সায়াটিকা কোনো সাধারণ কোমর ব্যথা নয়, এটি এমন এক ধরনের অস্বস্তিকর যন্ত্রণা যা কোমরের নিচ থেকে শুরু হয়ে পায়ের পাতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। দৈনন্দিন জীবনে হাঁটাচলা বা বসার ক্ষেত্রে এটি এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আজকের ব্লগে আমরা বিস্তারিত জানবো সায়াটিকা কেন হয় এবং এই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার আধুনিক ও কার্যকরী সায়াটিকা সারানোর উপায় সম্পর্কে।
সায়াটিকা কি?
সায়াটিকা কি তা সহজভাবে বলতে গেলে, সায়াটিকা (Sciatica) হলো একটি স্নায়বিক অবস্থা যেখানে শরীরের সবচেয়ে দীর্ঘ ও মোটা স্নায়ু। সায়াটিক নার্ভ (Sciatic Nerve) চাপগ্রস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ব্যথা অনুভূত হয়। এই ব্যথা সাধারণত কোমরের নিচের দিক থেকে নিতম্ব, উরু, হাঁটু এবং পায়ের নিচ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
সায়াটিক নার্ভ মেরুদণ্ডের কোমর অঞ্চল (L4-S3) থেকে শুরু হয়ে পায়ের আঙুল পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি শরীরের সবচেয়ে দীর্ঘ স্নায়ু। এই স্নায়ুতে চাপ পড়লে বা প্রদাহ হলে কোমর ব্যথা থেকে শুরু করে পায়ে ঝিনঝিন, জ্বালা, অসাড়তা এবং দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে সায়াটিকার ব্যথায় ভোগেন। সায়াটিকা কি ধরনের রোগ এবং কতটা গুরুতর হতে পারে তা বোঝার জন্য এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। সঠিক চিকিৎসা এবং ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে সায়াটিকা সম্পূর্ণ সারানো সম্ভব।
সায়াটিকা কেন হয়?
সায়াটিকার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের ডিস্ক হার্নিয়েশনই মূল কারণ। নিচে সায়াটিকা হওয়ার প্রধান কারণগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
১. স্লিপড ডিস্ক বা হার্নিয়েটেড ডিস্ক
সায়াটিকা কেন হয় তার প্রধান কারণ হলো স্লিপড ডিস্ক। মেরুদণ্ডের দুটি কশেরুকার মাঝে থাকা নরম তরুণাস্থি (ডিস্ক) স্থানচ্যুত হলে তাকে স্লিপড ডিস্ক বা হার্নিয়েটেড ডিস্ক বলা হয়। এই ডিস্ক সায়াটিক নার্ভের উপর চাপ দিলে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। ডিস্কের ভেতরে থাকা নরম জেলি সদৃশ পদার্থ ‘নিউক্লিয়াস পলপোসাস’ বেরিয়ে আসলেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।
২. স্পাইনাল স্টেনোসিস (Spinal Stenosis)
সায়াটিকা কেন হয় তার আরেকটি কারণ হলো স্পাইনাল স্টেনোসিস। মেরুদণ্ডের ভেতরের নালী সংকুচিত হলে স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি প্রবীণদের মধ্যে সায়াটিকার একটি সাধারণ কারণ।
৩. পিরিফর্মিস সিন্ড্রোম (Piriformis Syndrome)
সায়াটিকা কেন হয় এর তৃতীয় কারণ হলো পিরিফর্মিস সিন্ড্রোম। নিতম্বের গভীরে অবস্থিত পিরিফর্মিস পেশী যখন স্পাজম বা টান পড়ে, তখন সায়াটিক নার্ভের উপর চাপ দিতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের পর এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।
৪. গর্ভাবস্থায় সায়াটিকা
সায়াটিকা কেন হয় গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে? গর্ভাবস্থায় শিশুর ওজন ও পেলভিসের পরিবর্তনের কারণে সায়াটিক নার্ভে চাপ পড়তে পারে। এটি গর্ভবতী নারীদের মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা। সঠিক ব্যায়াম ও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে এই ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
৫. অন্যান্য কারণ
- স্পাইনাল টিউমার — মেরুদণ্ডের কাছে বা ভেতরে টিউমার বৃদ্ধি পেলে নার্ভ চাপে পড়ে।
- কাউডা ইকুইনা সিন্ড্রোম — একটি বিরল কিন্তু গুরুতর অবস্থা যা মূত্রাশয় নিয়ন্ত্রণ নষ্ট করতে পারে।
- ডায়াবেটিস — রক্তে শর্করার আধিক্য নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সায়াটিকার ঝুঁকি বাড়ায়।
- স্পন্ডাইলোলিস্থেসিস — একটি কশেরুকা অন্যটির উপর সরে গেলে।
সায়াটিকা রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ
সায়াটিকা রোগের লক্ষণ সাধারণত শরীরের একপাশে বেশি অনুভূত হয়। ব্যথার তীব্রতা হালকা থেকে অসহনীয় পর্যন্ত হতে পারে। সায়াটিকা রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। নিচে সায়াটিকার সাধারণ ও বিশেষ লক্ষণগুলো তুলে ধরা হলো:
সায়াটিকার সাধারণ লক্ষণ
- সায়াটিকা রোগের লক্ষণ হিসেবে কোমরের নিচে তীব্র ব্যথা যা নিতম্ব থেকে পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- পায়ের পেছনে বা বাইরের দিকে জ্বালাপোড়া বা ঝিনঝিন অনুভূতি।
- পায়ে অসাড়তা বা দুর্বলতা অনুভব করা।
- হাঁটু থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত বৈদ্যুতিক শকের মতো অনুভূতি।
- দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে বা উঠতে গেলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া।
- হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় ব্যথা তীব্র হওয়া, এটিও সায়াটিকা রোগের লক্ষণ।
জরুরি লক্ষণ (অবিলম্বে চিকিৎসা নিন)
- সায়াটিকা রোগের লক্ষণ যা জরুরি চিকিৎসার ইঙ্গিত দেয়। মূত্রাশয় বা পায়ুপথের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা।
- উভয় পায়ে একসাথে অসাড়তা বা দুর্বল।
- অস্বাভাবিক দ্রুত ব্যথা বৃদ্ধি।
সায়াটিকা রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি
সঠিক রোগ নির্ণয় সায়াটিকার কার্যকর চিকিৎসার প্রথম ধাপ। সায়াটিকা রোগের লক্ষণ সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট বা চিকিৎসক প্রয়োজন। একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট বা চিকিৎসক নিচের পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে সায়াটিকা নির্ণয় করেন:
শারীরিক পরীক্ষা (Physical Examination)
- স্ট্রেইট লেগ রেইজ টেস্ট (Straight Leg Raise / Lasègue’s Test) — সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।
- পেশীর শক্তি, প্রতিফলন ও সংবেদনশীলতা পরীক্ষা।
- হাঁটার ধরন ও ভঙ্গি মূল্যায়ন।
প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা
- এক্স-রে (X-Ray): হাড়ের অতিরিক্ত বৃদ্ধি বা ফ্র্যাকচার শনাক্ত করতে।
- এমআরআই (MRI): হার্নিয়েটেড ডিস্ক, নরম টিস্যু ও স্নায়ুর বিস্তারিত চিত্র পেতে সবচেয়ে কার্যকর।
- সিটি স্ক্যান (CT Scan / CT Myelogram): মেরুদণ্ডের সূক্ষ্ম গঠন দেখতে।
- ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি (EMG): স্নায়ুর ক্ষতির মাত্রা নির্ণয়ে।
সায়াটিকা সারানোর উপায় ও ঘরোয়া চিকিৎসা
হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার সায়াটিকা ঘরোয়া চিকিৎসার মাধ্যমে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যেতে পারে। সায়াটিকা রোগের চিকিৎসা শুরু করার আগে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করুন: নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করুন:
যা করবেন
- গরম ও ঠান্ডা সেঁক: প্রথম ৪৮-৭২ ঘণ্টা আইস প্যাক (১৫-২০ মিনিট) ব্যবহার করুন, তারপর গরম প্যাড ব্যবহার করুন — প্রদাহ ও ব্যথা কমাতে উভয়ই কার্যকর
- গরম পানিতে গোসল: স্নায়বিক ক্লান্তি কমাতে এবং পেশী শিথিল করতে সাহায্য করে
- স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যান: সম্পূর্ণ বিশ্রাম না নিয়ে হালকা চলাচল করুন
- ঘুমানোর সময় পাশে কাত হয়ে হাঁটুর মাঝে বালিশ রাখুন, বা চিৎ হয়ে হাঁটুর নিচে বালিশ দিন
- নিয়মিত হালকা হাঁটাহাঁটি করুন — পেশী সক্রিয় রাখে এবং সুস্থ হতে সাহায্য করে
যা করবেন না
- দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকবেন না বা শুয়ে থাকবেন না
- ভারী জিনিস তোলার সময় কোমর বাঁকাবেন না, হাঁটু ভেঙে তুলুন
- খুব গরম বোতল সরাসরি ত্বকে দেবেন না — ত্বক পুড়ে যেতে পারে বা অসাড় হয়ে যেতে পারে
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন সেবন করবেন না
সায়াটিকার ব্যায়াম
সায়াটিকার ব্যায়াম সায়াটিক নার্ভের উপর চাপ কমায়, মেরুদণ্ডের পেশী শক্তিশালী করে এবং পুনরায় ব্যথা ফিরে আসার ঝুঁকি হ্রাস করে। তবে যেকোনো ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।
১. হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেচ (Hamstring Stretch)
সায়াটিকার ব্যায়াম হিসেবে হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেচ বেশ কার্যকর। শুয়ে একটি পা সোজা উপরে তুলুন এবং ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এটি হ্যামস্ট্রিং পেশীর টান কমায় এবং সায়াটিক নার্ভের উপর চাপ হ্রাস করে। প্রতিদিন ৩ বার করুন।
২. পিরিফর্মিস স্ট্রেচ (Piriformis Stretch)
সায়াটিকার ব্যায়াম হিসেবে পিরিফর্মিস স্ট্রেচও অত্যন্ত উপকারী। চিৎ হয়ে শুয়ে একটি পা ভাঁজ করুন এবং অন্য পায়ের হাঁটুর উপর রাখুন। আলতো করে বুকের দিকে টানুন। ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এটি পিরিফর্মিস পেশীর টান কমিয়ে নার্ভের চাপ হ্রাস করে।
৩. পেলভিক টিল্ট (Pelvic Tilt)
সায়াটিকার ব্যায়াম হিসেবে পেলভিক টিল্ট খুবই কার্যকর। চিৎ হয়ে হাঁটু ভাঁজ করে শুয়ে পড়ুন। পেটের পেশী শক্ত করে কোমর মাটির সাথে চাপ দিন এবং ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন। মেরুদণ্ডের স্থিতিশীলতা বাড়ায় এবং কোমর ব্যথা কমায়।
৪. নী-টু-চেস্ট স্ট্রেচ (Knee-to-Chest Stretch)
সায়াটিকার ব্যায়াম হিসেবে নী-টু-চেস্ট স্ট্রেচ উপকারী। চিৎ হয়ে শুয়ে একটি হাঁটু বুকের দিকে টানুন এবং ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। প্রতিটি পায়ে ৩ বার করুন। এটি কোমরের নিচের অংশের পেশী শিথিল করে।
৫. বার্ড-ডগ এক্সারসাইজ (Bird-Dog Exercise)
সায়াটিকার ব্যায়াম হিসেবে বার্ড-ডগ এক্সারসাইজও অত্যন্ত কার্যকর। হাঁটু গেড়ে বসুন (চারপায়া ভঙ্গি)। একই সাথে ডান হাত ও বাম পা সোজা করে তুলুন এবং ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এই ব্যায়াম মেরুদণ্ড ও কোরের পেশী শক্তিশালী করে সায়াটিকার পুনরাবৃত্তি রোধ করে।
সায়াটিকা রোগের চিকিৎসা কি?
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা (সর্বোত্তম পদ্ধতি)
সায়াটিকা রোগের চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি সবচেয়ে কার্যকর ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত পদ্ধতি। বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট সায়াটিকা রোগের লক্ষণ বিশ্লেষণ করে রোগীর অবস্থার উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন। ফিজিওথেরাপিতে যা অন্তর্ভুক্ত থাকে:
- ম্যানুয়াল থেরাপি: হাতের সাহায্যে মেরুদণ্ড ও পেশীর গতিশীলতা উন্নত করা
- TENS থেরাপি: সায়াটিকা সারানোর উপায় হিসেবে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনার মাধ্যমে ব্যথানাশক
- আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি: গভীর টিস্যুর প্রদাহ কমাতে
- শকওয়েভ থেরাপি: দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা নিরাময়ে উন্নত প্রযুক্তি
- থেরাপিউটিক ব্যায়াম: শক্তি, নমনীয়তা ও ভারসাম্য উন্নয়নে
স্টেরয়েড ইনজেকশন
সায়াটিকা রোগের চিকিৎসায় কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন প্রদাহ কমিয়ে সাময়িক ব্যথার উপশম দেয়। এটি বছরে সর্বোচ্চ তিনটি পর্যন্ত দেওয়া যায়। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়, ফিজিওথেরাপির পাশাপাশি ব্যবহার করলে সর্বোত্তম ফলাফল পাওয়া যায়।
সার্জারি (শেষ বিকল্প)
সায়াটিকা রোগের চিকিৎসায় সার্জারি শুধুমাত্র তখনই বিবেচনা করা হয় যখন: ৬-১২ সপ্তাহের রক্ষণশীল চিকিৎসায় উন্নতি না হলে, মূত্রাশয় বা পায়ুপথের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেলে, এবং পায়ে মারাত্মক দুর্বলতা দেখা দিলে। মাইক্রোডিসেক্টমি বা ল্যামিনেক্টমি সার্জারির মাধ্যমে হার্নিয়েটেড ডিস্কের অংশ বা হাড়ের অতিরিক্ত অংশ অপসারণ করা হয়।
সায়াটিকার জন্য কখন ডাক্তার দেখাবেন?
সায়াটিকা রোগের চিকিৎসায় বিলম্ব না করে নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট বা চিকিৎসকের কাছে যান:
- ঘরোয়া চিকিৎসায় ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে ব্যথার কোনো উন্নতি না হলে
- ব্যথা এত তীব্র হলে যে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে
- পায়ে ক্রমাগত অসাড়তা বা দুর্বলতা বাড়তে থাকলে
- মূত্রাশয় বা পায়ুপথের নিয়ন্ত্রণ হারালে (এটি জরুরি অবস্থা — অবিলম্বে যোগাযোগ করুন)
- ক্যান্সার, এইচআইভি বা দীর্ঘমেয়াদী স্টেরয়েড ব্যবহারের ইতিহাস থাকলে
সায়াটিকা প্রতিরোধের উপায়
সায়াটিকা সারানোর উপায় হিসেবে প্রতিরোধও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে সায়াটিকার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব:
- সঠিক দেহভঙ্গি (Posture) বজায় রাখুন — বসা, দাঁড়ানো ও ঘুমানোর সময়।
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন — বিশেষত কোর (core) পেশী শক্তিশালী করার ব্যায়াম।
- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন — অতিরিক্ত ওজন মেরুদণ্ডে চাপ বাড়ায়।
- ভারী জিনিস তোলার সময় সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
- দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে কাজ করলে মাঝে মাঝে উঠে হাঁটুন।
- ধূমপান বর্জন করুন — ধূমপান ডিস্কের পুষ্টি সরবরাহ কমিয়ে ক্ষয় ত্বরান্বিত করে।
ডাক্তারের সিরিয়াল নিতে ফোন করুন: +8801774-678604 (সকাল ৯টা – রাত ৯টা)। উত্তরা ও বনানী শাখায় সেবা দেওয়া হয়।
আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ পেইন কিউর
বিস্তারিত জানুন: কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথার কারণ কি?
বিস্তারিত জানুন: কোমর থেকে পায়ের যন্ত্রণা কেন হয়? (সম্পূর্ণ গাইড)
সাধারণ জিজ্ঞাসা
সায়াটিকা কি সম্পূর্ণ ভালো হয়?
হ্যাঁ। সায়াটিকা কি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য? অবশ্যই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঠিক ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়ামের মাধ্যমে সায়াটিকা ৪ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। তবে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা প্রয়োজন।
ফিজিওথেরাপিতে কি সায়াটিকা ভালো হয়?
হ্যাঁ, অবশ্যই। সায়াটিকা কেন হয় তার মূল কারণ চিহ্নিত করে ফিজিওথেরাপি সবচেয়ে কার্যকর এবং অস্ত্রোপচারমুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি। এটি ব্যথা কমায়, সচলতা বাড়ায়, পেশী শক্তিশালী করে এবং পুনরায় সায়াটিকা হওয়ার ঝুঁকি কমায়। সায়াটিকার ব্যায়াম ফিজিওথেরাপির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সায়াটিকা অপারেশন খরচ কত?
সায়াটিকা রোগের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচারের খরচ অস্ত্রোপচারের ধরন, হাসপাতাল ও জটিলতার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে সাধারণত ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপারেশন না করেই ফিজিওথেরাপিতে সায়াটিকা ভালো হয়।
সায়াটিকা কত দিনে ভালো হয়?
সায়াটিকা রোগের চিকিৎসা সঠিকভাবে নেওয়া হলে হালকা থেকে মাঝারি সায়াটিকা সাধারণত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। সায়াটিকা সারানোর উপায় হিসেবে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি ও সঠিক জীবনযাপনে সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
সায়াটিকা হলে কি খাওয়া উচিত?
সায়াটিকা সারানোর উপায় হিসেবে সঠিক খাদ্যাভ্যাসও সহায়ক। সায়াটিকায় প্রদাহ কমাতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি খাবার যেমন হলুদ, আদা, সবুজ শাকসবজি এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ (স্যামন, সার্ডিন) খাওয়া উপকারী। ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন বাদাম, কলা ও ডার্ক চকলেট স্নায়ু ও পেশির জন্য ভালো। ভিটামিন বি১২ যুক্ত খাবার (ডিম, দুধ, মাংস) স্নায়ু সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করা এবং প্রক্রিয়াজাত, তেল-মশলাযুক্ত ও চিনিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
সায়াটিকা কি দুই পায়ে হয়?
সায়াটিকা কি শুধু এক পায়েই হয়? সায়াটিকা সাধারণত এক পায়েই হয়, কারণ সায়াটিক স্নায়ু সাধারণত শরীরের একপাশে চাপ বা জ্বালা অনুভব করে। তবে বিরল ক্ষেত্রে দুই পায়েও সায়াটিকা হতে পারে, যাকে বলা হয় "বাইল্যাটেরাল সায়াটিকা"। এটি সাধারণত মেরুদণ্ডের মাঝখানে বড় ধরনের ডিস্ক সমস্যা বা "ক্যাউডা ইকুইনা সিনড্রোম" এর কারণে হয়, যা একটি গুরুতর অবস্থা। দুই পায়ে একসাথে ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সায়াটিকার ব্যথা বাড়ায় কোন খাবার?
সায়াটিকার ব্যথা বাড়াতে পারে এমন খাবারের মধ্যে প্রধান হলো প্রক্রিয়াজাত ও ভাজাপোড়া খাবার, যা শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি করে। অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার, সফট ড্রিংকস এবং ময়দার তৈরি খাবার (সাদা রুটি, কেক, বিস্কুট) প্রদাহ আরও বাড়িয়ে দেয়। লাল মাংস অতিরিক্ত খেলে এবং অ্যালকোহল পান করলে স্নায়ুর প্রদাহ তীব্র হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত লবণ ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার (ফাস্টফুড, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস) এড়িয়ে চলা উচিত।

Dr. Saiful Islam, PT, is a Consultant Physiotherapist with expertise in Orthopedics. He holds a BPT from Dhaka University, an MPT, and a Postgraduate Certification in Acupuncture from India, with specialized training in Ozone Therapy. (Best physiotherapist in Dhaka)







