সিজারের পর অনেক মায়ের মাথা ব্যথার একটি প্রধান কারণ হলো স্পাইনাল বা এপিডুরাল এনেস্থেসিয়ার প্রভাব। সিজারের সময় মেরুদণ্ডের কাছে ইনজেকশন দেওয়ার ফলে স্পাইনাল ফ্লুইডের চাপ পরিবর্তিত হতে পারে। এর ফলে পোস্ট ডুরাল পাংচার হেডেক (পিডিভিএইচ)-এর ঝুঁকি থাকে, যেখানে ইনজেকশনের স্থানে লিকেজ হলে মাথা ব্যথা শুরু হতে পারে। এছাড়াও, সিজার একটি বড় ধরনের অপারেশন হওয়ায় শারীরিক ধকল এবং ঘুমের অভাবও মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে। নবজাতকের যত্ন নিতে গিয়ে মায়ের ঘুমের অভাব হয় এবং শরীর দুর্বল থাকে, যা মাথা ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এই পোস্টে সিজারের পর মাথা ব্যথা কেন হয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
এছাড়াও, গর্ভাবস্থার পর শরীরে হরমোনের অনেক পরিবর্তন আসে, যা মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে। অপারেশনের পর অনেক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা হয় না বা খাবার গ্রহণে অনিয়ম দেখা দেয়, যা শরীরে পানি শূন্যতা সৃষ্টি করে এবং মাথা ব্যথা বাড়াতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পরে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা (যেমন প্রি-এক্লাম্পসিয়া বা এক্লাম্পসিয়া) দেখা দিলে তা থেকেও তীব্র মাথা ব্যথা হতে পারে, যার জন্য দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। টেনশন, মানসিক চাপ, সাইনাসের সমস্যা বা আগে থেকে থাকা মাইগ্রেনের সমস্যাও সিজারের পর মাথা ব্যথাকে আরও জটিল করতে পারে। যদি তীব্র মাথা ব্যথা হয় যা কমছে না, দৃষ্টিতে সমস্যা হয় বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যায়, তবে অবশ্যই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মাথা ব্যথা কমানোর উপায় ও করণীয় কি তা এই পোস্ট থেকে জানুন।
এছাড়াও এর কারণগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
সিজারের পর মাথা ব্যথা কেন হয় বা এর কারণগুলো
স্পাইনাল/এপিডুরাল ও অ্যানেস্থেসিয়ার প্রভাব
সিজারের পর মাথা ব্যথার একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ‘স্পাইনাল বা এপিডুরাল এনেস্থেসিয়া’ এর প্রভাব। সিজারিয়ান ডেলিভারির সময় মাকে ব্যথামুক্ত রাখার জন্য এই ধরনের এনেস্থেসিয়া ব্যবহার করা হয়, যেখানে মেরুদণ্ডের কাছে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এই ইনজেকশনের ফলে মেরুদণ্ডের তরলের (সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড) স্বাভাবিক চাপে পরিবর্তন আসতে পারে। এই চাপের পরিবর্তন মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক মায়ের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এনেস্থেসিয়ার প্রভাব কমে যাওয়ার পর মাথা ব্যথা শুরু হয়।
পোস্ট ডুরাল পাংচার হেডেক (পিডিভিএইচ) হলো স্পাইনাল বা এপিডুরাল এনেস্থেসিয়ার পরিচিত একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এনেস্থেসিয়ার সময় মেরুদণ্ডের ডুরা ম্যাটার নামক ঝিল্লি ভেদ করে সূঁচ প্রবেশ করানো হলে, সেই স্থানে একটি ছোট ছিদ্র তৈরি হতে পারে। এই ছিদ্রের মাধ্যমে মেরুদণ্ডের তরল ধীরে ধীরে বের হতে শুরু করলে মস্তিষ্কের উপর চাপ কমে যায়, যার ফলে তীব্র মাথা ব্যথা অনুভূত হয়। এই ব্যথা সাধারণত শুয়ে থাকলে কিছুটা কমে এবং বসা বা দাঁড়ালে বাড়ে। পিডিভিএইচ-এর ঝুঁকি কমাতে ডেলিভারির সময় এবং পরে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, তবে এটি কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে।
মাথাব্যাথা বা মাইগ্রেন এর পার্থক্য এই বিস্তারিত পোস্ট থেকে জেনে নিন।

শারীরিক ধকল ও ঘুমের অভাব
সিজার বড় ধরনের একটি প্রক্রিয়া, তাই এর ধকল শরীরের উপর অনেক বেশি পড়ে। অপারেশনের কারণে শরীরের অভ্যন্তরীণ টিস্যু এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোতে চাপ সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তির কারণ হয়। এই ধকলের কারণে অনেক মায়ের শরীর পুনরুদ্ধার হতে বেশ সময় লাগে। অপারেশনের পরবর্তী সময়ে ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করা হলেও, শরীরের অস্বস্তি এবং দুর্বলতা মাথা ব্যথার অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে, সিজারের পর মায়েদের ঘুমের অভাব একটি সাধারণ সমস্যা। নবজাতকের ঘন ঘন ঘুম ভাঙা এবং তার যত্নের প্রয়োজনে মায়ের ঘুমের সময় কমে যায়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীর ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে, যা মাথা ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ। ঘুমের অভাব শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে ব্যাহত করে এবং স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা মাথা ব্যথার তীব্রতা বৃদ্ধি করে। তাই, সিজারের পর মায়ের পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ঘুম অত্যন্ত জরুরি, যা মাথা ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
হরমোনের পরিবর্তন
সিজারের পর মাথা ব্যথার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো হরমোনের পরিবর্তন। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা অনেক বেড়ে যায়, যা গর্ভধারণ এবং শিশুর বিকাশে সহায়ক। কিন্তু সিজারিয়ান ডেলিভারির পর এই হরমোনের মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে এবং প্রসবের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে থাকে। এই আকস্মিক হরমোনের পরিবর্তন শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে, যার মধ্যে মাথা ব্যথা অন্যতম। বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন হরমোনের তারতম্য মাথা ব্যথার জন্য বেশি দায়ী বলে মনে করা হয়।
গর্ভাবস্থার পর হরমোনের স্তরে যে পরিবর্তন আসে, তা অনেক মায়ের শরীরেই অস্বস্তি সৃষ্টি করে এবং এর একটি সাধারণ লক্ষণ হলো মাথা ব্যথা। এই হরমোনের ভারসাম্যহীনতা মস্তিষ্কের রাসায়নিক বার্তাবাহক এবং রক্তনালীগুলির উপর প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে মাথাব্যথা অনুভূত হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে এই মাথাব্যথা হালকা হতে পারে, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে এটি তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। হরমোনের এই পরিবর্তন postpartum period-এ (প্রসব পরবর্তী সময়) শরীরকে নতুন অবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় নেয়, এবং এই সময়ে মাথা ব্যথা একটি স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
পানি শূন্যতা ও খাবারে অনিয়মের কারণে
সিজারের পর অনেক মায়ের মাথা ব্যথার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব এবং খাবার গ্রহণে অনিয়ম। অপারেশনের ধকল এবং ব্যথার কারণে অনেক সময় মায়েরা যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করতে ভুলে যান অথবা অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরে ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এই জলশূন্যতার কারণে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ব্যাহত হয় এবং রক্তচাপ কমে যেতে পারে, যা তীব্র মাথা ব্যথার সৃষ্টি করে। তাই, সিজারের পর দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য এবং মাথা ব্যথা কমানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা অপরিহার্য।
অন্যদিকে, সিজারের পর খাবার গ্রহণে অনিয়ম বা অনিচ্ছা আরেকটি বড় সমস্যা। অপারেশনের পর হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হয়ে যেতে পারে এবং ব্যথার কারণে অনেক মা খাবার খেতে চান না। তবে, শরীরকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে এবং শক্তি যোগাতে সঠিক সময়ে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। খাবার গ্রহণে অনিয়ম হলে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব দেখা দেয়, যা দুর্বলতা এবং মাথা ব্যথা বাড়াতে পারে। তাই, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা এবং সহজে হজমযোগ্য খাবার অল্প অল্প করে হলেও নিয়মিত খাওয়া উচিত।
গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যথা হলে করণীয় কি- এই পোস্টের মাধ্যমে জানুন।

উচ্চ রক্তচাপের কারণে (প্রি-এক্লাম্পসিয়া/এক্লাম্পসিয়া)
উচ্চ রক্তচাপ, বিশেষ করে প্রি-এক্লাম্পসিয়া বা এক্লাম্পসিয়ার মতো পরিস্থিতি, সিজারের পর মাথা ব্যথার একটি গুরুতর কারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় অথবা প্রসবের পরেও কিছু মায়ের উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। প্রি-এক্লাম্পসিয়া হলো গর্ভাবস্থার একটি জটিলতা যেখানে উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি প্রস্রাবে প্রোটিনও পাওয়া যায়। এটি মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে তীব্র মাথা ব্যথা হতে পারে। এক্লাম্পসিয়া হলো প্রি-এক্লাম্পসিয়ার একটি মারাত্মক রূপ, যেখানে খিঁচুনিও হতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপের কারণে যে মাথা ব্যথা হয়, তা অনেক সময় খুব তীব্র হতে পারে এবং এর সাথে অন্যান্য উপসর্গ যেমন – দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, পেটে ব্যথা বা বমি বমি ভাব থাকতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতি একেবারেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয় এবং জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারের পরামর্শ ও চিকিৎসা প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপ মা ও শিশু উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতা এমনকি জীবনহানিরও ঝুঁকি থাকে। তাই, সিজারের পর যদি অস্বাভাবিক তীব্র মাথা ব্যথা এবং উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দ্রুত மருத்துவ सहायता চাওয়া উচিত।
অন্যান্য কারণ
সিজারের পর মাথা ব্যথার আরও কিছু কারণ থাকতে পারে। টেনশন বা মানসিক চাপ এই সময়ের একটি স্বাভাবিক ঘটনা। নতুন মায়ের উপর সন্তানের যত্ন এবং নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক ধরনের উদ্বেগ কাজ করতে পারে। এই মানসিক চাপ শরীরে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কষ্টের সৃষ্টি করতে পারে, যার মধ্যে মাথা ব্যথা অন্যতম। পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ঘুমের অভাবের কারণে মানসিক চাপ আরও বাড়তে পারে এবং মাথা ব্যথার তীব্রতা বৃদ্ধি করতে পারে।
এছাড়াও, সাইনাসের সমস্যা থেকেও সিজারের পর মাথা ব্যথা হতে পারে। গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে অনেক মায়ের সাইনাসের সমস্যা দেখা দেয় এবং প্রসবের পরেও তা persist করতে পারে। সাইনাসের সংক্রমণের ফলে মুখ ও চোখের আশেপাশে চাপ এবং ব্যথা অনুভূত হতে পারে, যা মাথা ব্যথারূপেও প্রকাশ পায়। যাদের আগে থেকে মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে, সিজারের ধকল, ঘুমের অভাব এবং হরমোনের পরিবর্তনের কারণে তাদের মাইগ্রেনের ব্যথা আরও বাড়তে পারে। অন্যান্য পূর্বের মাথা ব্যথার সমস্যাও এই সময়কালে ফিরে আসতে বা তীব্র হতে দেখা যেতে পারে।

কখন ডাক্তার দেখানো উচিত?
সিজারের পর মাথা ব্যথা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়, তবে কিছু লক্ষণ দেখলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যদি তীব্র মাথা ব্যথা হয় যা কোনোভাবেই কমছে না এবং ক্রমশ বাড়তে থাকে, তাহলে এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে যদি কোনো উপকার না পাওয়া যায়, অথবা ব্যথার তীব্রতা এতটাই বেশি হয় যে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। এটি পোস্ট ডুরাল পাংচার হেডেক বা অন্য কোনো জটিলতার লক্ষণ হতে পারে যার জন্য বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন।
এছাড়াও, যদি মাথা ব্যথার সাথে দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা দেখা দেয়, যেমন ঝাপসা দেখা, ডাবল ভিশন অথবা চোখের সামনে আলোর ঝলকানি অনুভব করা, তাহলে তা গুরুতর হতে পারে। অন্যান্য স্নায়বিক লক্ষণ, যেমন শরীরের কোনো অংশে দুর্বলতা বা অসাড়তা অনুভব করা, কথা বলতে অসুবিধা হওয়া অথবা খিঁচুনি আসা, একেবারেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। এই লক্ষণগুলো উচ্চ রক্তচাপ জনিত জটিলতা বা অন্য কোনো স্নায়বিক সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন।
সবশেষে বলা যায়, যদি মাথা ব্যথার সাথে জ্বর আসে অথবা ঘাড়ে ব্যথা ও শক্ত ভাব অনুভব হয়, তাহলে মেনিনজাইটিস-এর মতো সংক্রমণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখবেন, সিজারের পর যেকোনো অস্বাভাবিক বা তীব্র লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া মা ও শিশুর উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ।
ব্যথা সম্পর্কিত যেকোনো পরামর্শ পেতে বা ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট নিতে – উত্তরা- +8801727177436 এবং বনানী- +8801774678604 (সকাল ৯.০০ থেকে রাত ৯.০০ টা) এই নম্বরে কল করুন এবং এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নিন।
আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর

Dr. Saiful Islam, PT, is a Consultant Physiotherapist with expertise in Orthopedics. He holds a BPT from Dhaka University, an MPT, and a Postgraduate Certification in Acupuncture from India, with specialized training in Ozone Therapy. (Best physiotherapist in Dhaka)

