বর্তমান সময়ে ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা একটি অত্যন্ত সাধারণ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চাপ, কর্মক্ষেত্রের দুশ্চিন্তা, পারিবারিক সমস্যা এবং সামাজিক প্রত্যাশার বোঝা অনেক সময় আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় জানা এবং সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই ব্লগে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব ডিপ্রেশন হলে কি কি সমস্যা হয় এবং কীভাবে মানসিক ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে পাওয়া যায়।

ডিপ্রেশন হলে কি কি সমস্যা হয়?
ডিপ্রেশন শুধুমাত্র মন খারাপ বা দুঃখবোধ নয়, এটি একটি গুরুতর মানসিক রোগ যা আমাদের শারীরিক ও মানসিক উভয় দিকেই প্রভাব ফেলে। ডিপ্রেশন হলে কি কি সমস্যা হয় তা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর লক্ষণগুলো চিনতে পারলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।
মানসিক লক্ষণসমূহ
যখন কেউ ডিপ্রেশনে ভোগে, তখন তার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মানসিক পরিবর্তন দেখা দেয়। প্রথমত, ব্যক্তি ক্রমাগত দুঃখবোধ, হতাশা এবং শূন্যতায় ভোগেন। যে কাজগুলো আগে আনন্দদায়ক ছিল, সেগুলোতে আর কোনো আগ্রহ থাকে না। অনেকের মধ্যে নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে হওয়া এবং অপরাধবোধ দেখা দেয়।
আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং নিজের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয় ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে। তারা প্রায়ই মনে করেন যে তারা কোনো কাজই সঠিকভাবে করতে পারবেন না। সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হয়, মনোযোগ দিতে সমস্যা হয় এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক সময় মৃত্যু বা আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
শারীরিক সমস্যাসমূহ
ডিপ্রেশন হলে কি কি সমস্যা হয় তা শুধু মনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং শরীরেও এর প্রভাব পড়ে। অনিদ্রা বা অতিরিক্ত ঘুম উভয়ই ডিপ্রেশনের সাধারণ লক্ষণ। কেউ কেউ রাতে ঘুমাতে পারেন না, আবার কেউ সারাদিন ঘুমিয়ে কাটান।
ক্ষুধায় পরিবর্তন আসে, হয় ক্ষুধা একেবারে কমে যায় অথবা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এর ফলে ওজন হঠাৎ কমে বা বেড়ে যেতে পারে। শক্তির অভাব অনুভূত হয় এবং সামান্য কাজেও ক্লান্তি লাগে।
শরীরে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা দেখা দিতে পারে, যেমন মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা এবং শরীরে ভারবোধ। হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটের অস্বস্তিও সাধারণ। এছাড়াও হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বুকে চাপ অনুভব করা এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
সামাজিক ও আচরণগত প্রভাব
ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সামাজিক সম্পর্ক থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে দেখা করতে অনীহা দেখা দেয়। কাজে বা পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায় এবং পারফরম্যান্স খারাপ হয়। অনেকে নেশাজাতীয় দ্রব্য বা অ্যালকোহলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন।
খিটখিটে মেজাজ, রাগ এবং অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। ছোটখাটো বিষয়েও বিরক্তি আসে এবং অন্যদের সাথে ঝগড়া-বিবাদ বেড়ে যায়। নিজের যত্ন নেওয়া বন্ধ হয়ে যায় – স্নান করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, সাজগোজ করা ইত্যাদিতে অনীহা দেখা দেয়।
দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা
যদি ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় সময়মতো না খোঁজা হয় এবং চিকিৎসা না নেওয়া হয়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদী জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য শারীরিক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে ঘন ঘন অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। পারিবারিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, চাকরি হারানো, আর্থিক সংকট এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হল আত্মহত্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায়
এখন আমরা আলোচনা করব মানসিক ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে। ভালো খবর হল, ডিপ্রেশন সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসাযোগ্য একটি রোগ। সঠিক পদক্ষেপ এবং সহায়তা নিলে এটি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ
ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল পেশাদার সাহায্য নেওয়া। মনোবিদ বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। তারা আপনার অবস্থা মূল্যায়ন করে সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।
সাইকোথেরাপি বা কথোপকথন থেরাপি অত্যন্ত কার্যকর। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT) বিশেষভাবে ডিপ্রেশনের জন্য উপকারী। এই থেরাপিতে নেতিবাচক চিন্তাভাবনার প্যাটার্ন চিহ্নিত করে তা পরিবর্তন করা হয়। প্রয়োজনে ডাক্তার অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ নির্ধারণ করতে পারেন, যা মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য ঠিক করতে সাহায্য করে।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন
মানসিক ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করুন, এটি মস্তিষ্কে এন্ডরফিন নামক ‘সুখ হরমোন (ডোপামিন)’ নিঃসরণ করে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা বা যোগব্যায়াম করুন।
স্বাস্থ্যকর খাবার খান। পুষ্টিকর খাদ্য মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, বাদাম এবং সবুজ শাকসবজি খান। ভিটামিন ডি-এর জন্য রোদে বসুন এবং প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট নিন।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। একটি নিয়মিত ঘুমের রুটিন তৈরি করুন এবং ঘুমানোর আগে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
মাইন্ডফুলনেস ও মেডিটেশন
ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে মাইন্ডফুলনেস এবং মেডিটেশন অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। মেডিটেশন মনকে শান্ত করে এবং নেতিবাচক চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট মেডিটেশন করার অভ্যাস করুন।
শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। গভীর শ্বাস নেওয়া এবং ছাড়া মনকে স্থির করতে এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। যোগব্যায়াম এবং তাই চি অনুশীলন করতে পারেন, যা মন ও শরীর উভয়ের জন্য উপকারী।
বর্তমান মুহূর্তে থাকার অনুশীলন করুন। অতীত নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা বা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ না করে বর্তমানে মনোযোগ দিন। মাইন্ডফুল ইটিং বা খাওয়ার সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস করুন।
সামাজিক সংযোগ বজায় রাখা
মানসিক ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল সামাজিক সংযোগ। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটান। নিজের অনুভূতি শেয়ার করুন এবং সাহায্য চান। বিচ্ছিন্নতা ডিপ্রেশনকে আরও খারাপ করে, তাই সামাজিক সংযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
সাপোর্ট গ্রুপে যোগ দিন। যারা একই ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের সাথে কথা বলুন। এটি আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে যে আপনি একা নন। স্বেচ্ছাসেবক কাজে অংশ নিন। অন্যদের সাহায্য করা নিজেকে ভালো অনুভব করাতে সাহায্য করে এবং জীবনে উদ্দেশ্য খুঁজে পেতে সহায়তা করে।
শখ এবং আনন্দদায়ক কাজে জড়িত হওয়া
ডিপ্রেশন হলে কি কি সমস্যা হয় তা জানার পাশাপাশি জানা গুরুত্বপূর্ণ যে আনন্দদায়ক কাজে জড়িত হওয়া ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় হতে পারে। যে কাজগুলো আপনাকে আনন্দ দেয়, সেগুলো করুন। এটি হতে পারে পড়া, লেখা, আঁকা, গান শোনা, বাগান করা, রান্না করা বা অন্য কিছু।
নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন। একটি নতুন দক্ষতা বা শখ শুরু করুন। এটি মনকে ব্যস্ত রাখে এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। প্রকৃতির সাথে সময় কাটান। বাইরে বের হন, পার্কে হাঁটুন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করুন। প্রকৃতি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
লক্ষ্য নির্ধারণ ও রুটিন তৈরি
মানসিক ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। বড় কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিন এবং এক এক করে সম্পন্ন করুন। প্রতিটি ছোট অর্জন আপনাকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।
একটি দৈনিক রুটিন তৈরি করুন এবং সেটি মেনে চলার চেষ্টা করুন। নিয়মিত রুটিন জীবনে স্থিতিশীলতা এবং নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি দেয়। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং ঘুম থেকে উঠুন। খাবারের সময়, ব্যায়ামের সময় এবং কাজের সময় নির্দিষ্ট করুন।
নিজের সাথে সদয় হন। নিজেকে দোষ দেওয়া বা কঠোর সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, ডিপ্রেশন একটি রোগ, আপনার দুর্বলতা নয়। নিজের যত্ন নেওয়াকে অগ্রাধিকার দিন।
নেশাজাতীয় দ্রব্য এড়িয়ে চলা
অ্যালকোহল, ধূমপান এবং অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য এড়িয়ে চলুন। এগুলো সাময়িকভাবে ভালো মনে হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ডিপ্রেশনকে আরও খারাপ করে। ক্যাফেইন এবং চিনি গ্রহণ কমান, কারণ এগুলো মেজাজের ওঠানামা তৈরি করতে পারে।
ইতিবাচক চিন্তাভাবনা গড়ে তোলা
ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা অনুশীলন করুন। প্রতিদিন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন – আপনার জীবনের ভালো বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করুন এবং সেগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন। একটি কৃতজ্ঞতা ডায়েরি রাখতে পারেন।
নেতিবাচক চিন্তা চিহ্নিত করুন এবং সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করুন। যখন নিজের সম্পর্কে বা পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবনা আসে, তখন নিজেকে প্রশ্ন করুন: এটি কি সত্যিই সত্য? এর বিকল্প ব্যাখ্যা কী হতে পারে?
শারীরিক ব্যথা ব্যবস্থাপনা
ডিপ্রেশন হলে কি কি সমস্যা হয় তার মধ্যে শারীরিক ব্যথা একটি সাধারণ লক্ষণ। যদি আপনি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগছেন, তাহলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পেইন কিউর (Pain Cure) একটি আধুনিক ও বিশ্বস্ত পেইন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার, যেখানে নানা ধরনের শারীরিক ব্যথার জন্য উন্নত ও এডভান্স চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এখানে আমরা ওজোন থেরাপি, ওজোন সওনা, ইলেক্ট্রো আকুপাংচার, আর-টি-এম-এস থেরাপি, ম্যানুয়াল ফিজিওথেরাপি, টেকার থেরাপি, ক্রায়ো থেরাপি, শকওয়েভ থেরাপি এবং পালস ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড থেরাপি (PEMF)। এসব উন্নত ও এডভান্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা ব্যথা নিরাময় ও শারীরিক সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকি।
শারীরিক ব্যথা এবং ডিপ্রেশন প্রায়ই একসাথে থাকে। ব্যথা নিয়ন্ত্রণে আনলে মানসিক অবস্থারও উন্নতি হয়। পেইন কিউরে আমরা ব্যথা কমানোর জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করি। ওজোন থেরাপি প্রদাহ কমাতে এবং নিরাময় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। আর-টি-এম-এস থেরাপি মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, যা ডিপ্রেশন কমাতে সাহায্য করে।

মানসিক ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় (আরও কিছু কৌশল)
এখন আমরা আরও কিছু মানসিক ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা করব যা আপনার পুনরুদ্ধার যাত্রায় সাহায্য করবে।
লেখালেখি এবং জার্নালিং
নিয়মিত জার্নাল লেখা ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে খুবই উপকারী। প্রতিদিন আপনার চিন্তা, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতা লিখুন। এটি আপনার মনের ভার হালকা করতে এবং নিজেকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
আবেগমূলক রিলিজের জন্য লেখা একটি নিরাপদ মাধ্যম। আপনি যা অনুভব করছেন তা কাগজে ঢেলে দিতে পারেন কোনো বিচার বা সমালোচনার ভয় ছাড়াই। সমস্যা সমাধানের জন্যও জার্নালিং সহায়ক।
পেশাদার থেরাপির বিভিন্ন ধরন
ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে বিভিন্ন ধরনের থেরাপি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT) ছাড়াও আরও কিছু থেরাপি রয়েছে যা সাহায্য করতে পারে।
ইন্টারপার্সোনাল থেরাপি (IPT) সম্পর্কের সমস্যা এবং সামাজিক ভূমিকা নিয়ে কাজ করে। ডায়ালেক্টিক্যাল বিহেভিয়ার থেরাপি (DBT) আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং মাইন্ডফুলনেস শেখায়। সাইকোডাইনামিক থেরাপি অতীত অভিজ্ঞতা এবং অচেতন প্যাটার্ন বুঝতে সাহায্য করে।
গ্রুপ থেরাপি অন্যদের সাথে অভিজ্ঞতা শেয়ার করার সুযোগ দেয় এবং আপনাকে বুঝতে সাহায্য করে যে আপনি একা নন। পারিবারিক থেরাপি পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পর্ক উন্নত করতে এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে।
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার
মানসিক ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে, তবে সঠিক উপায়ে। মেন্টাল হেলথ অ্যাপ ব্যবহার করুন যা মেডিটেশন, মুড ট্র্যাকিং এবং থেরাপি সংক্রান্ত রিসোর্স প্রদান করে।
তবে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার সীমিত করুন। অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ডিপ্রেশন বাড়াতে পারে। নেতিবাচক কন্টেন্ট থেকে দূরে থাকুন এবং স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করুন।
অনলাইন সাপোর্ট গ্রুপ এবং থেরাপি সেশন এখন সহজলভ্য। যদি সরাসরি দেখা করা কঠিন হয়, অনলাইন থেরাপি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
ধৈর্য এবং ধারাবাহিকতা
মনে রাখবেন, ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় রাতারাতি কাজ করে না। এটি একটি ধীর প্রক্রিয়া এবং ধৈর্য ধরা অত্যন্ত জরুরি। কিছু দিন ভালো যাবে, কিছু দিন খারাপ – এটাই স্বাভাবিক।
ছোট অগ্রগতি উদযাপন করুন। প্রতিটি পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ, তা যতই ছোট হোক না কেন। যদি কোনো পদ্ধতি কাজ না করে, হতাশ হবেন না – অন্য পদ্ধতি চেষ্টা করুন।
নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যান। ভালো বোধ করলেও হঠাৎ ওষুধ বা থেরাপি বন্ধ করবেন না। সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
জরুরি সাহায্য
যদি আপনার আত্মহত্যার চিন্তা আসে বা নিজের ক্ষতি করার ইচ্ছা হয়, অবিলম্বে সাহায্য নিন। পরিবারের কাউকে বলুন, জরুরি হেল্পলাইনে ফোন করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালে যান। আপনার জীবন মূল্যবান এবং সাহায্য সবসময় পাওয়া যায়।
শেষ কথা (ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায়)
ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় অনেক এবং প্রত্যেকের জন্য ভিন্ন পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ হল, প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া এবং সাহায্য চাওয়া। পেশাদার চিকিৎসা, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, সামাজিক সহায়তা এবং আত্ম-যত্নের সমন্বয়ে ডিপ্রেশন থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব।
মনে রাখবেন, ডিপ্রেশন একটি রোগ, দুর্বলতা নয়। সাহায্য চাওয়া শক্তির লক্ষণ, দুর্বলতার নয়। আশা হারাবেন না, উন্নতি সম্ভব এবং আপনি আবার সুখী, পূর্ণ জীবন যাপন করতে পারবেন। যত তাড়াতাড়ি সাহায্য নেবেন, তত দ্রুত সুস্থ হওয়ার পথে এগিয়ে যাবেন।
উত্তরা অথবা বনানী শাখার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করতে, আপনি প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে রাত ৯:০০ টা পর্যন্ত +৮৮০১৭৭৪৬৭৮৬০৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।
আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর
বিস্তারিত জানুন: Best Physiotherapy Home Service in Dhaka
বিস্তারিত জানুন: Best Female Physiotherapist in Dhaka
বিস্তারিত জানুন: Expert Physiotherapy Center
বিস্তারিত জানুন: স্ট্রোক রোগীর হাতের, পায়ের ও মুখের ব্যায়াম জেনে নিন!!
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ডিপ্রেশনের লক্ষণ কী কী?
দীর্ঘস্থায়ী দুঃখ, হতাশা বা খালি খালি অনুভূতি, যেকোনো কাজে আগ্রহ বা আনন্দ হারিয়ে ফেলা, ঘুমের সমস্যা (অতিরিক্ত ঘুম বা অনিদ্রা), ক্লান্তি বা শক্তিহীনতা, খাওয়ার রুচি কমে বা বেড়ে যাওয়া, মনোযোগ দিতে অসুবিধা, নিজেকে অপরাধী বা মূল্যহীন মনে করা, এবং আত্মহত্যার চিন্তা আসা এগুলো ডিপ্রেশনের প্রধান লক্ষণ। লক্ষণগুলো দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে থাকলে পেশাদার সাহায্য নেওয়া জরুরি।
ডিপ্রেশন কত দিন থাকে?
ডিপ্রেশনের স্থায়িত্ব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়, হালকা ডিপ্রেশন কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস থাকতে পারে, আবার চিকিৎসা ছাড়া এটি ৬ মাস থেকে ২ বছর বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। সঠিক চিকিৎসা (থেরাপি ও ওষুধ) নিলে বেশিরভাগ মানুষ ২-৩ মাসের মধ্যে উন্নতি অনুভব করেন। তবে দীর্ঘমেয়াদী বা ক্রনিক ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হয়।
মানুষ কেন ডিপ্রেশনে যায়?
মানুষ সাধারণত জীবনের চাপ, আঘাতমূলক অভিজ্ঞতা (প্রিয়জনের মৃত্যু, সম্পর্ক ভাঙ্গা, চাকরি হারানো), দীর্ঘমেয়াদী একাকীত্ব, ব্যর্থতার কারণে ডিপ্রেশনে যায়। জিনগত প্রবণতা, মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা এবং শৈশবের নেতিবাচক অভিজ্ঞতাও দায়ী। আর্থিক সংকট, সামাজিক চাপ, শারীরিক অসুস্থতা বা নেতিবাচক চিন্তার অভ্যাস থেকেও ডিপ্রেশন শুরু হতে পারে - মূলত মানসিক, শারীরিক ও পরিবেশগত কারণের সমন্বয়ে এটি ঘটে।
কোন খাবার খেলে টেনশন দূর হয়?
ডার্ক চকলেট, কলা, বাদাম (আখরোট, কাজুবাদাম), দই, সবুজ শাকসবজি, মাছ (বিশেষত স্যামন, টুনা), ওটস এবং সবুজ চা টেনশন কমাতে সাহায্য করে। এসব খাবারে ম্যাগনেসিয়াম, ওমেগা-৩, ট্রিপটোফ্যান ও ভিটামিন বি থাকে যা মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও ডোপামিন বাড়িয়ে মন ভালো করে। তবে মনে রাখবেন, খাবার শুধু সাহায্যকারী। দীর্ঘমেয়াদী টেনশনের জন্য ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজনে পেশাদার পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিষণ্নতা দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায় কী কী?
নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটা (দিনে ৩০ মিনিট), সকালের সূর্যের আলোতে সময় কাটানো, পর্যাপ্ত ঘুম (৭-৮ ঘণ্টা), স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানো বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে। ধ্যান, যোগব্যায়াম, শখের কাজ করা, ডায়েরি লেখা এবং নেতিবাচক চিন্তা এড়িয়ে ছোট ছোট লক্ষ্য অর্জনও উপকারী। তবে মনে রাখবেন, গুরুতর বিষণ্নতার ক্ষেত্রে অবশ্যই মনোবিদ বা ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ঘরোয়া উপায় শুধু হালকা বিষণ্নতায় বা চিকিৎসার পাশাপাশি কার্যকর।
ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কোন দোয়া আছে?
ইসলামে মানসিক কষ্ট ও দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য বিশেষ দোয়া রয়েছে "আল্লাহুম্মা ইন্নি আ'উযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি" (হে আল্লাহ, আমি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই)। নিয়মিত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, সূরা দুহা পাঠ এবং "হাসবিয়াল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল" বারবার পড়া মনে প্রশান্তি আনে। তবে দোয়ার পাশাপাশি সঠিক চিকিৎসা নেওয়াও জরুরি। ইসলাম চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করে, কারণ "আল্লাহ যেখানে রোগ দিয়েছেন সেখানে প্রতিকারও রেখেছেন" (হাদিস)।

Dr. Saiful Islam, PT, is a Consultant Physiotherapist with expertise in Orthopedics. He holds a BPT from Dhaka University, an MPT, and a Postgraduate Certification in Acupuncture from India, with specialized training in Ozone Therapy. (Best physiotherapist in Dhaka)



