় একটি কশেরুকা তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে নিচের কশেরুকার উপর চলে আসে, যা তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করে।

পেশির টান, স্ট্রেইন এবং লিগামেন্টের আঘাত
অতিরিক্ত ভারী জিনিস তোলা, হঠাৎ করে শরীর মোচড়ানো বা ভুল ব্যায়াম করার ফলে কোমরের পেশিতে টান পড়তে পারে। কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ হিসেবে মাংসপেশির স্ট্রেইন অত্যন্ত পরিচিত এবং এটি সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে একটি। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না কিংবা হঠাৎ করে অতিরিক্ত পরিশ্রম করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
পেশির স্ট্রেইন হলো পেশির ফাইবারে ছোট ছোট ছিঁড়ে যাওয়া, যা ব্যথা এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে। স্পোর্টস ইনজুরি, গাড়ি দুর্ঘটনা বা পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ফলেও এমন হতে পারে। লিগামেন্ট স্প্রেইনও কোমর ব্যথার একটি কারণ, যেখানে হাড়ের সাথে সংযুক্ত শক্ত তন্তুময় টিস্যুতে টান পড়ে বা ছিঁড়ে যায়।
পেশির টান সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়, তবে বারবার এমন হলে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা তৈরি হতে পারে। ক্রনিক মাসল স্ট্রেইন দুর্বল পেশি এবং পুনরাবৃত্তিমূলক ব্যথার দিকে নিয়ে যেতে পারে। মায়োফেসিয়াল পেইন সিনড্রোম নামক একটি অবস্থায় পেশিতে ট্রিগার পয়েন্ট তৈরি হয়, যা চাপ দিলে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এই ট্রিগার পয়েন্টগুলো কোমরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকতে পারে এবং ব্যথা শরীরের অন্যান্য অংশে প্রসারিত হতে পারে।
দুর্বল ভঙ্গি এবং বসার অভ্যাসের প্রভাব
আধুনিক জীবনযাত্রায় দীর্ঘ সময় ধরে ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকা কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ হতে পারে। অফিসে কম্পিউটারের সামনে কুঁজো হয়ে বসা, ঘাড় ঝুঁকিয়ে মোবাইল ব্যবহার করা কিংবা নরম বিছানায় ভুলভাবে শোয়া, এসবই কোমরের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। সঠিক চেয়ার ব্যবহার না করা এবং এরগনোমিক নীতি না মানাও এই ব্যথার জন্য দায়ী।
“টেক নেক” বা “টেক্সট নেক” নামে পরিচিত একটি আধুনিক সমস্যা তৈরি হয়েছে, যেখানে দীর্ঘ সময় ঘাড় নিচু করে স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে ঘাড় থেকে কোমর পর্যন্ত চাপ সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন ৪-৫ ঘণ্টা এভাবে বসে থাকলে মেরুদণ্ডের প্রাকৃতিক বক্রতা নষ্ট হয়ে যায়। লর্ডোসিস, কাইফোসিস এবং স্কোলিওসিস হলো মেরুদণ্ডের বক্রতার বিভিন্ন অস্বাভাবিক অবস্থা, যা দুর্বল ভঙ্গির কারণে বা জন্মগতভাবে হতে পারে।
এরগনোমিক্স হলো কর্মক্ষেত্রে মানুষের শরীরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করার বিজ্ঞান। সঠিক উচ্চতার ডেস্ক, চেয়ারের পিঠের সাপোর্ট, কম্পিউটার মনিটরের সঠিক অবস্থান। এসব বিষয় কোমরের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকেন বা দাঁড়িয়ে থাকেন, যা কোমরের পেশিতে ক্লান্তি এবং ব্যথা সৃষ্টি করে। প্রতি ৩০ মিনিটে একবার ওঠা, হাঁটা এবং স্ট্রেচিং করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলতার ভূমিকা
শরীরের অতিরিক্ত ওজন কোমরের হাড় এবং পেশির উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় যে, স্থূলতায় ভুগছেন এমন মানুষের মধ্যে এই সমস্যা অনেক বেশি। পেটের চর্বি বৃদ্ধি পেলে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং কোমরে অস্বাভাবিক চাপ পড়ে।
প্রতি অতিরিক্ত ৫ কেজি ওজন কোমরের উপর প্রায় ২৫ কেজি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষত যখন ঝুঁকে কিছু তোলার চেষ্টা করা হয়। বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ২৫-এর উপরে হলে তা অতিরিক্ত ওজন এবং ৩০-এর উপরে হলে স্থূলতা হিসেবে বিবেচিত হয়। স্থূলতা শুধু কোমর ব্যথাই নয়, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ায়।
নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণ করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি তীব্রতার ব্যায়াম যেমন হাঁটা, সাঁতার বা সাইকেল চালানো কোমরের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখা উচিত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি এবং অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলা উচিত।
কিডনি এবং মূত্রনালীর সমস্যা
অনেক সময় কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ কিডনিতে পাথর, কিডনি সংক্রমণ বা মূত্রনালীর প্রদাহ হতে পারে। এই ধরনের ব্যথা সাধারণত কোমরের পিছনের দিকে এবং পাশের অংশে অনুভূত হয়, যা পাঁজরের নিচ থেকে শুরু হয়। কিডনিতে পাথর হলে হঠাৎ তীব্র, তরঙ্গের মতো ব্যথা অনুভূত হয় যা পেট এবং কুঁচকি পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।
যদি ব্যথার সাথে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, জ্বর বা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রস্রাবে রক্ত, মেঘলা প্রস্রাব বা দুর্গন্ধ এসব মূত্রনালীর সংক্রমণের লক্ষণ। পায়েলোনেফ্রাইটিস নামক কিডনি সংক্রমণ একটি গুরুতর অবস্থা, যা চিকিৎসা না করলে স্থায়ী কিডনি ক্ষতি হতে পারে।
কিডনির সমস্যা গুরুতর হতে পারে, তাই অবহেলা করা উচিত নয়। পর্যাপ্ত পানি পান করা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত চেকআপ কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে। যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বেশি থাকে, তাই নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন।
বয়সজনিত পরিবর্তন এবং অস্টিওপোরোসিস
বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে। হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়, অস্টিওপোরোসিস দেখা দিতে পারে এবং মেরুদণ্ডের নমনীয়তা হ্রাস পায়। কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ হিসেবে বয়সজনিত পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষত পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
অস্টিওপোরোসিস একটি নীরব রোগ, যেখানে হাড় দুর্বল এবং ভঙ্গুর হয়ে যায়। মহিলাদের মেনোপজের পরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে তাদের অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বেশি। ভার্টিব্রাল কম্প্রেশন ফ্র্যাকচার বা মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যাওয়া অস্টিওপোরোসিসের একটি মারাত্মক জটিলতা, যা তীব্র কোমর ব্যথা সৃষ্টি করে।
নিয়মিত ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি গ্রহণ এবং হালকা ব্যায়াম এই সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। দৈনিক ১০০০-১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ৬০০-৮০০ আইইউ ভিটামিন ডি প্রয়োজন। রোদে বসা ভিটামিন ডি-র প্রাকৃতিক উৎস। ওয়েট বেয়ারিং এক্সারসাইজ যেমন হাঁটা, জগিং এবং ড্যান্সিং হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।

আর্থ্রাইটিস এবং প্রদাহজনিত রোগ
অস্টিওআর্থ্রাইটিস হলো জয়েন্ট বা গিঁটের একটি ডিজেনারেটিভ রোগ, যেখানে তরুণাস্থি ক্ষয়ে যায়। কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ হিসেবে স্পাইনাল অস্টিওআর্থ্রাইটিস একটি প্রধান কারণ, বিশেষত বয়স্কদের মধ্যে। এতে কোমরের ফেসেট জয়েন্টে ব্যথা এবং শক্ত হয়ে যাওয়ার অনুভূতি হয়, বিশেষত সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজের টিস্যুকে আক্রমণ করে। এটি মেরুদণ্ডসহ শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টকে প্রভাবিত করতে পারে। অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস আরেকটি প্রদাহজনিত রোগ, যা মূলত মেরুদণ্ডকে প্রভাবিত করে এবং ধীরে ধীরে কশেরুকাগুলো একসাথে জুড়ে যেতে পারে।
এই সমস্ত রোগের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, সকালে শক্ত হয়ে যাওয়া যা নড়াচড়ার সাথে কমে আসে, এবং ক্লান্তি। অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ওষুধ, ফিজিওথেরাপি এবং নিয়মিত ব্যায়াম এসব রোগের ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করে। প্রারম্ভিক নির্ণয় এবং চিকিৎসা জটিলতা কমাতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক চাপ এবং মনোদৈহিক কারণ
অনেকে জানেন না যে, মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তাও কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস পেশিতে টান সৃষ্টি করে, বিশেষত ঘাড়, কাঁধ এবং কোমরের পেশিতে। যখন আমরা উদ্বিগ্ন থাকি, তখন অজান্তেই পেশি সংকুচিত হয়ে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যথা সৃষ্টি করে।
সাইকোসোমাটিক পেইন বা মনোদৈহিক ব্যথা হলো এমন ব্যথা যার কোনো শারীরিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না, কিন্তু মানসিক কারণে ব্যথা অনুভূত হয়। ডিপ্রেশন এবং অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে ভুগছেন এমন মানুষরা প্রায়ই কোমর ব্যথার অভিযোগ করেন। মস্তিষ্কে ব্যথার অনুভূতি প্রক্রিয়াকরণ মানসিক অবস্থার দ্বারা প্রভাবিত হয়।
মাইন্ডফুলনেস, মেডিটেশন, যোগব্যায়াম এবং শিথিলায়ন কৌশল মানসিক চাপ কমাতে এবং কোমর ব্যথা উপশমে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর সামাজিক সম্পর্ক এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং মানসিক স্বাস্থ্য এবং শারীরিক স্বাস্থ্য উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT) দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
গর্ভাবস্থা এবং নারীদের বিশেষ বিবেচনা
গর্ভাবস্থায় কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ হিসেবে শরীরের ওজন বৃদ্ধি, হরমোনাল পরিবর্তন এবং ভঙ্গির পরিবর্তন দায়ী। গর্ভাবস্থায় রিলাক্সিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা লিগামেন্টগুলোকে নরম করে প্রসবের জন্য প্রস্তুত করে, কিন্তু এর ফলে কোমরে অস্থিরতা এবং ব্যথা হতে পারে।
পেলভিক গার্ডল পেইন (PGP) গর্ভাবস্থার একটি সাধারণ সমস্যা, যা কোমর, হিপ এবং পেলভিক এলাকায় ব্যথা সৃষ্টি করে। গর্ভের শিশুর ওজন বাড়ার সাথে সাথে শরীরের ভারসাম্যের কেন্দ্র সামনে সরে যায়, যা কোমরের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। প্রায় ৫০-৭০% গর্ভবতী মহিলা কোমর ব্যথায় ভুগে থাকেন।
প্রসবের পরেও কোমর ব্যথা অব্যাহত থাকতে পারে, বিশেষত যদি প্রসবের সময় এপিডুরাল অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয়ে থাকে বা প্রসব প্রক্রিয়া জটিল হয়। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ভুল ভঙ্গিতে বসা, শিশুকে কোলে তোলা এবং বহন করা, এসবও কোমর ব্যথা বাড়াতে পারে। প্রেগন্যান্সি সাপোর্ট বেল্ট, প্রিনেটাল যোগ এবং ফিজিওথেরাপি এই ব্যথা উপশমে সাহায্য করতে পারে।
পেশাগত ঝুঁকি এবং কর্মক্ষেত্রের সমস্যা
কিছু পেশায় কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ বেশি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। যারা দীর্ঘ সময় ভারী জিনিস তোলেন, যেমন নির্মাণ শ্রমিক, গুদাম কর্মী বা নার্সরা, তাদের কোমর ব্যথার ঝুঁকি অনেক বেশি। একইভাবে যারা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করেন, যেমন শিক্ষক, দোকান বিক্রেতা বা হেয়ার স্টাইলিস্ট, তারাও এই সমস্যায় ভুগতে পারেন।
ড্রাইভার এবং যারা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালান তাদের কোমরে ক্রমাগত কম্পন এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে ব্যথা হয়। ডেস্ক জব করেন যারা, তারা দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকার কারণে ভুগতে পারেন। সার্জনরা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপারেশন করার কারণে কোমর ব্যথার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন।
কর্মক্ষেত্রে এরগনোমিক পরিবর্তন, নিয়মিত বিরতি, সঠিক লিফটিং টেকনিক এবং মেকানিক্যাল সহায়তা ব্যবহার কোমর ব্যথা প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। নিয়োগকর্তাদের উচিত কর্মীদের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য উপযুক্ত সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করা। ওয়ার্কপ্লেস স্ট্রেচিং প্রোগ্রাম এবং ফিটনেস ইনিশিয়েটিভ কর্মীদের কোমর ব্যথা কমাতে পারে।
ধূমপান এবং জীবনযাত্রার অভ্যাস
ধূমপান কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ হতে পারে, যা অনেকেই জানেন না। ধূমপান রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয়, যার ফলে মেরুদণ্ডের ডিস্কে পুষ্টি এবং অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। এর ফলে ডিস্ক ডিজেনারেশন দ্রুততর হয় এবং কোমর ব্যথার ঝুঁকি বাড়ে। নিকোটিন ব্যথার অনুভূতি বাড়াতে পারে এবং নিরাময় প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, ধূমপায়ীদের কোমর ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় ৩ গুণ বেশি। ধূমপান হাড়ের ঘনত্ব কমায় এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত মদ্যপানও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
অপর্যাপ্ত ঘুম, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের অভাবও কোমর ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম শরীরের নিরাময় এবং পুনরুদ্ধারের জন্য অপরিহার্য। পানিশূন্যতা ডিস্কের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, কারণ ডিস্কের বেশিরভাগ অংশ পানি দিয়ে তৈরি। দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত।
কোমরের মাঝখানে ব্যথা চিকিৎসা এবং প্রতিকার পদ্ধতি
কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ চিহ্নিত করার পর সঠিক চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যথার তীব্রতা, কারণ এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে। কনজারভেটিভ বা অ-অস্ত্রোপচার চিকিৎসাই প্রথমে চেষ্টা করা হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি কার্যকর।
ফিজিওথেরাপি কোমর ব্যথার চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্ট নির্দিষ্ট ব্যায়াম, ম্যানুয়াল থেরাপি, আল্ট্রাসাউন্ড, ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন এবং অন্যান্য কৌশল ব্যবহার করে ব্যথা উপশম এবং কার্যকারিতা উন্নত করতে পারেন। কোর স্ট্রেন্থেনিং এক্সারসাইজ, ফ্লেক্সিবিলিটি ট্রেনিং এবং পোসচারাল কারেকশন ফিজিওথেরাপির অংশ।
ওষুধের মধ্যে রয়েছে ব্যথানাশক যেমন প্যারাসিটামল, নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ড্রাগস (NSAIDs) যেমন আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাক, এবং মাসল রিল্যাক্সান্ট। তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত।
কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে, যেমন গুরুতর ডিস্ক হার্নিয়েশন, স্পাইনাল স্টেনোসিস বা স্পন্ডাইলোলিস্থেসিসের ক্ষেত্রে। ডিসকেক্টমি, ল্যামিনেক্টমি, স্পাইনাল ফিউশন এবং মিনিমালি ইনভেসিভ স্পাইন সার্জারি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার পদ্ধতি। তবে অস্ত্রোপচার সবসময় শেষ বিকল্প এবং শুধুমাত্র যখন অন্যান্য চিকিৎসা ব্যর্থ হয় তখনই বিবেচনা করা হয়।
হালকা ব্যথার ক্ষেত্রে ঘরোয়া চিকিৎসা যেমন গরম সেঁক, ঠান্ডা সেঁক, বিশ্রাম এবং হালকা স্ট্রেচিং ব্যায়াম কার্যকর। আঘাতের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ঠান্ডা সেঁক প্রদাহ কমায় এবং পরবর্তীতে গরম সেঁক পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে। তবে তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি যেমন আকুপাংচার, চিরোপ্র্যাকটিক কেয়ার, ম্যাসাজ থেরাপি এবং যোগব্যায়াম কিছু মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এসব পদ্ধতি ব্যবহারের আগে যোগ্য এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেশাদারের কাছে যাওয়া উচিত। ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন পদ্ধতি, যেখানে প্রচলিত এবং বিকল্প চিকিৎসা একসাথে ব্যবহার করা হয়, ভালো ফলাফল দিতে পারে।
কোমরের মাঝখানে ব্যথা প্রতিরোধের কৌশল এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন
কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ যাই হোক না কেন, কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব। “প্রতিরোধ চিকিৎসার চেয়ে উত্তম” এই প্রবাদ কোমর ব্যথার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রযোজ্য। নিয়মিত ব্যায়াম, বিশেষত কোর পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম খুবই উপকারী।
কোর মাসল হলো পেট, পিঠ এবং পেলভিসের চারপাশের পেশি, যা মেরুদণ্ডকে সাপোর্ট করে। প্ল্যাংক, ব্রিজ, বার্ড ডগ এবং ডেড বাগ এক্সারসাইজ কোর শক্তিশালী করতে সাহায়তা করে। ইয়োগা এবং পাইলেটস নমনীয়তা, শক্তি এবং ভারসাম্য উন্নত করে। সাঁতার একটি চমৎকার কম প্রভাবিত ব্যায়াম যা কোমরের জন্য নিরাপদ।
সঠিক ভঙ্গিতে বসা এবং দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাঁড়ানোর সময় কাঁধ পিছনে এবং পেট ভিতরে রাখুন, মেরুদণ্ড সোজা রাখুন। বসার সময় পিঠ সোজা রাখুন, পা মেঝেতে রাখুন এবং চেয়ারের পিঠে হেলান দিন। কম্পিউটার মনিটর চোখের সমান্তরালে রাখুন যাতে ঘাড় ঝুঁকিয়ে কাজ না করতে হয়।
ভারী জিনিস তোলার সঠিক নিয়ম হলো, হাঁটু ভাঁজ করে বসুন, জিনিসটি শরীরের কাছে রাখুন, পা এবং হাঁটুর শক্তি ব্যবহার করে উঠুন, কোমর বাঁকাবেন না। খুব ভারী হলে সাহায্য চান বা মেকানিক্যাল সহায়তা ব্যবহার করুন। মোচড়ানো এবং তোলা একসাথে করবেন না, প্রথমে তুলুন, তারপর ঘুরুন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসম্মত ঘুম অত্যাবশ্যক। মাঝারি শক্ত গদি ব্যবহার করুন যা মেরুদণ্ডের প্রাকৃতিক বক্রতা সমর্থন করে। পাশ ফিরে শোয়ার সময় হাঁটুর মাঝে একটি বালিশ রাখুন বা চিত হয়ে শুয়ে থাকলে হাঁটুর নিচে বালিশ রাখুন। পেট নিচে করে শোয়া এড়িয়ে চলুন কারণ এটি ঘাড় এবং কোমরের জন্য ক্ষতিকর।
ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন যাতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, প্রোটিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার থাকে। দুধ, দই, পনির, সবুজ শাকসবজি, মাছ, ডিম এবং বাদাম কোমরের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
নিয়মিত চেকআপ এবং প্রয়োজনে হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা (DEXA Scan) করান, বিশেষত ৫০ বছরের পর। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং শরীরচর্চায় নিয়মিত থাকুন। কাজের মাঝে ছোট বিরতি নিন এবং স্ট্রেচিং করুন। দীর্ঘ ভ্রমণের সময় নিয়মিত বিরতি নিয়ে হাঁটাহাঁটি করুন।
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট টেকনিক যেমন মেডিটেশন, ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ এবং মাইন্ডফুলনেস অনুশীলন করুন। হবি এবং আনন্দদায়ক কার্যক্রমে সময় দিন। পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখুন, কারণ সামাজিক সংযোগ মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

কোমরের মাঝখানে ব্যথার জন্য কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি
কোমর ব্যথা সাধারণত কয়েক দিনে বা সপ্তাহে নিজে থেকে সেরে যায়, কিন্তু কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যদি ব্যথা ৪ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, ক্রমাগত বাড়তে থাকে বা তীব্র হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তার দেখান। রাতে ব্যথা বাড়ে বা বিশ্রামে কমে না এমন হলে গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
রেড ফ্ল্যাগ সাইন বা বিপদজনক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে: পায়ে দুর্বলতা, অসাড়তা বা ঝিনঝিন করা, মূত্রাশয় বা মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, অব্যাখ্যাত ওজন হ্রাস, জ্বর এবং সর্দি, রাতে অতিরিক্ত ঘাম, পেটে তীব্র ব্যথা, এবং আঘাতের পর ব্যথা। এসব লক্ষণ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে যেমন কাউডা ইকুইনা সিনড্রোম, স্পাইনাল ইনফেকশন বা ক্যান্সার।
৫০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে নতুন শুরু হওয়া কোমর ব্যথা বেশি সতর্কতার সাথে মূল্যায়ন করা উচিত। ক্যান্সার, অস্টিওপোরোসিস বা দুর্ঘটনার ইতিহাস থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। দীর্ঘমেয়াদী স্টেরয়েড ব্যবহার, এইচআইভি, মাদকাসক্তি এসব রিস্ক ফ্যাক্টর বিবেচনায় রাখা হয়।
চিকিৎসক রোগীর ইতিহাস শুনবেন, শারীরিক পরীক্ষা করবেন এবং প্রয়োজনে এক্স-রে, এমআরআই, সিটি স্ক্যান বা রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। প্রাথমিক নির্ণয় এবং চিকিৎসা জটিলতা প্রতিরোধ এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া বা অযোগ্য ব্যক্তির কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
উপসংহার (কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ)
কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ বহুবিধ এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সমাধানও ভিন্ন। মেরুদণ্ডের কাঠামোগত সমস্যা, পেশির টান, দুর্বল ভঙ্গি, অতিরিক্ত ওজন, কিডনির সমস্যা, বয়সজনিত পরিবর্তন, আর্থ্রাইটিস, মানসিক চাপ, গর্ভাবস্থা, পেশাগত ঝুঁকি এবং জীবনযাত্রার অভ্যাস সবই কোমর ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ সঠিকভাবে নির্ণয় করা প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সচেতনতা, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সবসময় চিকিৎসার চেয়ে সহজ এবং কম খরচসাপেক্ষ। নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক ভঙ্গি, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ত্যাগ এবং মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা, এসব অভ্যাস কোমরের স্বাস্থ্য রক্ষায় অপরিহার্য।
যদি ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় বা ক্রমশ বাড়তে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যাবশ্যক। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান কোমর ব্যথার জন্য অনেক কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি প্রদান করে, যার মধ্যে রয়েছে ফিজিওথেরাপি, ওষুধ, ইনজেকশন এবং প্রয়োজনে সার্জারি। প্রাথমিক পর্যায়ে ফিজিওথেরাপি নিলে দ্রুত এবং সম্পূর্ণ সুস্থতা সম্ভব।
মনে রাখবেন, কোমরের স্বাস্থ্য আমাদের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুস্থ কোমর আপনাকে সক্রিয়, স্বাধীন এবং ব্যথামুক্ত জীবন উপভোগ করতে সাহায্য করবে। কোমরের মাঝখানে ব্যথার কারণ সম্পর্কে সচেতন হন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিন এবং প্রয়োজনে সময়মতো চিকিৎসা নিন। আপনার কোমরের যত্ন নিন, কারণ এটি আপনার শরীরের ভিত্তি এবং একটি সুস্থ ভিত্তি ছাড়া জীবনের সমস্ত কার্যক্রম প্রভাবিত হতে পারে।
ডাক্তারের সিরিয়াল নিতে ফোন করুন: +8801774-678604 (সকাল ৯টা – রাত ৯টা)। উত্তরা ও বনানী শাখায় সেবা দেওয়া হয়।
আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর
বিস্তারিত জানুন: কোমরের ডান পাশে ব্যথা কেন হয়
বিস্তারিত জানুন: কোমরের উপরে বাম পাশে ব্যথা কেন হয়
বিস্তারিত জানুন: কোমরের বাম পাশে ব্যথা কেন হয়
সাধারণ জিজ্ঞাসা
কোন ইনফেকশনের কারণে কোমর ব্যথা হয়?
কিডনি ইনফেকশন বা পাইলোনেফ্রাইটিস কোমর ব্যথার একটি প্রধান কারণ, যেখানে কোমরের দুই পাশে তীব্র ব্যথা, জ্বর ও প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হয়। মেরুদণ্ডের হাড় বা ডিস্কের ইনফেকশন যেমন স্পাইনাল অস্টিওমাইলাইটিস বা ডিসকাইটিস থেকেও তীব্র কোমর ব্যথা হতে পারে। এছাড়া যক্ষ্মা বা টিবি ব্যাকটেরিয়া মেরুদণ্ডে ছড়িয়ে পড়লে (পটস ডিজিজ) দীর্ঘস্থায়ী কোমর ব্যথা সৃষ্টি হয়। মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউটিআই) এবং পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজও কোমর অঞ্চলে ব্যথার কারণ হতে পারে।
কি খেলে কোমর ব্যথা ভালো হয়?
কোমর ব্যথা ভালো করতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন দুধ, দই, ছোট মাছ, ডিম এবং সবুজ শাকসবজি খাওয়া উচিত যা হাড় মজবুত করে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড যুক্ত খাবার যেমন সামুদ্রিক মাছ, আখরোট এবং তিসির বীজ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। হলুদ, আদা, রসুন এবং তাজা ফলমূল বিশেষত কমলা, পেঁপে ও বেরি জাতীয় ফল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী গুণসম্পন্ন হওয়ায় ব্যথা উপশমে কার্যকর। পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডাল, বাদাম ও মাংস পেশি শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে যা কোমর ব্যথা কমাতে সহায়ক।

Dr. Saiful Islam, PT, is a Consultant Physiotherapist with expertise in Orthopedics. He holds a BPT from Dhaka University, an MPT, and a Postgraduate Certification in Acupuncture from India, with specialized training in Ozone Therapy. (Best physiotherapist in Dhaka)

