হঠাৎ বাম এবং ডান কাঁধে ব্যথা হওয়ার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

হঠাৎ বাম এবং ডান কাঁধে ব্যথা হওয়ার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

আপনার যদি হঠাৎ করে বাম এবং ডান কাঁধে ব্যথা অনুভূত হয়, তবে আপনি একা নন। কাঁধে ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে এবং এটি দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করতে পারে। এই ধরনের ব্যথা হালকা অস্বস্তি থেকে শুরু করে তীব্র যন্ত্রণাদায়কও হতে পারে, যা আপনার নড়াচড়ার ক্ষমতাকে সীমিত করে দেয়।

আমাদের এই ব্লগ পোস্টে আমরা হঠাৎ বাম এবং ডান কাঁধে ব্যথা হওয়ার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আমরা জানবো কী কী কারণে এই ব্যথা হতে পারে, এর সাথে আর কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে এবং এর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। 

কাঁধে ব্যথা হওয়ার কারণ কি

কাঁধে ব্যথা হওয়ার কারণ কি?

কাঁধে ব্যথা একটি অতি সাধারণ সমস্যা যা দৈনন্দিন জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। কাঁধে ব্যথা হওয়ার কারণ কি তা বোঝা এর সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিরোধের জন্য অপরিহার্য। এর পেছনে বহুবিধ কারণ থাকতে পারে। আঘাত একটি প্রধান কারণ। যেমন, পড়ে যাওয়া, খেলাধুলা করার সময় ধাক্কা লাগা, বা সরাসরি কাঁধে কোনো কিছুর আঘাত লাগলে পেশী, টেন্ডন, লিগামেন্ট বা হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহার বা পুনরাবৃত্তিমূলক নড়াচড়াও কাঁধে ব্যথা হওয়ার কারণ কি? তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্তর হতে পারে, যারা নিয়মিতভাবে মাথার ওপর দিয়ে হাত তুলে কাজ করেন, যেমন পেইন্টার বা কম্পিউটার ব্যবহারকারী, তাদের কাঁধের জয়েন্ট ও এর চারপাশের টিস্যুতে চাপ পড়ে। এর ফলে টেন্ডিনাইটিস (টেনডনের প্রদাহ) বা বার্সাইটিস (বার্সার প্রদাহ) হতে পারে। এছাড়া, ফ্রোজেন শোল্ডার (কাঁধের জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া), রোটেটর কাফ টিয়ার (পেশীর টেন্ডন ছিঁড়ে যাওয়া), অথবা অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো বাতজনিত রোগও কাঁধে ব্যথা হওয়ার কারণ কি তার ব্যাখ্যা দিতে পারে। এমনকি ঘাড়ের সমস্যা থেকে স্নায়ু সংকোচন বা ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো থেকেও কাঁধে ব্যথা হতে পারে। সুতরাং, কাঁধে ব্যথা হওয়ার কারণ কি তা নির্ধারণ করতে এবং সঠিক চিকিৎসা পেতে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বাম কাঁধে ব্যথা কিসের লক্ষণ

বাম কাঁধে ব্যথা কিসের লক্ষণ

বাম কাঁধে ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এর অন্তর্নিহিত কারণগুলো বিভিন্ন হতে পারে। এই ব্যথা কখনও সামান্য অস্বস্তি থেকে শুরু করে তীব্র যন্ত্রণাদায়কও হতে পারে, যা দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে। বাম কাঁধে ব্যথা কিসের লক্ষণ এটি বোঝার জন্য ব্যথার প্রকৃতি, তীব্রতা এবং এর সাথে অন্যান্য উপসর্গগুলো বিবেচনা করা জরুরি।

আঘাতজনিত কারণ ( ফ্র্যাকচার এবং স্থানচ্যুতি)

আঘাতজনিত কারণগুলো বাম কাঁধে ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ। ফ্র্যাকচার (হাড় ভাঙা) বা স্থানচ্যুতি (ডিসলোকেশন) এর মতো আঘাতের ফলে তীব্র বাম কাঁধে ব্যথা হতে পারে। যখন কাঁধের হাড় ভেঙে যায় বা জয়েন্ট থেকে সরে যায়, তখন তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় এবং কাঁধ নড়াচড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ধরনের আঘাতের ক্ষেত্রে ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে প্রায়শই এটি অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায় এবং আক্রান্ত স্থানে ফোলা ও কালশিটে পড়তে পারে। বেশিরভাগ সময়, এই ধরনের আঘাতের অবিলম্বে চিকিৎসা প্রয়োজন। যদি আপনি কোনো আঘাতের পরে হঠাৎ করে তীব্র বাম কাঁধে ব্যথা অনুভব করেন এবং কাঁধ নাড়াতে না পারেন, তবে এটি বাম কাঁধে ব্যথা কিসের লক্ষণ হিসেবে ফ্র্যাকচার বা স্থানচ্যুতির ইঙ্গিত হতে পারে এবং দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া উচিত।

স্নায়ু সংকোচন বা চিমটি ধরা

কাঁধের অঞ্চল দিয়ে ভ্রমণকারী স্নায়ুগুলি সংকুচিত বা চিমটি হয়ে যেতে পারে, যার ফলে বাম কাঁধে এবং বাহুতে ব্যথা, অসাড়তা এবং ঝনঝন (টিংলিং) হতে পারে। এই অবস্থাকে নার্ভ কম্প্রেশন বা পিন্ড নার্ভ বলা হয়। যখন একটি স্নায়ু সংকুচিত হয়, তখন এটি সেই স্নায়ু দ্বারা সরবরাহকৃত অঞ্চলে ব্যথা, দুর্বলতা বা সংবেদনশীলতা পরিবর্তন ঘটাতে পারে। “বাম কাঁধে ব্যথা কিসের লক্ষণ” হিসেবে যদি আপনার কাঁধে ব্যথার সাথে সাথে বাম হাতে বা আঙ্গুলে ঝিনঝিন করা, অসাড়তা বা শক্তি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়, তবে এটি স্নায়ু সংকোচনের কারণে হতে পারে। এটি মেরুদণ্ডের সমস্যা, ডিস্ক প্রলাপস, বা কাঁধের জয়েন্টের আশেপাশের টিস্যুর প্রদাহের কারণেও হতে পারে।

রোটেটর কাফের সমস্যা

রোটেটর কাফের সমস্যা

কাঁধের চারপাশে থাকা চারটি পেশী এবং টেন্ডনের একটি দলকে রোটেটর কাফ বলা হয়। এই রোটেটর কাফের সমস্যা, যেমন টেন্ডোনাইটিস (টেন্ডনে প্রদাহ) বা টিয়ার (ছেঁড়া), বাম কাঁধে ব্যথার একটি সাধারণ কারণ। এই সমস্যাগুলো সাধারণত অতিরিক্ত ব্যবহার, পুনরাবৃত্তিমূলক নড়াচড়া, বা আঘাতের কারণে হয়। রোটেটর কাফের সমস্যার ফলে কাঁধ নড়াচড়া করার সময় ব্যথা, বিশেষ করে হাত উপরে তোলার সময় বা রাতে ঘুমানোর সময় ব্যথা বেড়ে যায়। বাম কাঁধে ব্যথা কিসের লক্ষণ হিসেবে যদি আপনি হাত তুলতে বা ঘুমানোর সময় কাঁধের উপর ভর দিয়ে শুতে অসুবিধা অনুভব করেন, তবে এটি রোটেটর কাফের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

ফ্রোজেন শোল্ডার (হিমশীতল কাঁধ)

ফ্রোজেন শোল্ডার বা অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস একটি অবস্থা যেখানে কাঁধের জয়েন্টের ক্যাপসুল শক্ত হয়ে যায় এবং কাঁধের নড়াচড়া সীমিত হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় বাম কাঁধে ব্যথা ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং সময়ের সাথে সাথে এটি আরও তীব্র হতে পারে, বিশেষ করে রাতে। বাম কাঁধে ব্যথা কিসের লক্ষণ হিসেবে যদি আপনার কাঁধের নড়াচড়া ক্রমশ কঠিন হয়ে আসে এবং ব্যথা বেড়ে যায়, তবে এটি ফ্রোজেন শোল্ডারের লক্ষণ হতে পারে। এই সমস্যা সাধারণত ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তি বা যারা দীর্ঘ সময় ধরে কাঁধ ব্যবহার করেননি তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

কাঁধের অস্থিরতা

কাঁধের জয়েন্ট একটি বল এন্ড সকেট জয়েন্ট এবং এটি শরীরের সবচেয়ে নমনীয় জয়েন্টগুলির মধ্যে একটি। এই নমনীয়তার কারণে এটি অস্থিরও হতে পারে, যা কাঁধের অস্থিরতা নামে পরিচিত। পুনরাবৃত্তিমূলক স্থানচ্যুতি বা লিগামেন্টের ক্ষতির কারণে কাঁধের জয়েন্ট আলগা হয়ে যেতে পারে, যার ফলে বাম কাঁধে ব্যথা এবং অস্বস্তি হতে পারে। বাম কাঁধে ব্যথা কিসের লক্ষণ হিসেবে যদি আপনি কাঁধের জয়েন্ট নড়াচড়া করার সময় একটি  ক্লিক বা পপ অনুভব করেন, বা কাঁধের জয়েন্ট সহজে সরে যাচ্ছে বলে মনে হয়, তবে এটি কাঁধের অস্থিরতার ইঙ্গিত হতে পারে।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস

অস্টিওআর্থ্রাইটিস

অস্টিওআর্থ্রাইটিস একটি অবক্ষয়জনিত জয়েন্টের রোগ, যা কাঁধের জয়েন্টকেও প্রভাবিত করতে পারে। এই অবস্থায় কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি ক্ষয় হতে শুরু করে, যার ফলে হাড়ে হাড়ে ঘষা লাগে এবং ব্যথা ও শক্ত হয়ে যায়। বাম কাঁধে ব্যথা কিসের লক্ষণ হিসেবে যদি আপনার কাঁধের ব্যথা সকালে বেশি হয় বা বিশ্রামের পর বেড়ে যায় এবং নড়াচড়ার সাথে কিছুটা ভালো হয়, তবে এটি অস্টিওআর্থ্রাইটিসের লক্ষণ হতে পারে। এই ব্যথা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

হার্টের সমস্যা

অনেক সময়, বাম কাঁধে ব্যথা হার্টের সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে, বিশেষত যদি সেই ব্যথার সঙ্গে বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট বা ঘাম হওয়ার মতো উপসর্গ থাকে। এটি অ্যাঞ্জাইনা বা হার্ট অ্যাটাকের একটি সাধারণ লক্ষণ। যদি আপনার বাম কাঁধে ব্যথা বুকের মাঝখানে ব্যথা বা চাপ, শ্বাসকষ্ট, ঘাম, বমি বমি ভাব, বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণের সাথে যুক্ত থাকে, তবে এটিকে বাম কাঁধে ব্যথা কিসের লক্ষণ হিসেবে হার্টের জরুরি অবস্থার ইঙ্গিত মনে করতে হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া উচিত। এই ধরনের ব্যথা সাধারণত ব্যায়ামের সময় বা মানসিক চাপের কারণে বেড়ে যায় এবং বিশ্রাম নিলে কিছুটা উপশম হতে পারে।

অন্যান্য কারণ

কাঁধের জয়েন্টের বিভিন্ন রোগ, পেশির টান, বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণেও বাম কাঁধে ব্যথা হতে পারে। কখনও কখনও, ঘাড়ের সমস্যাও রেফার্ড পেইন (শরীরের এক জায়গায় সমস্যা কিন্তু ব্যথা অন্য জায়গায় অনুভূত হওয়া) হিসেবে বাম কাঁধে ব্যথা ঘটাতে পারে।

ডান কাঁধে ব্যথা কিসের লক্ষণ

ডান কাঁধে ব্যথা কিসের লক্ষণ

ডান কাঁধে প্রচণ্ড ব্যথা এবং হাত নাড়াচাড়া করতে সমস্যা মানেই সবসময় ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’ নয়, এর পেছনে থাকতে পারে আরও নানা কারণ। যেমন, বাঁ হাত বা বাঁ কাঁধে ব্যথা অনেক সময় হৃদ্‌রোগের উপসর্গ হতে পারে, তেমনি ডান কাঁধের অস্থিসন্ধিতে ব্যথা বা পেশিতে টান ধরা ‘গলস্টোন’ বা পিত্তথলিতে পাথর জমার পূর্বলক্ষণও হতে পারে। পিত্তথলিতে পাথর জমলে পেটের ডান দিক থেকে শুরু হওয়া ব্যথা ডান কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, সঙ্গে জ্বর, বমি, ডায়রিয়া এবং পেশিতে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। । তাই ডান কাঁধে ব্যথা কিসের লক্ষণ এটি বোঝার জন্য কেবল সাধারণ ব্যথা ভেবে অবহেলা না করে, অন্যান্য শারীরিক সমস্যার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

পেশির টান ও আঘাতজনিত কারণ

ডান কাঁধে ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হলো পেশির টান (Muscle Strain) বা আঘাত। ভুল ভঙ্গিতে কাজ করা, অতিরিক্ত ব্যায়াম, হঠাৎ ভারী কিছু তোলা বা সরাসরি কাঁধে আঘাত লাগার কারণে পেশি বা লিগামেন্টে টান পড়তে পারে। এর ফলে কাঁধ নড়াচড়া করতে গেলে ব্যথা অনুভব হয়। অনেক সময় ঘুমের ভঙ্গির কারণেও সকালে ডান কাঁধে ব্যথা হতে পারে। এই ধরনের ব্যথা সাধারণত বিশ্রাম নিলে বা গরম সেঁক দিলে কমে যায়। 

টেন্ডনাইটিস এবং বার্সাইটিস

টেন্ডনাইটিস এবং বার্সাইটিস

কাঁধের চারপাশে থাকা টেন্ডন বা পেশিবন্ধনীতে প্রদাহ (Tendinitis) এবং বার্সা বা তরলপূর্ণ থলিতে প্রদাহ (Bursitis) ডান কাঁধে ব্যথার সাধারণ কারণ। টেন্ডন হলো সেই টিস্যু যা পেশিকে হাড়ের সাথে সংযুক্ত করে, আর বার্সা জয়েন্টগুলোকে মসৃণভাবে চলতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ব্যবহার, পুনরাবৃত্তিমূলক নড়াচড়া, অথবা বয়সের কারণে এই টিস্যুগুলোতে প্রদাহ হতে পারে। এর ফলে কাঁধ নড়াচড়া করার সময় তীব্র ব্যথা হয়, বিশেষ করে হাত উপরে তোলার সময় বা কোনো কিছু ধরার চেষ্টা করার সময়। ডান কাঁধে ব্যথা কিসের লক্ষণ হিসেবে এই ধরনের সমস্যাগুলো দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

ফ্রোজেন শোল্ডার (Adhesive Capsulitis)

ডান কাঁধে ব্যথা ফ্রোজেন শোল্ডার নয়, তবে এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ফ্রোজেন শোল্ডার এমন একটি অবস্থা যেখানে কাঁধের জয়েন্টের ক্যাপসুল (জয়েন্টকে আবৃত করে রাখা টিস্যু) শক্ত হয়ে যায়, যার ফলে কাঁধের নড়াচড়া ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে হালকা ব্যথা দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এটি তীব্র হতে পারে এবং কাঁধের নড়াচড়া এতটাই কমে যায় যে দৈনন্দিন কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।

আর্থ্রাইটিস (জয়েন্ট প্রদাহ)

বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিস ডান কাঁধের জয়েন্টকে প্রভাবিত করতে পারে। অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, বা সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস কাঁধের জয়েন্টে প্রদাহ, ব্যথা এবং শক্ততা সৃষ্টি করতে পারে। অস্টিওআর্থ্রাইটিস সাধারণত বয়সের সাথে সাথে জয়েন্টের কার্টিলেজ ক্ষয়ের কারণে হয়, যেখানে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটি অটোইমিউন রোগ যা শরীরের জয়েন্টগুলোকে আক্রমণ করে। ডান কাঁধে ব্যথা কিসের লক্ষণ হিসেবে যদি ব্যথা সকালে বেশি হয় এবং নড়াচড়া শুরু করলে কিছুটা কমে আসে, তবে এটি আর্থ্রাইটিসের ইঙ্গিত হতে পারে।

নার্ভের সমস্যা (Nerve Impingement)

নার্ভের সমস্যা (Nerve Impingement)

ঘাড় বা কাঁধের আশেপাশে থাকা স্নায়ুগুলো যদি সংকুচিত (pinched nerve) হয়, তাহলে ডান কাঁধে ব্যথা হতে পারে। সার্ভিকাল স্পন্ডাইলোসিস (ঘাড়ের মেরুদণ্ডের ক্ষয়), হার্নিয়েটেড ডিস্ক, বা কাঁধের আশেপাশে অতিরিক্ত হাড়ের বৃদ্ধির কারণে স্নায়ু সংকুচিত হতে পারে। এর ফলে ব্যথার পাশাপাশি ডান বাহুতে বা হাতে অসাড়তা, ঝিনঝিন করা বা দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে।

পিত্তথলির সমস্যা (Gallstones)

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, পিত্তথলিতে পাথর (Gallstones) বা পিত্তথলির প্রদাহ (Cholecystitis) ডান কাঁধে ব্যথা ঘটাতে পারে। যখন পিত্তথলিতে পাথর হয় এবং তা পিত্তনালীতে বাধা সৃষ্টি করে, তখন তীব্র ব্যথা সাধারণত পেটের উপরের ডান অংশে শুরু হয় এবং এই ব্যথা ডান কাঁধে ছড়িয়ে পড়তে পারে (referred pain)। এই ধরনের ব্যথা সাধারণত খাওয়ার পরে বা চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের পর তীব্র হয়। 

কাঁধে ব্যথা হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

কাঁধে ব্যথা হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

কাঁধে ব্যথা হওয়ার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানা জরুরি, কারণ এটি অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনে অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কাঁধে ব্যথা সাধারণত অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে হয় বা পড়ে যাওয়ার মতো কোনও আঘাতের ফলেও হতে পারে, যা কাঁধের আঘাতের সাথে সংযুক্ত থাকে। এই অবস্থায় কাঁধের পেশী, টেন্ডন বা লিগামেন্টে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন রোটেটর কাফের ব্যাধি, হিমশীতল কাঁধ, বা কাঁধের অস্থিরতা। এছাড়া অস্টিওআর্থারাইটিস, হাড়ের ফ্র্যাকচার, বা অঙ্গবিন্যাসের ত্রুটিও কাঁধে ব্যথার কারণ হতে পারে। কাঁধের ব্যথা কখনো কখনো ঘাড় বা বাইসেপের সমস্যার কারণে ও হতে পারে, যা সঠিকভাবে নির্ণয় করা জরুরি।

কাঁধে ব্যথা হওয়ার কারণ ও প্রতিকার হিসেবে সাধারণত বিশ্রাম, ফিজিওথেরাপি এবং NSAID (প্রদাহনাশক) ট্যাবলেট বা ক্রিম ব্যবহার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ব্যথা কমাতে এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে এই চিকিৎসা কার্যকর। তবে, যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং অবস্থার উন্নতি না হয়, তাহলে কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন বা অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে। কাঁধের পেশী শক্তিশালী এবং নমনীয় রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম ও ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। তাই কাঁধে ব্যথা হওয়ার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।

 

বিস্তারিত জানুনঃ কাঁধে ব্যথা দূর করার উপায় এবং কাঁধে ব্যথার কারণ কি?

বিস্তারিত জানুনঃ টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর পার্থক্য

বিস্তারিত জানুনঃ সেক্সে রসুনের উপকারিতা কি

বিস্তারিত জানুনঃ ঘাড় ব্যথার জন্য কোন ডাক্তার দেখানো উচিত

 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

কাঁধের ব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে টেন্ডিনাইটিস, আর্থ্রাইটিস, তরুণাস্থি ছিঁড়ে যাওয়া, নানা ধরনের চিকিৎসাগত সমস্যা ও আঘাত। কাঁধে ব্যথার আরেকটি সাধারণ কারণ হলো মেরুদণ্ডের ওপরের অংশে স্নায়ু চেপে যাওয়া, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় সার্ভিকাল রেডিকুলোপ্যাথি বলা হয়।

রোটেটর কাফ টেন্ডোনাইটিস হলো কাঁধে, বিশেষ করে উপরের বাহুতে ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ একটি কারণ। এটি সাধারণত অতিরিক্ত ব্যবহার, দুর্ঘটনা বা আর্থ্রাইটিসের কারণে হতে পারে, অনেক সময় এসব কারণ একসঙ্গে কাজ করে। কখনও কখনও ব্যথার শুরুটা একটি নির্দিষ্ট কাজ বা ঘটনার পরেই হয়।

কাঁধের ব্যথা যদি দিন দিন বেড়েই যায় বা দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনও উন্নতি না হয়, অথবা হাত কিংবা কাঁধ নাড়াতে যদি খুব কষ্ট হয়, তাহলে এটি চিন্তার বিষয় হতে পারে।

শরীরের কাঁধে ব্যথা, বিশেষ করে বাম কাঁধে ব্যথা, অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের একটি গুরুতর লক্ষণ হতে পারে। এই ব্যথার সাথে যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয় অথবা বুকে টান অনুভব হয়, তবে দ্রুততম সময়ে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া অত্যাবশ্যক। হার্ট অ্যাটাকের অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বুকে অস্বস্তি বা চাপ, ব্যথা বাহু, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়া, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, ঠান্ডা ঘাম এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ দ্রুত চিকিৎসা জীবন বাঁচাতে এবং হার্টের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *