আমাদের মুখমণ্ডল আমাদের পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু হঠাৎ করে যখন মুখের একপাশ বেঁকে যায় বা অবশ হয়ে যায়, তখন এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হতে পারে। অনেকেই জানতে চান মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ কি এবং এই সমস্যার সমাধান কীভাবে সম্ভব। এই ব্লগে আমরা আলোচনা করব হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ কি, এর লক্ষণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে।

মুখ বেকে যায় কেন?
মুখ বেঁকে যাওয়া একটি চিকিৎসা সমস্যা যা মূলত মুখের স্নায়ুর ক্ষতি বা প্রদাহের কারণে ঘটে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে “ফেসিয়াল প্যারালাইসিস” বা “বেলস পলসি“ বলা হয়। মুখ বেকে যায় কেন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের বুঝতে হবে যে আমাদের মুখের পেশীগুলো নিয়ন্ত্রণ করে ফেসিয়াল নার্ভ বা সপ্তম করোটিক স্নায়ু। যখন এই স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, তখন মুখের একপাশের পেশীগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মুখ বেঁকে যায়।
মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ এর পেছনে রয়েছে বিভিন্ন শারীরিক এবং স্নায়বিক কারণ। এই সমস্যা যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে, তবে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। অনেক সময় এই সমস্যা হঠাৎ করেই দেখা দেয় এবং রোগী বুঝতে পারে না কী হচ্ছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকে দেখেন যে তাদের মুখের একপাশ ঝুলে গেছে বা স্বাভাবিক নড়াচড়া করছে না।
হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ কি?
হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ কি জানা অত্যন্ত জরুরি কারণ এটি সঠিক চিকিৎসা নিতে সাহায্য করে। মুখ বেঁকে যাওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে:
১. বেলস পলসি (Bell’s Palsy)
বেলস পলসি হলো মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ একটি। এটি একটি অস্থায়ী অবস্থা যেখানে মুখের স্নায়ুতে প্রদাহ হয় এবং এর ফলে মুখের একপাশ হঠাৎ অবশ বা দুর্বল হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর সঠিক কারণ জানা যায় না, তবে ভাইরাল সংক্রমণ (বিশেষত হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস) এর সাথে এর সম্পর্ক আছে বলে মনে করা হয়।
বেলস পলসিতে আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ করেই লক্ষ্য করেন যে তার মুখের একপাশ দুর্বল হয়ে গেছে। হাসতে গেলে মুখ একদিকে বেঁকে যায়, চোখ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যায় না, এবং মুখ দিয়ে লালা পড়তে পারে। এই অবস্থা সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
২. স্ট্রোক (Stroke)
স্ট্রোক হলো মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ কি এর একটি গুরুতর কারণ। যখন মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তখন স্ট্রোক হয়। এটি মুখ বেঁকে যাওয়ার পাশাপাশি শরীরের একপাশ দুর্বল হওয়া, কথা বলতে অসুবিধা, হাঁটতে সমস্যা, এবং মাথা ঘোরা সৃষ্টি করতে পারে। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এবং দেরি করা মারাত্মক হতে পারে।
বেলস পলসি এবং স্ট্রোকের মধ্যে পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত জরুরি। স্ট্রোকে সাধারণত কপালের পেশীগুলো স্বাভাবিক থাকে, অর্থাৎ রোগী ভ্রু উঁচু করতে পারে। কিন্তু বেলস পলসিতে পুরো মুখের একপাশই প্রভাবিত হয় এবং কপালের পেশীও দুর্বল হয়ে যায়।
৩. ভাইরাল সংক্রমণ
বিভিন্ন ভাইরাল সংক্রমণ মুখ বেঁকে যাওয়ার কারন কি এর উত্তর হতে পারে। হার্পিস জোস্টার ভাইরাস (যা শিংলস সৃষ্টি করে), এপস্টাইন-বার ভাইরাস, সাইটোমেগালোভাইরাস এবং এমনকি সাধারণ ফ্লু ভাইরাসও মুখের স্নায়ুতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। র্যামসে হান্ট সিনড্রোম হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে হার্পিস জোস্টার ভাইরাস মুখের স্নায়ুকে আক্রমণ করে এবং মুখ বেঁকে যাওয়ার পাশাপাশি কানে ব্যথা এবং র্যাশ দেখা দেয়।
৪. ট্রমা বা আঘাত
মুখে, মাথায় বা কানে সরাসরি আঘাত মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ হতে পারে। দুর্ঘটনা, পড়ে যাওয়া, বা শারীরিক আক্রমণে মুখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কানের অপারেশন বা মুখমণ্ডলের সার্জারির সময়ও কখনো কখনো স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৫. টিউমার বা ক্যান্সার
মস্তিষ্ক, কান, বা প্যারোটিড গ্রন্থিতে টিউমার থাকলে তা মুখের স্নায়ুতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ হতে পারে। যদিও এটি তুলনামূলকভাবে বিরল, তবুও দীর্ঘস্থায়ী মুখ বেঁকে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা যাচাই করা উচিত।
৬. কানের সংক্রমণ
মধ্যকর্ণ বা অভ্যন্তরীণ কানের গুরুতর সংক্রমণ মুখের স্নায়ুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ কি এর একটি ব্যাখ্যা হতে পারে। ক্রনিক ওটাইটিস মিডিয়া বা মাস্টয়েডাইটিস এর সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।
৭. লাইম ডিজিজ
টিক পোকার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ানো ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ লাইম ডিজিজ সৃষ্টি করে যা মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ হতে পারে। এই রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা না করলে বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
৮. অটোইমিউন রোগ
গুইলেন-বারে সিনড্রোম, সারকোইডোসিস এবং অন্যান্য অটোইমিউন রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজের স্নায়ুকে আক্রমণ করে। এগুলো মুখ বেকে যায় কেন এর কম সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
৯. ডায়াবেটিস
দীর্ঘমেয়াদী ডায়াবেটিস স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে এবং মুখের স্নায়ুও এর ব্যতিক্রম নয়। ডায়াবেটিস রোগীদের বেলস পলসি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
১০. গর্ভাবস্থা
গর্ভাবস্থায়, বিশেষত তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এবং প্রসবের পরপরই, বেলস পলসি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। হরমোনাল পরিবর্তন এবং তরল জমা হওয়ার কারণে এমন হতে পারে।
মুখ বেঁকে যাওয়ার লক্ষণসমূহ
মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ জানার পাশাপাশি এর লক্ষণগুলো চেনা গুরুত্বপূর্ণ:
- হঠাৎ করে মুখের একপাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা ঝুলে যাওয়া
- হাসতে গেলে মুখ একদিকে বেঁকে যাওয়া
- এক চোখ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে না পারা
- কপালে ভাঁজ ফেলতে অসুবিধা
- মুখের একপাশ দিয়ে লালা ঝরা
- খাবার খেতে অসুবিধা, বিশেষত মুখের প্রভাবিত পাশে খাবার আটকে যাওয়া
- কথা বলতে অসুবিধা, শব্দ অস্পষ্ট হওয়া
- স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা কমে যাওয়া
- কানের পেছনে বা চোয়ালে ব্যথা
- শব্দের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা (হাইপারঅ্যাকিউসিস)
- প্রভাবিত পাশের চোখে অতিরিক্ত পানি আসা বা শুষ্কতা
মুখ বেঁকে যাওয়ার রোগ নির্ণয়
মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ কি তা নির্ধারণ করতে ডাক্তার নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলো করতে পারেন:
১. শারীরিক পরীক্ষা: ডাক্তার মুখের পেশীগুলোর শক্তি এবং কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন। আপনাকে হাসতে, ভ্রু উঁচু করতে, চোখ বন্ধ করতে, এবং দাঁত দেখাতে বলা হতে পারে।
২. ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি (EMG): এই পরীক্ষায় পেশী এবং স্নায়ুর বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ মাপা হয় যাতে স্নায়ুর ক্ষতির মাত্রা বোঝা যায়।
৩. এমআরআই বা সিটি স্ক্যান: মস্তিষ্কের ছবি নেওয়া হয় স্ট্রোক, টিউমার, বা অন্যান্য কাঠামোগত সমস্যা শনাক্ত করতে।
৪. রক্ত পরীক্ষা: ডায়াবেটিস, সংক্রমণ, বা অটোইমিউন রোগ পরীক্ষা করা হয়।
৫. স্নায়ু পরীক্ষা: মুখের স্নায়ুর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়।
মুখ বেঁকে যাওয়ার চিকিৎসা পদ্ধতি
মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ কি এর উপর নির্ভর করে চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে:
ঔষধ চিকিৎসা
১. স্টেরয়েড: প্রেডনিসোলোন বা অন্যান্য কর্টিকোস্টেরয়েড প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। বেলস পলসির ক্ষেত্রে লক্ষণ শুরু হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শুরু করলে সবচেয়ে কার্যকর।
২. অ্যান্টিভাইরাল ঔষধ: যদি ভাইরাল সংক্রমণ সন্দেহ করা হয়, তাহলে অ্যাসাইক্লোভির বা ভ্যালাসাইক্লোভির দেওয়া হতে পারে।
৩. ব্যথার ঔষধ: প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন ব্যথা এবং অস্বস্তি কমাতে ব্যবহার করা যায়।
৪. কৃত্রিম অশ্রু এবং চোখের মলম: চোখ পুরোপুরি বন্ধ না হলে শুষ্কতা প্রতিরোধে ব্যবহার করা হয়।
ফিজিওথেরাপি
মুখের ম্যাসাজ এবং ব্যায়াম পেশীর শক্তি ফিরিয়ে আনতে এবং মুখের স্বাভাবিক গতিবিধি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। একজন ফিজিওথেরাপিস্ট বিশেষ ব্যায়াম শেখাতে পারেন যা নিয়মিত করা উচিত।
সার্জারি
খুব বিরল ক্ষেত্রে, যদি স্নায়ু সম্পূর্ণভাবে ছিঁড়ে যায় বা টিউমারের কারণে চাপ পড়ে, তাহলে সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে। ফেসিয়াল নার্ভ ডিকম্প্রেশন বা নার্ভ গ্রাফটিং করা হতে পারে।
চোখের যত্ন
যেহেতু চোখ পুরোপুরি বন্ধ করা যায় না, তাই চোখের বিশেষ যত্ন নিতে হবে:
- দিনের বেলা নিয়মিত কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহার করুন
- রাতে ঘুমানোর সময় চোখে মলম লাগান এবং চোখ টেপ করে বন্ধ করুন বা আই প্যাচ ব্যবহার করুন
- সানগ্লাস পরুন যাতে ধুলো এবং বাতাস থেকে চোখ রক্ষা পায়
মুখ বেঁকে যাওয়ার পুনরুদ্ধার এবং পূর্বাভাস
মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ এবং চিকিৎসার উপর নির্ভর করে পুনরুদ্ধারের সময় ভিন্ন হয়:
- বেলস পলসির ক্ষেত্রে, প্রায় ৭০-৮০% রোগী ৩-৬ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান
- ১০-১৫% রোগীর কিছু স্থায়ী দুর্বলতা থাকতে পারে
- যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করা হয়, পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তত বেশি
- সম্পূর্ণ প্যারালাইসিসের চেয়ে আংশিক দুর্বলতার পূর্বাভাস ভালো
- ছোট বাচ্চাদের এবং তরুণদের পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বেশি
মুখ বেঁকে যাওয়ার ঘরোয়া যত্ন এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন
মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ যাই হোক না কেন, নিম্নলিখিত ঘরোয়া যত্ন পদ্ধতিগুলো সাহায্য করতে পারে:
১. উষ্ণ সেঁক: মুখে উষ্ণ কাপড়ের সেঁক দিলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং ব্যথা কমে।
২. মুখের ম্যাসাজ: আলতো করে মুখের পেশীগুলো ম্যাসাজ করুন। কোমল বৃত্তাকার গতিতে মাসাজ করা উচিত।
৩. মুখের ব্যায়াম: নিয়মিত মুখের ব্যায়াম করুন যেমন হাসার চেষ্টা করা, ঠোঁট গোল করা, গাল ফোলানো ইত্যাদি।
৪. পুষ্টিকর খাবার: ভিটামিন B12, B6, এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার খান যা স্নায়ুর স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
৫. পর্যাপ্ত বিশ্রাম: শরীরকে নিরাময়ের সময় দিতে পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম নিন।
৬. মানসিক চাপ কমানো: যোগব্যায়াম, ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
মুখ বেঁকে যাওয়ার প্রতিরোধের উপায়
সব ক্ষেত্রে মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে কিছু পদক্ষেপ ঝুঁকি কমাতে পারে:
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখুন
- স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন এবং ধূমপান ত্যাগ করুন
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
- ভাইরাল সংক্রমণ থেকে সাবধান থাকুন
- শীতকালে মুখ এবং কান ঠান্ডা বাতাস থেকে রক্ষা করুন
- মাথায় আঘাত থেকে সাবধান থাকুন
মুখ বেঁকে যাওয়ার জন্যে কখন ডাক্তার দেখাবেন?
হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ কি নির্ণয়ের জন্য দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে যান:
- হঠাৎ করে মুখের একপাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া
- একসাথে শরীরের একপাশ দুর্বল হওয়া
- কথা বলতে অসুবিধা বা কথা জড়িয়ে যাওয়া
- দৃষ্টিশক্তি হঠাৎ কমে যাওয়া
- হাঁটতে সমস্যা বা ভারসাম্যহীনতা
- গুরুতর মাথাব্যথা
- মাথা ঘোরা বা অচেতন হয়ে যাওয়া
এই লক্ষণগুলো স্ট্রোকের ইঙ্গিত হতে পারে যা জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
মুখ বেঁকে যাওয়ার জটিলতা
যথাযথ চিকিৎসা না নিলে মুখ বেকে যায় কেন এর দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা দেখা দিতে পারে:
১. স্থায়ী দুর্বলতা: কিছু ক্ষেত্রে মুখের পেশীর সম্পূর্ণ শক্তি ফিরে না-ও আসতে পারে।
২. সিনকাইনেসিস: স্নায়ু পুনর্গঠনের সময় ভুলভাবে সংযোগ হলে অনিচ্ছাকৃত পেশী সংকোচন হতে পারে, যেমন হাসার সময় চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়া।
৩. ক্রনিক চোখের সমস্যা: চোখ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না হলে শুষ্কতা, সংক্রমণ, এমনকি কর্নিয়ার ক্ষতি হতে পারে।
৪. স্বাদ গ্রহণের সমস্যা: কিছু রোগীর স্থায়ীভাবে স্বাদের অনুভূতি কমে যায়।
৫. মানসিক সমস্যা: মুখের বিকৃতি আত্মবিশ্বাস কমাতে পারে এবং বিষণ্নতা বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করতে পারে।
উপসংহার (মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ)
মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ কি এবং হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ কি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি সঠিক এবং দ্রুত চিকিৎসা নিতে সাহায্য করে। মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ অনেক হতে পারে, সাধারণ বেলস পলসি থেকে শুরু করে জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ স্ট্রোক পর্যন্ত। তাই এই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, বিশেষত বেলস পলসির ক্ষেত্রে, সঠিক চিকিৎসা এবং যত্নের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব। তবে চিকিৎসা যত তাড়াতাড়ি শুরু করা যায়, পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তত বেশি। মুখ বেকে যায় কেন তা বোঝার পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখা এই সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
মনে রাখবেন, মুখ বেঁকে যাওয়া শুধু একটি প্রসাধনী সমস্যা নয়, এটি একটি চিকিৎসা জরুরি অবস্থা হতে পারে। তাই কখনো এই লক্ষণকে উপেক্ষা করবেন না এবং অবশ্যই যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
আশা করি এই ব্লগ আপনাকে মুখ বেঁকে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে পেরেছে এবং এই সমস্যা মোকাবেলায় সাহায্য করবে। সুস্থ থাকুন এবং যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

বাংলাদেশের সেরা ফিজিওথেরাপি সেন্টার হিসেবে পেইন কিউর একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। উত্তরা কিংবা বনানী শাখায় চিকিৎসা সেবা নিতে চাইলে প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে রাত ৯:০০ টা পর্যন্ত +৮৮০১৭৭৪৬৭৮৬০৪ নম্বরে যোগাযোগ করে সহজেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে পারবেন।
আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর
বিস্তারিত জানুন: বেলস পালসি কেন হয়, বেলস পালসি ব্যায়াম ও বেলস পালসি থেরাপি
বিস্তারিত জানুন: Best Physiotherapy Home Service in Dhaka
বিস্তারিত জানুন: বেলস পালসি হলে করণীয় এবং বেলস পালসি কি ভালো হয়?
সাধারণ জিজ্ঞাসা
কোন রোগে মুখ কাঁপছে?
মুখ কাঁপার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পার্কিনসন্স রোগ, যেখানে মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের ঘাটতির কারণে কম্পন হয়।এছাড়া অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, স্ট্রেস, ক্যাফেইনের আধিক্য, থাইরয়েডের সমস্যা, বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও মুখ কাঁপতে পারে। কখনও কখনও এসেনশিয়াল ট্রেমর নামক একটি স্নায়বিক সমস্যাও এর কারণ হতে পারে। সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কথা বলার সময় মুখ বেঁকে যায় কেন?
কথা বলার সময় মুখ বেঁকে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো মুখের স্নায়ু বা পেশীর সমস্যা। বেল'স পালসি বা ফেসিয়াল নার্ভ প্যারালাইসিসে মুখের একপাশের পেশী দুর্বল হয়ে যায়, ফলে কথা বলার সময় মুখ বাঁকা দেখায়। স্ট্রোক বা ব্রেইন অ্যাটাকও মুখ বেঁকে যাওয়ার একটি গুরুতর কারণ হতে পারে। এছাড়া মস্তিষ্কের টিউমার, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, বা লাইম ডিজিজের মতো রোগেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। হঠাৎ মুখ বেঁকে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
ফেসিয়াল নার্ভ পালসি কি নিরাময়?
হ্যাঁ, ফেসিয়াল নার্ভ পালসি বা বেল'স পালসি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিরাময়যোগ্য। প্রায় ৭০-৮০% রোগী কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ৩-৬ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান। তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করলে (বিশেষত স্টেরয়েড এবং ফিজিওথেরাপি) সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি বাড়ে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সুস্থ না হয়ে কিছু দুর্বলতা থেকে যেতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত ফেসিয়াল এক্সারসাইজ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

Dr. Saiful Islam, PT, is a Consultant Physiotherapist with expertise in Orthopedics. He holds a BPT from Dhaka University, an MPT, and a Postgraduate Certification in Acupuncture from India, with specialized training in Ozone Therapy. (Best physiotherapist in Dhaka)



